০২:২০ পি.এম
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রয়োজন হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে দ্বিধা করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এই অবস্থান গ্রহণের কথা বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিবিসিকে তিনি প্রথম বড় সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠক ইতিবাচক ছিল এবং তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘খুবই আন্তরিক’ মনে করেন। তবে, ট্রাম্পকে বিশ্বাস করেন কি না- এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব তিনি এড়িয়ে যান। একই প্রশ্ন পুনর্বার করা হলেও বার্নহ্যাম বলেন, “পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে। পরিস্থিতি যেমন এগোবে, সেভাবেই বিষয়গুলো মূল্যায়ন করতে হবে।” তিনি আরও জানান, “আমি কখনওই বলতে পারি না যে, ট্রাম্পের সঙ্গে আমার মতপার্থক্য হবে না। যদি যুক্তরাজ্যের জন্য ভিন্ন অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই আমি সেটি প্রকাশ করব।” বার্নহ্যাম স্পষ্টভাবে বলেন, “অবশ্যই।” এর আগে ট্রাম্পকে প্রয়োজন হলে প্রকাশ্যে সমালোচনা করবেন কি না- প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, “সবার আগে নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চাইলে সেটাই করতে হবে।” প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বদলাবে না বলেও জানান বার্নহ্যাম। এর ভাষায়, “আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের কাছাকাছি থাকা। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও সেটি বদলাবে না।” সাক্ষাৎকারে ইরান প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু করায় তার উদ্বেগ ছিল। এই ধরনের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে তিনি কখনও পিছপা হবেন না বলেও মন্তব্য করেন। বার্নহ্যাম বলেন, “আমি যা সঠিক মনে করি, তা বলতে কখনওই দ্বিধা করব না।” সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দেশের সরকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি কবে বাস্তবায়ন করবে- এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা দিতে রাজি হননি। উল্লেখ্য, আগের সরকারের চ্যান্সেলর জন হিলি ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি না থাকায় পদত্যাগ করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, এ প্রতিশ্রুতি ছাড়া দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে বার্নহ্যাম বলেন, তিনি নতুন চ্যান্সেলরকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে তার অবস্থান জেনেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন আমাদের প্রথম কাজ হলো প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করা। বছরের শেষ দিকে বাজেট ঘোষণার আগে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করব।” তিনি বলেছেন, জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য নিয়ে আবারও প্রশ্ন করা হলে, “এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেই পথ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।” সাক্ষাৎকারে আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়েও বার্নহ্যামের অবস্থান পরিষ্কার। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ২০২৯ সালের আগে আগাম জাতীয় নির্বাচনের কোনও পরিকল্পনা নেই। তার ভাষায়, “আমি আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করছি। আমার মনে হয় না জনগণ এখন তা চায়।” বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের পরিস্থিতিকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন