সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৫১ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার অভিযোগে চার নারীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
এ দণ্ড সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত নারীরা হলেন, মর্তুজা বেগম, রুনা বেগম, শাহনাজ বেগম এবং বুশরা বেগম। মর্তুজা বেগম হবিগঞ্জের মাধবপুরের বাসিন্দা। অন্য তিনজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের বাসিন্দা। তারা দীর্ঘ সময় ধরে রূপসী এলাকার একটি পরিত্যক্ত স্থানে বসবাস করছিলেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের নাদিম জানিয়েছেন, হাসপাতালটিতে আসা রোগীদের টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। সোমবার সকালে রোগীদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার সময় ওই চার নারীকে স্বজনেরা হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
তিনি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নারীরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত নারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। পরে তাদের নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে বর্ণাঢ্য র্যালি এবং বিস্তৃত কর্মসূচির ঘোষণা করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি জানান, ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বেলা ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের নেতারা। এছাড়া আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো।
কর্মসূচি সম্পর্কে রিজভী বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মসূচির খসড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও র্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অঙ্গসংগঠনগুলো পোস্টার প্রকাশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে এবং ছাত্রদল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, সম্ভাব্য ৬ নভেম্বর একটি আলোচনা সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যানের সম্মতি পাওয়া গেলে ওই দিন সভা অনুষ্ঠিত হবে, অন্যথায় তিনি যে তারিখ নির্ধারণ করবেন, সেদিনই সভা হবে।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে একটি অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনের চেতনা হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার চেতনা। ১৯৭৫ সালের আগের রাজনৈতিক সংঘাত ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতেই ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান সংকটময় সময়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তেমনি ৭ নভেম্বরের পর তিনি জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন। এরপর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর মাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখে অন্যগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বহু সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো আবার মুক্তভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায়।
এরপর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ছাত্র-জনতার বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা ছাত্র-জনতার ‘জুলাই আন্দোলন’কেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। সেখানে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অংশ নেন; যার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ আবারও উন্মুক্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সব মতের অধিকার রক্ষায় ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে এই ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে দুটি পৃথক অভিযানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৩ বিজিবি) ১৪৩টি ভারতীয় মোবাইল ফোন, একটি মোটরসাইকেল, ১২০ কেজি বিড়ির পাতা, ৩৩ কেজি বিড়ির মশলা এবং একটি বাইসাইকেল জব্দ করেছে। এসব জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ টাকা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধীনস্থ মনোহরপুর বিওপির টহল দল দুটি আলাদা অভিযান পরিচালনা করে এবং এসব মালামাল জব্দ করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ২৬ অক্টোবর সকাল ৭টা ১০ মিনিটে শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে বিশেষ টহল দল অভিযান চালায়। এই অভিযানে ১৪৩টি ভারতীয় মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
এরপর, সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে একই ইউনিয়নের বালুটুঙ্গী গ্রামে মনোহরপুর বিওপির নিয়মিত টহল দল অভিযান চালিয়ে ১২০ কেজি ভারতীয় বিড়ির পাতা, ৩৩ কেজি বিড়ির মসলা এবং একটি বাইসাইকেল জব্দ করে।
বিজিবি জানায়, জব্দ করা মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, বিড়ির পাতা, বিড়ির মসলা ও বাইসাইকেল চাঁপাইনবাবগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, "দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পুশইন প্রতিরোধ, মাদক চোরাচালান দমন এবং সব ধরনের অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ইজি বাইকের ধাক্কায় এক নারী (বয়স আনুমানিক ৫০) নিহত হয়েছেন। চালক ঘটনার পর পালিয়ে যান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর তিনটার দিকে উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের বিরিশিরি-ডেউটুকুন সড়কের দাখিনাইল চৌরাস্তা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ওই নারীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি একজন পথচারী ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ইজিবাইকের যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শী দিলরুবা নামের এক নারী জানান, ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকটিতে তারা তিনজন যাত্রী ছিলেন। দাখিনাইল চৌরাস্তা এলাকা পার হয়ে কিছুটা সামনে যাওয়ার সময় হঠাৎ এক নারী গাড়ির সামনে চলে আসেন। তখন দ্রুতগতির ইজিবাইকটির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার পর চালক ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। ইজিবাইকটি সেখানেই একটি বাড়ির সামনে পড়ে রয়েছে।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত ফকির লালন সাঁইয়ের বারামখানা খ্যাত আখড়াবাড়ির দানবাক্স মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ফের খোলা হলো। এবার দানবাক্স খুলে মোট ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে মাজারের দুটি দানবাক্স সিলগালা ভেঙে খোলা হয়।
এর আগে, গত ১০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে খোলা ও গণনা করা হয়েছিল। সেদিন দানবাক্স থেকে প্রায় ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে এই অর্থ লালন একাডেমির ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ফকির লালন সাঁইয়ের দুটি উৎসবের কারণে বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৩৬তম তিরোধান দিবসের সাতদিন পর দানবাক্স খুলে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে। এই অর্থ আজই নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ