ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মগবাজারে ক্রেনচাপায় প্রকৌশলী আরিফের মৃত্যু, পরিবারের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি


মগবাজারে ক্রেনচাপায় প্রকৌশলী আরিফের মৃত্যু, পরিবারের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি

রাজধানীর মগবাজারে নির্মাণকাজের সময় ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে প্রকৌশলী এ বি এম আহসান উল্লাহ আরিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা নগরীর চলমান নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বানও জানিয়েছেন।

রবিবার (৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় মওলানা আকরম খাঁ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত প্রকৌশলীর পরিবারের সদস্য ডা. এ বি এম ইয়াছিন উল্লাহ (শরিফ) এসব দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ অক্টোবর রাজধানীর মগবাজার প্রধান সড়কে নির্মাণকাজ চলাকালে শানডং হাইস্পিড–সিনোহাইড্রো যৌথ উদ্যোগের কাজে ব্যবহৃত একটি ভারী ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন প্রকৌশলী আরিফ। পাঁচ দিন সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৩ অক্টোবর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু ঘটে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদ্রোহীতায় জড়িতদের তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আরিফের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, এটি নগরীর নির্মাণকাজে নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জনসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী না করে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণ করতে হবে।

তদন্তের আওতায় নির্মাণস্থলে নিরাপত্তাবেষ্টনী, সতর্কসংকেত, প্রশিক্ষিত ট্রাফিক মার্শাল, ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের নিরাপদ ব্যবস্থা এবং পথচারী ও যানবাহনের বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ব্যবহৃত ক্রেনের ফিটনেস, রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের যোগ্যতা, কাজের অনুমতিপত্র, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, দুর্ঘটনার পর আরিফ রক্তাক্ত অবস্থায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় সড়কে পড়ে ছিলেন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ যথাসময়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে তদন্তের অগ্রগতি ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, অবহেলা বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩

এ ছাড়া নগরীর চলমান নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ক্রেনসহ ভারী যন্ত্রপাতির ফিটনেস যাচাই, অপারেটরদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং ব্যস্ত সড়কে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর দাবি জানানো হয়। নির্মাণস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন বক্তারা।

তারা বলেন, বড় নির্মাণ প্রকল্পে দুর্ঘটনা ঘটলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা জানাতে হবে। নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পরিদর্শনের ফলাফল ও ঘাটতি সংশোধনে নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা বলেন, প্রকৌশলী আরিফের মৃত্যুকে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং পরিবারের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগরীর নির্মাণকাজে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি থেকে যাবে।

আরও পড়ুন: অনিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডার বাজারে দিয়ে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবন না: বিইআরসি চেয়ারম্যান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাফল্যের দৌড়ে চীনে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


সাফল্যের দৌড়ে চীনে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে

চীনের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বৃদ্ধি ঘটছে সাফল্যের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চাপ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিলেও, বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় থেকেই এই চাপ শুরু হয়েছে।

পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ, পরিবারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত মানসিক সমর্থন না পাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তরুণদের মানসিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চীনের চংকিং শহরের ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী চেনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে পড়ার সময় তাঁর বুক ধড়ফড় করত, বুকে চাপ অনুভূত হতো এবং বইয়ের লেখা বুঝতে কষ্ট হতো। প্রথমে হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে বলা হয়। পরীক্ষার পর তাঁর বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত সমস্যা ধরা পড়ে। বিষয়টি জানার পর তাঁর মা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

চীনের বিভিন্ন গবেষণায় তরুণদের মানসিক সংকটের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ২০২১ সালে বেইজিং অ্যান্ডিং হাসপাতালের নেতৃত্বে পরিচালিত এক জাতীয় জরিপে দেখা যায়, ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। এর মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতা অন্যতম।

২০২২ সালে চীনা বিজ্ঞান একাডেমির এক প্রতিবেদনে জরিপে অংশ নেওয়া কিশোরদের ১৪ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে বিভিন্ন মাত্রার বিষণ্নতার ঝুঁকি পাওয়া যায়। আগের এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রায় ১০ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে। নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে এ হার বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে একক কোনো কারণ নেই। হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শিমিন ঝু বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতা, ডিজিটাল মাধ্যমের বিস্তার, পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং দ্রুত সামাজিক রূপান্তরের কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সবকিছু মিলিয়ে কিশোরদের মানসিক চাপ বাড়ছে।

চেন জানান, তার পড়াশোনার সময়সূচি সকাল ৭টা ২০ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছিল। সপ্তাহান্তেও কোচিং ক্লাস করতে হতো।

চীনে বাধ্যতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা নবম শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এরপর উচ্চ মাধ্যমিকের সাধারণ শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার মধ্যে শিক্ষার্থীদের বেছে নিতে হয়। অঞ্চলভেদে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মাত্র ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সাধারণ উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির সুযোগ পায়। সামাজিকভাবে সাধারণ শিক্ষাকে বেশি মর্যাদা দেওয়ায় অনেক পরিবার কারিগরি শিক্ষাকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখে।

পরিবারের সমর্থনের অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। চেনের ভাষ্য, তাঁর মা-বাবা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাঁর মানসিক যন্ত্রণা বুঝতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি নিজের হাতে স্ট্যাপল দিয়ে আঁচড় কেটে আত্মক্ষতির পথ বেছে নেন।

ডিজিটাল মাধ্যমও নতুন সংকট তৈরি করছে। ভিডিও গেম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিনোদনে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে কিশোরদের শারীরিক ব্যায়াম ও সরাসরি সামাজিক যোগাযোগ কমছে। এতে বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে চীনা সরকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ কমানোর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কাউন্সেলর নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশটির স্টেট কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ৯২ শতাংশ প্রাথমিক এবং ৯৫ শতাংশ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কাউন্সেলর রয়েছেন। তবে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক নেতিবাচক ধারণা, চিকিৎসকের স্বল্পতা এবং ব্যয়বহুল কাউন্সেলিং বড় বাধা হয়ে আছে।

২০১৯ সালে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, চীনে শিশু ও কিশোরদের জন্য যোগ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন মাত্র প্রায় ৫০০ জন।

বিশেষজ্ঞ শিমিন ঝুর মতে, শুধু পড়াশোনার চাপ কমানোই যথেষ্ট নয়; প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার মানসিক সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে। তাঁর ভাষায়, একটি পরীক্ষায় খারাপ ফল করলেই যেন শিশুদের মনে না হয়, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সড়ক মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সড়ক মন্ত্রী

মুন্সীগঞ্জের ইছামতী নদীর ওপর কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। নতুন দুই লেনের সেতুটি ৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে, যা পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুর পরিবর্তে স্থাপন করা হচ্ছে।

রবিবার বিকেল তিনটায় মুন্সীগঞ্জ (ছনবাড়ি)-কুন্ডেরবাজার-শ্রীনগর সড়কের কুন্ডেরবাজার এলাকায় সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) বাস্তবায়নাধীন ‘জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি সেতু এবং আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্প (ঢাকা জোন)’ এর আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে নির্মিতব্য স্টিল কম্পোজিট কাঠামোর সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ১৫১ দশমিক ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ৩০ মিটার। এর সঙ্গে ৬০০ মিটার সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সেতুটি নির্মিত হলে মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী ও সিরাজদীখান উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে। পুরোনো বেইলি সেতুটির সীমিত ভারবহন ক্ষমতা এবং জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচলে যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, নতুন সেতু চালু হলে তা দূর হবে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে।

মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় আলু, ধান, গম, সরিষা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উৎপাদিত হয়। এসব কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের ক্ষেত্রে কুন্ডেরবাজার-শ্রীনগর সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সেতু নির্মিত হলে কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন আরো সহজ হবে। এতে স্থানীয় কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় পুরোনো সেতু প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি সংযোগ সড়ক উন্নয়ন ও নদীতীর সংরক্ষণের কাজও করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, এসব কাজ শেষ হলে এলাকার সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগ আরো কার্যকর হবে। ফলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পাশাপাশি জনদুর্ভোগও কমবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে ভারতীয় ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে নারী ভক্তকে যৌন শোষণের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে ভারতীয় ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে নারী ভক্তকে যৌন শোষণের অভিযোগ

মহারাষ্ট্রের এক নারী ভক্তের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশের একটি আশ্রমে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বৃন্দাবনের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ইন্দ্র দেব মহারাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, অভিযুক্ত ধর্মগুরু ওই নারীর বিশ্বাসের সঙ্গে খেলা করে তাকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইল ও শোষণ করে আসছিলেন।

অভিযোগকারী নারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইন্দ্রদেবের ধর্মীয় আলোচনা দেখে তিনি তার প্রতি আকৃষ্ট হন। পরে মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজে এক সৎসঙ্গ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি ওই ধর্মগুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা সমস্যার কথা জানালে, ধর্মগুরু তাকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তার বিশ্বাস অর্জন করেন।

এরপর ওই নারী উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে অবস্থিত ধর্মগুরুর সেভাধাম আশ্রমে যান। অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৩ সালে আশ্রমে অবস্থানকালে এক রাতে ইন্দ্রদেব তাকে নিজের কক্ষে ডেকে দরজা বন্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এমনকি কেউ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওষুধ আনতে যাওয়ার কথা বলার জন্য তাকে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে ওই নারীকে ভিডিও কলে কাপড় খুলতে বাধ্য করা হয় এবং আপত্তিকর ভিডিও রেকর্ড করা হয়। এই অশ্লীল ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ও প্রকাশ্যে অপমান করার হুমকি দিয়ে তাকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেইল করা হতো। নির্যাতিতার ভাষ্যমতে, ওই ধর্মগুরু তাকে বলতেন, ‘আমি ভগবান, এবং আমার কথা তোমাকে মানতে হবে।’

মথুরার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বহু মাস ধরে ঘুরেও কোনো সাড়া না পেয়ে, ভুক্তভোগী নারী শেষ পর্যন্ত নারী অধিকার কর্মী ও ভূমিকা ব্রিগেডের প্রধান তৃপ্তি দেশাইয়ের দ্বারস্থ হন। পুনেতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা হয়। সেখানে ওই নারী ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন নারী একই ধরনের শোষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন।

মহারাষ্ট্রের কাসিমিরা থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করার পর তা সরাসরি উত্তরপ্রদেশের মথুরায় স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে মূল অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ধারা ৬৯ (প্রতারণামূলক উপায়ে যৌন সম্পর্ক), ৭৫ (যৌন হয়রানি), ৭৯ (নারীর মর্যাদাহানিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি) এবং ৩৫১(২) (অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন)-এর অধীনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

তৃপ্তি দেশাই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ওই ধর্মগুরুর গ্রেফতার এবং অন্য ভুক্তভোগী নারীদের জবানবন্দি রেকর্ড করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইন্দ্রদেব মহারাজ বা তার আশ্রমের পক্ষ থেকে এখনও কোনো জনসমক্ষে বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাইবার ট্রাকের উৎপাদন বন্ধের পরিকল্পনা করছে টেসলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


সাইবার ট্রাকের উৎপাদন বন্ধের পরিকল্পনা করছে টেসলা

মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা বৈদ্যুতিক পিকআপ ট্রাক সাইবার ট্রাকের উৎপাদন বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে, কারণ প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস কারখানায় গাড়িটির উৎপাদন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে, প্রতিষ্ঠানটি চালকবিহীন ট্যাক্সি সাইবার ক্যাব তৈরিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে চায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। তিনি জানান, সাইবার ট্রাকের উৎপাদন কমিয়ে কারখানার সক্ষমতা সাইবার ক্যাব তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে সাইবার ট্রাকের উৎপাদন অন্য কোনো কারখানায় স্থানান্তর করা হবে, নাকি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো সাইবার ট্রাকের নকশা প্রকাশ করে টেসলা। ব্যতিক্রমী কৌণিক আকৃতি এবং স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি বাইরের কাঠামোর কারণে শুরু থেকেই গাড়িটি আলোচনায় ছিল। ২০২৩ সালের শেষ দিকে ক্রেতাদের কাছে গাড়িটির সরবরাহ শুরু হয়। সে সময় ইলন মাস্ক বছরে আড়াই লাখ সাইবার ট্রাক বিক্রির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন।

কিন্তু বাস্তবে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। গাড়ির বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেলি ব্লু বুকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ২০ হাজার ২৩৭টি সাইবার ট্রাক বিক্রি হয়েছে। অথচ ২০২৪ সালে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩৮ হাজার ৯৬৫টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে গাড়িটির বিক্রি প্রায় ৪৮ শতাংশ কমে গেছে।

বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাইবার ট্রাকের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য বলছে, বাজারে আসার পর থেকে গাড়িটি ১১ বার রিকলের মুখে পড়েছে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে কিছু গাড়ি মেরামত করতে হয়েছে। আবার কয়েকটি ত্রুটি সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।

ইউরোপের বাজারেও সাইবার ট্রাকের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। গাড়িটির ধারালো স্টেইনলেস স্টিলের বহিরাবরণ পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপের প্রচলিত বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে অঞ্চলটিতে গাড়িটির অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় বাধা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, টেসলার ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সাইবার ক্যাব। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার উপযোগী এই গাড়িতে প্রচলিত স্টিয়ারিং হুইল, অ্যাক্সিলারেটর, ব্রেক প্যাডেল কিংবা সাধারণ আয়না রাখা হয়নি। চালক ছাড়াই যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন শহরে সীমিত পরিসরে অর্থের বিনিময়ে সাইবার ক্যাবের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। তবে গাড়িটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পর্যালোচনা এখনো চলছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সাইবার ট্রাকের উৎপাদন বন্ধের পরিকল্পনা টেসলার ব্যবসায়িক কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রচলিত বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট এবং চালকবিহীন পরিবহন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও মনোযোগ বাড়াচ্ছে।

তবে সাইবার ক্যাবের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সাইবার ট্রাকের কমে যাওয়া বিক্রির জায়গা নতুন এই প্রযুক্তির গাড়ি কত দ্রুত পূরণ করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%