প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুটবল ইতিহাস অনেক অদ্ভুত এক চিত্রনাট্যকার। কখনো কখনো সে প্রতিশোধের মঞ্চ তৈরি করতে ২০ বছরও অপেক্ষা করে। আজ রাতে ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে স্পেন এবং ফ্রান্স যখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে, তখন স্প্যানিশ সমর্থকদের মনে নিশ্চয়ই অনুচ্চারে হলেও একটি নাম কাঁটা হয়ে বিঁধবে—জিনেদিন জিদান!
২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের কথা আজ থেকে ঠিক ২০ বছর আগে। স্পেনের সোনালী প্রজন্মের তখন পথচলার শুরু। তরুণ জাভি, ইনিয়েস্তা, পুয়োল ও তরুণ তুর্কি ডেভিড ভিয়ার নেতৃত্বে স্পেনকে তখন বলা হচ্ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট। অপরদিকে, নকআউট পর্বে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে উঠে আসা ফ্রান্সকে অনেকেই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন। খবরের কাগজে লেখা হচ্ছিল—স্পেনই হতে যাচ্ছে জিদানের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।
কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে পরবর্তীতে ঘটল ঠিক উল্টোটা। সে ম্যাচের শেষ ষোলোয় জিনেদিন জিদান যেন একাই মাঠের সবুজে ছড়ি ঘোরালেন। স্পেনের মাঝমাঠকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফ্রান্স তো ৩-১ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নিল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যখন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার কার্লোস পুয়োলকে ডজ দিয়ে জিদান বল জালে জড়ালেন, তখন কোটি স্প্যানিশ ভক্তের হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। এটি ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দুই দলের সর্বশেষ দেখা।
আজ, দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুটি পরাশক্তি। এবার যদিও পরিস্থিতি ভিন্ন। স্পেন এখন টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত একটি অপ্রতিরোধ্য দল। অন্যদিকে ফ্রান্সের ডাগআউটে কোচ হিসেবে রয়েছেন সেই ২০০৬ ম্যাচের ফরাসি অধিনায়ক দিদিয়ের দেশম নিজেই!
স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি অথবা তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামালদের বয়স ২০ বছর আগে খুব বেশি ছিল না, তবে তারা স্পেনের ফুটবল ইতিহাসের সেই ক্ষতটি খুব ভালো করেই জানেন। আজ কি লুইস দে লা ফুয়েন্তের এই নতুন স্পেন জিদানের সেই ‘বেদনাদায়ক স্মৃতির’ প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হবে? নাকি বিশ্বকাপের মঞ্চে ফ্রান্সের সেই পুরনো ভূত আবারও স্পেনকে তাড়া করবে?
ফুটবল রোমান্টিকদের জন্য ২০ বছর আগের ওই ট্র্যাজেডি ও আজকের প্রতিশোধের এই লড়াই ম্যাচটিকে এক মহাকাব্যে রূপ দিয়েছে। উত্তর মিলবে আজ রাতেই!
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন