বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:৩১ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার ঢাকায় সফরের শেষ দিনে ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা পরিদর্শন করেছেন। এর সময়ে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় এই তথ্য জানায়।
বার্তায় বলা হয়েছে, লালবাগ কেল্লা পরিদর্শনের সময় অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার পুনরুদ্ধার করা হাম্মামখানা ঘুরে দেখেন। সেই সময় তিনি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়ে মার্কিন দূতাবেসের অবদান সম্পর্কেও অবগত হন।
তিন দিনের সফরে গত মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার।
উল্লেখ্য, রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত লালবাগ কেল্লা মুঘল আমলের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর একটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা আদালত চত্বরে বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া এক মাদক মামলার আসামি এখন স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন।
আটক হওয়া আসামির নাম মো. আজমাইন। তিনি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নাকতাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, পুলিশ হেফাজতে আদালতে হাজির করার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময়, হাতকড়া পরা অবস্থাতেই আজমাইন কৌশলে পালিয়ে যান। পরে দৌড়ে তিনি শহরের পলাশপোল বউবাজার এলাকায় পৌঁছালে, স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়।
সাতক্ষীরা পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে মাসুদ রায়হান বলেন, হাতকড়া পরা অবস্থায় এক ব্যক্তি বউবাজার দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমরা তাকে আটক করি এবং ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে কোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মঈনুদ্দীন গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আশাশুনি থানা থেকে আদালতে আনা এক আসামী পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে বউবাজার এলাকা থেকে তাকে পুনরায় আটক করা হয়। আদালতের আইনি কার্যক্রম শেষে, তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা চালায় তবে এর জবাব হিসেবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
এই বিষয়ে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগও করেছে ইরান। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সূত্রগুলোর দাবি, বিষয়টির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় তারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়ার পরপরই ইরান আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে।
আলোচনার বিষয়ে অবগত দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা, উপসাগরীয় অঞ্চলের দুটি সূত্র এবং একজন আঞ্চলিক কূটনীতিক রয়টার্সকে জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
আঞ্চলিক ওই কূটনীতিক জানান, ট্রাম্পকে নতুন সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন আরাকচি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানে হামলা হলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনা ও ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আরাকচির বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই কূটনীতিক বলেন, “আমরা প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত। তবে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করাই পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ও ধ্বংস এড়ানোর সবচেয়ে ভালো পথ।”
উপসাগরীয় এক সূত্রও জানায়, ইরানের বার্তা ছিল স্পষ্ট- যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত আসতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে সামরিক পদক্ষেপ পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার অনুরোধ করেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা দেখাচ্ছে যে, তেহরান সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাবে আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাকে আলোচনার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা এবং জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনার মধ্যে কঠিন অবস্থানে পড়েছে। আরেকটি উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, সতর্কবার্তাটি সব উপসাগরীয় দেশের জন্যই ছিল। তবে তা মূলত সৌদি আরব ও কাতারের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়।
গত কয়েক বছরে ইরান উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘকালীন আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবও রয়েছে। অন্য এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, তেহরানের সতর্কবার্তার পর কাতার, ওমান ও সৌদি আরব ওয়াশিংটনকে নতুন সংঘাত এড়িয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে, নতুন করে মার্কিন হামলা শুরু হলে পুরো অঞ্চল বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।
এর আগে, গত ২ আগস্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন- দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ থাকলে ইরানের ওপর ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন আবুল কালাম আজাদ (৩৫) নামে এক পাওয়ার টিলারচালক। এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার দেওপাড়া রেলক্রসিংয়ে।
নিহত আবুল কালাম আজাদ নাচোল উপজেলার বান্দ্রা গ্রামের মহিবুর রহমানের পুত্র।
রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, আবুল কালাম আজাদ পাওয়ার টিলার নিয়ে তার বাড়ি বান্দা গ্রামে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে দেওপাড়া রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় তিনি রাজশাহীগামী মহানন্দা ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নিহত হন। ঘটনাস্থলেই আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান রেলওয়ে পুলিশের ওই উপ-পরিদর্শক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, বাংলাদেশ এক সময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। এখন আবার সেই বাংলাদেশ ফিরে আসছে। এতে আমরা খুব আনন্দিত।
বুধবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানান, বাংলাদেশ একসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। এখন সেই বাংলাদেশ আবার ফিরে আসছে। এতে আমরা খুব আনন্দিত।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের মন্তব্য আমাদের উপলব্ধি করিয়ে দেয় যে, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে আর কখনো পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে না দেওয়া।
ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, শুরু থেকেই বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। বাংলাদেশকে আর কখনো পরনির্ভরশীল অবস্থায় ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সাফল্য বজায় রাখার দায়িত্বও আমাদের।’ শুরুতে গত বছরের আগস্ট মাসের শুরুতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে দারুণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সে সময় জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয়ে কর্মরত সাবেক কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। তিনি মনে করছিলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের নীরব থাকা উচিত নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিষয়টি তাদের কাছে তুলে ধরেছিলাম। পরে অন্তত কিছু ক্ষেত্রে গুলিবর্ষণ বন্ধ হতে দেখা যায়। আমার ধারণা, দেশের পরিস্থিতি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের একটি ভূমিকা ছিল।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ