বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:৪০ পি.এম
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, বাংলাদেশ এক সময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। এখন আবার সেই বাংলাদেশ ফিরে আসছে। এতে আমরা খুব আনন্দিত।
বুধবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে জানান, বাংলাদেশ একসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। এখন সেই বাংলাদেশ আবার ফিরে আসছে। এতে আমরা খুব আনন্দিত।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের মন্তব্য আমাদের উপলব্ধি করিয়ে দেয় যে, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে আর কখনো পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে না দেওয়া।
ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, শুরু থেকেই বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। বাংলাদেশকে আর কখনো পরনির্ভরশীল অবস্থায় ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সাফল্য বজায় রাখার দায়িত্বও আমাদের।’ শুরুতে গত বছরের আগস্ট মাসের শুরুতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে দারুণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সে সময় জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয়ে কর্মরত সাবেক কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। তিনি মনে করছিলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের নীরব থাকা উচিত নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিষয়টি তাদের কাছে তুলে ধরেছিলাম। পরে অন্তত কিছু ক্ষেত্রে গুলিবর্ষণ বন্ধ হতে দেখা যায়। আমার ধারণা, দেশের পরিস্থিতি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের একটি ভূমিকা ছিল।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য গণভোটের রায় বাস্তবায়ন সহ বিভিন্ন দাবিতে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর মুক্তাগণ এলাকায় অনুষ্ঠিত জোটের অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দিয়েছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি জানান, "আমরা অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেমেছি। আমাদের আন্দোলন চলবে। খুনিদের বিচারের দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা জীবিত থাকতে বাংলাদেশে তারা আর আস্ফালন দেখাতে পারবে না।"
এসময় জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাসের দাম কমানো এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য। পরে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ আয়োজন করা হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, "যদি লংমার্চে কোনো বাধা দেওয়া হয়, তাহলে দ্বিগুণ শক্তিতে প্রতিহত করা হবে।"
রাজধানীর মুক্তাগণ এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি আয়োজন করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের ঐক্য, যেটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেল-গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল এবং সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "গণভোটের রায় না মেনে সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বৃষ্টির মধ্যে আমরা রাজপথে এটিই সরকারের জন্য বার্তা। প্রয়োজনে ২৬ সালে আরেকটি বিপ্লব হবে। ৬ মাসে সরকার সব দিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা বিরোধী দলের-মতের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তারা ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করছে। জুলাইয়ের যোদ্ধারা সেই চেষ্টা সফল হতে দেবে না।"
তিনি আরও বলেন, "গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ এর ভূতুড়ে বিল দিচ্ছে। মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে বিএনপি যেন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন না দেখে।"
এসময় নাহিদ ইসলাম সরকারকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, গ্যাসের দাম বাড়ালে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ এখন আগামী ২৪ আগস্টে ধার্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, প্রসিকিউটর জহিরুল আমিনসহ আরো অন্যান্য প্রসিকিউটর।
২২ আসামির বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরু হওয়ার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তাছাড়া, সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের নির্ধারিত দিন ছিল। তবে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তারা নতুন তারিখকে নির্ধারণ করেন।
মামলায় পাঁচজন আসামী গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু।
এছাড়া, মামলার পলাতক অন্য আসামিরা হচ্ছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ এবং সুমন দে।
এর পূর্বে, ৭ এপ্রিল তিন অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপ্রিল ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত এবং মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম এবং হৃদয় চন্দ্রকে শহীদ করার দায় দ্রষ্টব্য। তাছাড়া, জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার কথা তিন নম্বর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ফারাহ আবু আইয়াশ ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকার এক বছর পূর্ণ করেছেন।
তার মুক্তি নিশ্চিতের জন্য নেওয়া বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক বাধা এবং প্রশাসনিক আটকাদেশের মেয়াদ বারবার বাড়ানোর কারণে তিনি এখনও মুক্তি পাননি। তাই তার ঘটনাটি অধিকৃত ফিলিস্তিনে সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়নের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
পশ্চিম তীরে কাজ করা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদক লামা আবু হুলউ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অধিকৃত অঞ্চলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও হেবরনে কর্মরত তাসনিমের প্রতিবেদক ফারাহ আবু আইয়াশের ঘটনাটি সেই সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। একসময় যিনি অন্যের দুর্ভোগের খবর তুলে ধরতেন, এখন তিনিই সহকর্মীদের প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক সিন্ডিকেটের প্রধান নাসের আবু বকর বলেন, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের হত্যা, মারধর এবং গ্রেফতারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে ৬০ জনেরও বেশি প্রশাসনিক আটকাদেশে রয়েছেন এবং বর্তমানে ৫০ জনেরও বেশি সাংবাদিক বিভিন্ন অভিযোগে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি। তিনি উল্লেখ করেন, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের সত্য তুলে ধরা থেকে বিরত রাখা।
ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক উচ্চ কমিশনের সভাপতি আমিন শুমান বলেন, ইসরায়েলি কারাগারে সাংবাদিকদের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, ফারাহ আবু আইয়াশ তারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তার প্রশাসনিক আটকাদেশ একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা এবং অধিকৃত ভূখণ্ড ও কারাগারের অভ্যন্তরের বাস্তবতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এক বছর ধরে ফারাহর পরিবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিটি আদালতের শুনানিতে তারা মুক্তির আশা করলেও প্রতিবারেই আটকাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
ফারাহর বোন সাবরিন আবু আইয়াশ জানান, এক বছর আমাদের কাছে কয়েক বছরের মতো মনে হয়েছে। প্রতিটি শুনানিতে আমরা মুক্তির আশা করি, কিন্তু প্রতিবারই আটকাদেশ বাড়ানো হয়। এতে আমরা আবারও শূন্যে ফিরে যাই।
তিনি আরও বলেন, পরিবার সব সময় আইনজীবী এবং মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের কাছ থেকে ফারাহর খোঁজের অপেক্ষায় থাকে। তার খবর পেলে একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে গভীর কষ্ট অনুভব করেন তারা।
সাবরিন জানান, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট মধ্যরাতে ইসরায়েলি বাহিনী বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ফারাহকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় তাকে হিজাব পরার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং অসুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধও সঙ্গে নিতে দেওয়া হয়নি। পরে তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে এবং চোখ বেঁধে সামরিক গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নারী বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত চারজন সাংবাদিক, যারা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় গ্রেফতার হয়েছেন।
ফারাহ আবু আইয়াশের ঘটনাকে অনেক গণমাধ্যমকর্মী অধিকৃত ফিলিস্তিনে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার সংকটের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তার প্রশাসনিক আটকাদেশের প্রতিটি নতুন মেয়াদ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সার গুদামে হিসাবের বাইরে ৫৮ মেট্রিক টন এমওপি সার পাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। একই ঘটনার বিষয়ে চার কর্মকর্তা চার ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়ায় প্রকৃত ঘটনা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।
গত ৩ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (সংযুক্ত) ও কৃষি উপদেষ্টার দপ্তরের কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম ভৈরব বিএডিসি সার গুদাম আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় গুদামের মজুদ ও হিসাব মিলিয়ে দেখা হলে ৫৮ মেট্রিক টন এমওপি সার অতিরিক্ত থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
এ বিষয়ে গুদামের সহকারী পরিচালক শিপন চন্দ্র সরকার বলেন, পরিদর্শনের সময় সার গণনায় ভুল হওয়ায় এমনটি হয়েছে।
গুদামের ইনচার্জ আতাউর রহমানও একই দাবি করেন। তার ভাষ্য, পরে সেই ভুল সংশোধন করা হয়েছে। তবে কীভাবে সংশোধন করা হয়েছে বা সংশোধিত হিসাব কত, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক ইকবাল মোহাম্মদ মুনতাসির বলেন, ইনচার্জ আতাউর রহমান হজে থাকায় বিক্রি হওয়া কিছু সার সময়মতো ডিলারদের কাছে সরবরাহ করা যায়নি। ফলে সেই সার গুদামেই থেকে যায় এবং পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত হিসেবে ধরা পড়ে।
আবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভৈরবের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এইচ এম আজিমুল হক বলেন, গুদামে অতিরিক্ত সার ছিল। তবে গণনায় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত সার থাকার বিষয়টি সত্য।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (সংযুক্ত) ও কৃষি উপদেষ্টার দপ্তরের কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
একই ঘটনার বিষয়ে চারজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার চার ধরনের ব্যাখ্যা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এটি কি শুধুই গণনার ভুল, নাকি গুদামের হিসাব ও সার ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম রয়েছে—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক। তদন্তে কোনো গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ