১২:৫১ এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় আগের দিনের সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট এবং একজনের নিহত হওয়ার ঘটনার সূত্র ধরে আবারও দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলায় কালিকচ্ছ ইউনিয়নের কালিকচ্ছ ও ধরন্তি গ্রামে এই সংঘর্ষ প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী হয়। তবে এ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য সহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রায় দেড় ঘণ্টা পরিশ্রম করে।
রাত ৮টার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় নাগরিকরা অভিযোগ করেছেন, সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের চিত্র দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রাসিক প্রশাসক রিটন
পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, উপজেলার সূর্যকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বিলে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত বাঁশের চাটাই ধরন্তি গ্রামের আশিক ও আলালের কাছে বিক্রি করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় নয় মাস ধরে পাঁচ লাখ টাকার বকেয়া পরিশোধ না করায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল।
গত রোববার (২৮ জুন) বিকেলের সময় সরাইল শহীদ মিনার এলাকায় পাওনা টাকা চাওয়ার বিষয়টি মোশারফ হোসেনের সঙ্গে আশিক ও আলালের মধ্যে কথা-কাটাকাটিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে এটি হাতাহাতিতে পাল্টে যায়। পরবর্তীতে খবরটি দুই পক্ষের লোকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে।
ওই সংঘর্ষের ফলে টেটার আঘাতে হাদিস মিয়া নামে একজন নিহত হন। তিনি উপজেলার ধর্মতীর্থ চাকসার এলাকার সামসু মিয়ার ছেলে এবং আশিক ও আলালের ব্যবসার অংশীদার হিসেবে পরিচিত।
সোমবার সন্ধ্যায় হাদিস মিয়ার জানাজা শেষে কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। সেই উত্তেজনার পরিণতিতে দু'পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকা এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন