০৮:৪১ পি.এম
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাছ ধরার জাল ফেলায় ফলে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। জাহাজের প্রপেলারে বারবার জাল পেঁচিয়ে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার মতো দুর্ঘটনাও ঘটছে। এই ছাড়া ফিশিং বোট থেকে জাহাজের নাবিকদের ওপর হামলার অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। এসব ঘটনায় নাবিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বারবার অভিযোগ জানালেও, সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন বহির্নোঙরে পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংগঠনটি গত ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি দিয়েছে। সভাপতি মো. মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফসার হোসেন চৌধুরীর সই করা চিঠিতে তারা আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে যদি জেলেদের পাতা জাল সরানোর কোনো উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তৎপর হয়েছে। তারা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানান, চট্টগ্রাম বন্দরসীমা, প্রবেশপথ, বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের পথ ও বহির্নোঙর এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরা, মাছ ধরার জাল স্থাপন কিংবা ফিশিং বোটের মাধ্যমে নৌ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব কর্মকাণ্ড জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: পলো বাওয়া উৎসব আছে, কিন্তু নেই আগের মতো মাছ
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, বুধবার কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে হুমকি এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৪ জনকে এক মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শিপিং-সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, বহির্নোঙরে জেলেদের জালের কারণে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। লাইটার জাহাজের পাশাপাশি অনেক সময় জেলে নৌকাগুলো মাদার ভেসেলের কাছাকাছি চলে আসে। জাল রক্ষার জন্য জেলেরা হাত নেড়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে জাহাজের গতি পরিবর্তনের সংকেত দেন। এমন পরিস্থিতিতে মাদার ভেসেলের নাবিকেরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।
লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পতেঙ্গা জেলেপাড়া থেকে পারকি বিচ, শিপ চ্যানেল আলফা থেকে কুতুবদিয়া এবং পতেঙ্গা থেকে ভাসানচর পর্যন্ত জেলেরা বিন্দি জাল পেতে মাছ ধরার কাজ করছেন। এতে লাইটার জাহাজ চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় জাহাজের প্রপেলারে জাল পেঁচিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে।
চিঠিতে এ ক্ষেত্রেও অভিযোগ করা হয় যে, জাহাজের প্রপেলারে জাল আটকে গেলে জেলেরা দলবল নিয়ে আসেন এবং নাবিকদের ওপর পাথর নিক্ষেপ ও জাহাজে হামলা চালান। কিছুদিন আগে ভাসানচর এলাকা থেকে দুই জাহাজের দুই নাবিককে জেলেরা নিয়ে গেলেও পরে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: ঘুষের ভিডিও ভাইরাল, বরিশালের ভূমি অফিসের ২ কর্মচারী প্রত্যাহার
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, পানির উপরিভাগ থেকে যথাযথ গভীরে জাল বসানোর আন্তর্জাতিক নিয়ম রয়েছে, যাতে জাহাজের প্রপেলারে জাল আটকে না যায়। বিশ্বের প্রায় সকল বন্দর এলাকায় মাছ ধরা হয়, কিন্তু জেলেদের জন্য একটি নির্দিষ্ট এলাকা থাকে। তাঁরা বাণিজ্যিক জাহাজের নেভিগেশন চ্যানেলে প্রবেশ করেন না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। জাহাজের নির্দিষ্ট চলাচলের পথেই জাল বসিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন