বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৬:৪৯ পি.এম
জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সাংবাদিকদের সাথে একটি ওরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবারের দুপুরে, টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিসের উদ্যোগে, সিভিল সার্জনের সভাপত্বিতে এই সভা আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার লাবিবুজ্জামান মুস্তাবীন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক জুলেখা খানম, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. শিমু সাহা, এবং জেলার সাবেক ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট সোলায়মান হোসেন।
সভা চলাকালীন জানানো হয়, এই বছর ৫ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ৫৮ হাজার ৫৩২ শিশুকে একটি করে নীল রংয়ের এবং ১ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৬ শিশুকে একটি করে লাল রংয়ের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল প্রদান করা হবে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলায় ৩০২০টি কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়াও ৫১৪ জন স্বাস্থ্য সহকারী ও টিকাদান কর্মী এই কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবেন। আগামী রবিবার নির্ধারিত ইপিআই কেন্দ্রে শিশুদের জন্য ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
এ সময় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ বিদেশী সেনা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে ইরান, যা পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। এসব সেনা কার্যক্রম গুটিয়ে নিলে স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তেহরানের একজন কর্মকর্তার বক্তব্য।
এই মন্তব্য বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভারতের হরিয়ানার গুরুগ্রামে অনুষ্ঠিত একাদশ ব্রিকস জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকের সময় গৃহীত হয়েছে। পাকনেজাদ বলেন, ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করতে ইরান নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।
যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসী যুদ্ধ চলছে, তখন দেশটির তেল, গ্যাস, শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল অবকাঠামোর ওপর হামলাগুলোকে বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার বিরুদ্ধে এক অন্ধ যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মন্ত্রী এসব হামলাকে উল্লেখ করে বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে, তেল শিল্পের কর্মীদের প্রাণহানি ও পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেছে, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং পার্সি উপসাগরীয় অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
পাকনেজাদ ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি, বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং বিনিয়োগ সীমাবদ্ধতার প্রেক্ষাপটে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বাস্তবসম্মত নীতি প্রণয়ন প্রয়োজনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে সব ধরনের জ্বালানি উৎস ও প্রযুক্তির অবদান রাখা জরুরি, কারণ ২০৫০ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকের বেশি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে মেটানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্য-শৃঙ্খলজুড়ে সক্ষমতা, স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ‘ব্রিকস জ্বালানি নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব’ গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেন।
ব্রিকস বৈঠকের ফাঁকে পাকনেজাদ দক্ষিণ আফ্রিকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী কোগোসিয়েনৎশো রামোকগোপার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং জ্বালানি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। উভয় কর্মকর্তা তেহরান ও প্রিটোরিয়ার মধ্যে জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার এবং অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
ভারত সফরের সময় পাকনেজাদ ভারতের আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের সঙ্গেও আলোচনা করেন। একাদশ ব্রিকস জ্বালানিমন্ত্রীদের বৈঠকটি ২৫ ও ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিকসে ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১১টি প্রধান উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশকে একত্রিত করেছে।
সূত্র: ইরানা নিউজ, ডন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই।
তিনি আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেওয়া একটি বাণীতে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তাই আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আসুন আমরা সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরো সুদৃঢ় করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে নিজেদের আরো নিবেদিত করি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখে পালিত হয় পবিত্র আশুরা। ইসলামের ইতিহাসে এটি এক অনন্য তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এটি শুধু শোক ও স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ ও নৈতিক দৃঢ়তার চিরন্তন শিক্ষা ধারণ করে।’
তিনি বলেন, ‘কারবালার ঘটনা মানব ইতিহাসের এমন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যা যুগে যুগে মানুষকে সত্যের পক্ষে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে অনুপ্রাণিত করে আসছে।’
মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার যে শিক্ষা কারবালা আমাদের দিয়েছে, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরণার উৎস জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) তার পরিবারের সদস্য ও বিশ্বস্ত সঙ্গীদের নিয়ে জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে শাহাদতের মহান মর্যাদা বরণ করেছিলেন। তার এই আত্মত্যাগ কারবালাকে সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রামের এক অবিনাশী প্রতীকে পরিণত করেছে।’
পবিত্র আশুরা উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে তারেক রহমান সর্বশেষ রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একই সঙ্গে কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনায় শাহাদতবরণকারী তার পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীদে পবিত্র স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
এ ছাড়াও তিনি এই শোকাবহ দিনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতিও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডার বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে একটি অনন্য তালিকায় তাঁর স্থান করে নিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের তরুণ ফরোয়ার্ড ইয়োহান মানজাবি। বয়স মাত্র ২১ বছরের নিচে থাকার কারণে, তিনি এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং টমাস মুলারের মতো বিশ্বকাপের তারকাদের সঙ্গে রয়েছেন।
কানাডার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভের ক্ষেত্রে রুবেন ভার্গাস এবং মানজাবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে, এই তরুণ ফরোয়ার্ড ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে চারটি গোলের অবদান রেখেছেন।
এমন একটি কীর্তির মাধ্যমে মানজাবি বিশ্বকাপ ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলার হয়ে উঠেছেন, যিনি একটি আসরে চার বা তার বেশি গোল অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ২০১০ বিশ্বকাপে টমাস মুলারও এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।
একই ম্যাচে, সুইজারল্যান্ডের আরেক খেলোয়াড় রুবেন ভার্গাসও গোল করে আলোচনায় আসেন। তাঁর গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের প্রভাব আরও সুস্পষ্ট হয়।
অন্যদিকে কানাডার বিপক্ষে জয়লাভের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে। একই গ্রুপে তারা টানা চারটি বিশ্বকাপে (২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার নজির স্থাপন করেছে।
এই ধারাবাহিকতায়, সুইজারল্যান্ড এখন দ্বিতীয় ইউরোপিয়ান দল হিসেবে ফ্রান্সের সঙ্গে যুক্ত হয়ে টানা চার আসরে শেষ ষোলোতে জায়গা করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পের পেছনে রয়েছে পৃথিবীর অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুল চাপ। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানই এমন শক্তিশালী ভূমিকম্পের অন্যতম কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর বাইরের স্তর বা ভূত্বক কয়েকটি বিশাল টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত। এগুলো অনেকটা জিগস পাজলের খণ্ডের মতো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ক্রমাগত ধীর গতিতে সরে যাচ্ছে। বছরে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার করে এই সঞ্চালন ঘটে, যা মানুষের নখ বৃদ্ধির গতির কাছাকাছি।
উত্তর ভেনেজুয়েলা ক্যারিবীয় প্লেট এবং দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই দুটি প্লেট একে অপরের তুলনায় ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে তাদের কিছু অংশ আটকে যায়।
এর ফলে বছরের পর বছর ধরে ওই এলাকায় চাপ জমতে থাকে। একসময় সেই চাপ সহ্যের সীমা অতিক্রম করলে প্লেটগুলো হঠাৎ সরে যায় বা নিজেদের অবস্থানে ফিরে আসে।
এই আকস্মিক নড়াচড়ার ফলে বিপুল পরিমাণ শক্তি মুক্ত হয়, যা ভূমিকম্প হিসেবে অনুভূত হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক জোড়া ভূমিকম্পের পেছনেও একই প্রক্রিয়া কাজ করেছে।
উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯৭১ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোর্স: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ