০৭:০৮ পি.এম
কাতারের উপহার হিসেবে দেয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে তলব করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন এই জেট বিমানটি গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষেবায় যুক্ত হয়েছে।
এই বিমানে করে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে ট্রাম্প নিজের পুরোনো বিমানে করে দেশে রওনা হন।
এই বিষয়ে অবহিত একাধিক কর্মকর্তার সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস। নতুন বিমানটিতে আগের প্রেসিডেন্সিয়াল বিমানের থাকা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন উন্নত অ্যান্টি-মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার(১১ জুলাই) ট্রাম্প প্রশাসন তাদের বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে তলব করে আদেশ জারি করেছে। আগামী বুধবার ম্যানহাটনে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির সামনে তাদের সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া, ফেডারেল এজেন্টরা কয়েকজন সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়েও তলবনামা পৌঁছে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলে হোয়াইট হাউস বা বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পত্রিকাটির আইনজীবী ডেভিড ম্যাকক্র একটি বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিকদের বাড়ির দরজায় ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এজেন্টদের উপস্থিতি এমন যেকোনো আমেরিকানের বিবেককে নাড়া দেবে, যে সংবিধান এবং এর দ্বারা সুরক্ষিত সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।
ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের বিমান পরিবর্তনের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা হিসেবে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, ট্রাম্প নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো উদ্বেগের কথা অস্বীকার করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, মিলডেনহলে যাত্রাবিরতি করা হয়েছিল যাতে সেখানকার সামরিক সদস্যরা নতুন জেটটি দেখতে পারেন। যাত্রার পথে ট্রাম্প তার সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করেন, দুটি বিমান নিয়ে দেশে ফেরার পেছনে ইরানের সঙ্গে জড়িত নিরাপত্তা উদ্বেগের কোনো ভূমিকা ছিল না।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের জনগণের সঙ্গে বিরোধ নেই, নীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের আপত্তি
এমনকি, তেহরানের পক্ষ থেকে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর ওপর কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকির বিষয়ে তিনি অবগত কি না এমন প্রশ্নও উড়িয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমার ওপর সবসময়ই হুমকি থাকে। তাদের তালিকায় আমিই এক নম্বরে।
পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসও নতুন বিমানটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ত্রুটির কথা অস্বীকার করেছে। মুখপাত্র স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে জানান, নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক বিমান, যা উচ্চ-পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে; এটি প্রেসিডেন্ট এবং তার কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। প্রেসিডেন্ট যেমনটি সম্প্রতি বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রুরই লক্ষ্যবস্তু তিনি; আর এসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা সব কৌশল রয়েছে। যার মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও ভুল পথে চালিত করার মতো কৌশলও অন্তর্ভুক্ত।
পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব সাংবাদিক সমন পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন জুলিয়ান ই. বার্নস, এরিক লিপটন, টাইলার পেজার এবং এরিক স্মিট। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে বিচার বিভাগ ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ ও ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর সাংবাদিকদের সাক্ষ্য প্রদানের জন্য বাধ্য করতে সমন জারি করেছিল। তবে উভয় ক্ষেত্রেই পরবর্তীতে বিভাগটি সেই সমন প্রত্যাহার করে নেয়।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন