ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বাংলা এআই তৈরি করে ডাটা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উদ্যোগ


বাংলা এআই তৈরি করে ডাটা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উদ্যোগ

দেশের বিচ্ছিন্ন ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টগুলোকে এক ছাতার নিচে আনতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি, নিজস্ব সার্বভৌম বাংলা এআই তৈরি এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ।

সোমবার (২ নভেম্বর) আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে তথ্য ও যোগাযোগ সচিব ড. মো. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা তথ্যপ্রযুক্তি সংবাদিক ও একাডেমিক প্রফেশনালদের সংগঠন সেন্টার ফর টেকনোলজি জার্নালিজমের (সিটিজে) নির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান। এ সময় আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মজিবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় সিটিজের সভাপতি সমকালের সহকারী সম্পাদক হাসান জাকির, মহাসচিব যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক সাইফ আহমাদ, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান সোহেল, পরিচালক (সাংগঠনিক) রেজাউল করিম জ্যান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিবেদক কাজী সোহাগ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার রাহিতুল ইসলামসহ সিটিজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ঢাকায় শেনজেন ভিসার কার্যক্রম বন্ধ করেছে সুইডেন দূতাবাস

সভায় আইসিটি সচিব জানান, এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও ট্যাক্স ফাইলসহ নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন ডেটাবেজগুলোকে একত্রিত করে একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তথ্যের অপব্যবহার ও জালিয়াতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং ডেটা সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বস্ত ইন্টারঅপারেবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির কাজও চলছে।

দেশের সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আইসিটি সচিব জানান, সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিতে ১২০ জন জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলছে, যার একটি বড় অংশ কারিগরি বিশেষজ্ঞ।

এছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে দেশের ডেটা সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে নিজস্ব এআই মডেল ও শেয়ারড জিপিইউ ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সচিব জানান, ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ ও আইসিটি বিভাগের যৌথ পরিচালনায় উদ্যোক্তাদের ফান্ডিং এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব সেতু ও টোল প্লাজার জন্য একটি ‘ইউনিফাইড ডিজিটাল টোল সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিটিজের পক্ষ থেকে আইসিটি বিভাগের কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে সভাপতি হাসান জাকির বলেন, বিগত সময়ের ধারাবাহিকতায় দক্ষ জনবল তৈরির নামে নামকাওয়াস্তে প্রশিক্ষণ দিয়ে কোনো গোষ্ঠিকে অর্থ তছরুপের সুযোগ যেন না দেওয়া হয়। তিনি অর্থের অপচয় হয় এমন প্রকল্প বা কর্মসূচি গ্রহণ না করারও দাবি জানান।

আরও পড়ুন: প্রযুক্তি খাতে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

সিটিজের মহাসচিব সাইফ আহমাদ বলেন, প্রযুক্তি খাতে নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডেটা প্রাইভেসি ও সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। তিনি উদ্বাবনি প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে তা যেন প্রকৃত উদ্যোক্তারা পায়, সেটি নিশ্চিত করা আবশ্যক। এখানে যেন স্বজনপ্রীতি না হয়।

মতবিনিময় সভায় সিটিজের পক্ষ থেকে কয়েক দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো– প্রতিবেদন তৈরির স্বার্থে সাংবাদিকদের দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা, এআই, সাইবার সিকিউরিটিসহ তথ্যপ্রযুক্তির নতুন নতুন খাত এবং কারিগরি দিক নিয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত কর্মশালা আয়োজন, গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কমিটি ও সভায় সিটিজের প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

প্রযুক্তি খাতের স্বচ্ছতা ও অবকাঠামোগত সংস্কারে সিটিজের পর্যবেক্ষণ ও দাবিগুলো সময়োপযোগী উল্লেখ করে আইসিটি সচিব ড. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা বলেন, আমরা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আইসিটি বিভাগ আন্তর্জাতিক সার্টিফেকশন ছাড়া অন্য কোনো প্রশিক্ষণ আর দেবে না। প্রধানমন্ত্রী এ সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। নামকাওয়াস্তে আর কোনো প্রশিক্ষণ হবে না। স্টার্টআপসহ উদ্ভাবনি প্রকল্পের অর্থ ব্যয়েও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি সিটিজের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন: টিএমজিবির নতুন সভাপতি মাসুদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক কুমার বিশ্বজিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিদেশি চার প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ এম


শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিদেশি চার প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই সেবার দায়িত্ব পেতে প্রতিযোগিতায় রয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা জাপানি কনসোর্টিয়াম সম্ভাব্য অপারেটর নির্বাচনের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে। চূড়ান্ত নির্বাচনের পূর্বে তাদের নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণের সক্ষমতা যাচাই করবে বেবিচক। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রধান বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় নতুন প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতদিন এ খাতে মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল।

সূত্র জানাচ্ছে, আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের বিস্তৃতির দিক থেকে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেনজিস এভিয়েশন এগিয়ে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তারা বিশ্বের ৬৫টি দেশের প্রায় ৩৫০টি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কর্মীসংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যাত্রীসেবা, কার্গো পরিচালনা ও উড়োজাহাজের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন এভিয়েশন সেবা প্রদান করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন পাঁচটি দেশে ৬০টির বেশি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। তবে বৈশ্বিক কার্যক্রমের পরিধি বেশি হলেই কোনো প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তভাবে এগিয়ে থাকবে, এমন নয়। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কারিগরি সক্ষমতা, বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং শাহজালাল বিমানবন্দরের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেওয়ার সক্ষমতা চূড়ান্ত নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে নেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা। দায়িত্বশীল ওই সূত্র আরও জানাচ্ছে, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার ওপর নির্ভর করছে বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান। এই সেবায় ফ্লাইট যাত্রীরা সন্তুষ্ট হলে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়বে এই বিমানবন্দর নিয়ে সুনামের পাশাপাশি রাজস্ব আয়।

মেনজিসের মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস ওয়াইলি সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি এক হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায়। এসব পদের ৯৯ শতাংশ স্থানীয় জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে আরও প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশে একটি এভিয়েশন প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে মেনজিসের। সেখানে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, নিরাপত্তাব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবাপদ্ধতি বিষয়ে স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশে দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশি কারিগরি কর্মীর ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে।

জানা যায়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে লাগেজ পেতে দেরি, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মান নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ করা হলে এসব ক্ষেত্রে সেবার মান উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও পরিচালনব্যবস্থায় জবাবদিহি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করলেই সেবার মান বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এ জন্য চুক্তিতে সেবার মান পরিমাপের সুনির্দিষ্ট শর্ত রাখতে হবে। উড়োজাহাজ থেকে নামার পর কত সময়ের মধ্যে যাত্রীর কাছে লাগেজ পৌঁছাতে হবে, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কত হবে এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে কী ধরনের জরিমানা করা হবে–এসব বিষয়ও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

এ নিয়ে বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হলো, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিষ্ঠানটি কী মানের সেবা দিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে লাগেজ সরবরাহ, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় এবং সেবার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে জরিমানার ব্যবস্থাও কার্যকর করতে হবে। তা না হলে অপারেটর পরিবর্তন হলেও যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের জন্য ১ জানুয়ারি থেকে বিনামূল্যে জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ এম


শিক্ষার্থীদের জন্য ১ জানুয়ারি থেকে বিনামূল্যে জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ

শিক্ষার্থীদের দেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ডিএসসিসি এলাকার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির বা সমমানের শিক্ষার্থীরা এখন থেকে বিনামূল্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পাবে। এই কার্যক্রম আগামী ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে।

মঙ্গলবার নগর ভবনে এ বিষয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডিএসসিসির একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ সময় ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম উল্লেখ করেন, ‘এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হলো। আমরা চাই, ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমিক, মানবিক ও সংস্কৃতিমনস্ক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।’

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও দুই পরিচালকের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২২ এম


বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও দুই পরিচালকের পদত্যাগ

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান এবং নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মহসিন মিয়া, যাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল, অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। তাদের পদত্যাগপত্র বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

পদত্যাগের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং এসএম আব্দুল হামিদকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কমার্স ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে। সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. আতাউর রহমানকে চেয়ারম্যান এবং সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মো. মহসিন মিয়াকে নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যের পর্ষদ গঠন করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গত বছরের একটি পরিদর্শনে সুদ মওকুফসহ বিভিন্ন অনিয়মে তাদের সম্পৃক্ততা উঠে আসলে পরিদর্শক দল তাদের অপসারণের সুপারিশ করে। পরবর্তীতে আরেকটি পরিদর্শনে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি তাদের পদত্যাগ করতে বলা হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে ড. মো. রফিকুল ইসলাম ও এস এম আব্দুল হামিদ, এফসিএ কে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে: জিল্লুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ এম


মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে: জিল্লুর রহমান

মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা কিংবা বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন করা সম্ভব নয়। মাদকের মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা ও নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার জন্য অপরাধীদের জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি (চার্জ) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে ‘পলিসি ডায়ালগ অন এ ড্রাগ ফ্রি বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান উল্লেখ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। এই লক্ষ্যে রাষ্ট্র, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে রেলওয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, মাদক কারবারিরা পরিবহনের বিভিন্ন মাধ্যমকে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজে ব্যবহার করে। রেলপথও তাদের কাছে মাদক পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠতে পারে। বিশাল রেল নেটওয়ার্ক, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চলাচল এবং বিভিন্ন স্টেশনে মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে নজরদারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে এই বিষয়টি মোকাবেলা করে যাচ্ছি।"

তিনি আরও বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু বাহককে গ্রেপ্তার করলে হবে না। কারা মাদকের চালান সংগ্রহ করছে, কারা অর্থায়ন করছে এবং কারা এর পেছনে থেকে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। মাদক চোরাকারবারিদের জন্য একটি সেন্ট্রাল ডেটাবেজ তৈরি করতে হবে। যেখানে আইনপ্রয়োগকারী সকল সংস্থা একজন মাদক ব্যবসায়ীকে মুহূর্তেই চিহ্নিত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির জায়গাও। মাদক প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ মাদকে জড়িয়ে পড়লে তাকে শুধু শাস্তির আওতায় আনার চিন্তা না করে কেন সে মাদকের দিকে ঝুঁকছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশে মাদক কেনাবেচার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল বলেন, মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করলে তার সামাজিক পুনর্বাসনের পথ কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, "মাদকাসক্তি একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। তাই মাদক কারবারি ও মাদকাসক্ত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিস্তার নিরসনে সবাইকে আলাদা আলাদা এম্বাসেডর হিসেবে কাজ করতে হবে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। কিন্তু এই উদ্যোগ এখনো যথার্থ নয়।

তিনি বলেন, "একটি মানুষ হতাশা থেকে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সত্যিকারের মূল্যবোধের অভাবেই মানুষ মাদকের দিকে পা বাড়ায়।" মানুষের হতাশা কাটাতে হলে মূল্যেবোধে ফিরতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। পরকালীন জীবনের মহাসত্যের দিকে আমাদের যেতে হবে; মানুষকে আগে মানুষ হতে হবে; তবেই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের প্রজন্মকে রক্ষা করা যাবে।

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। মাদক কারবারের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। তিনি বলেন, "শুধু দৃশ্যমান অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মাদকের বিস্তার বন্ধ করা যাবে না।" মাদক সরবরাহের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয়ের কারণে কেউ যেন আইনের বাইরে থাকতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মো. সোয়াইব বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও শুধু অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। অভিযানের পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, "মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অনেক সময় তথ্য দিতে ভয় পান। কারণ, অভিযোগ করার পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে।" এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথ্যদাতাদের আস্থায় নেওয়া জরুরি। এ বিষয় ঢাকা জেলা প্রশাসন হ্যালো ডিসি নামে একটি নাগরিক সেবার প্লাটফর্ম তৈরি করেছে।

রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হসপিটালের মনোরোগ বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট ডা. এস এম কবির জুয়েল বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে শুধু ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে কাউন্সেলিং, পারিবারিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মনোসামাজিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মাদকাসক্তির চিকিৎসায় রোগীর পাশাপাশি পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও পুনরায় মাদকে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ জন্য নিয়মিত ফলোআপ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলরের সংখ্যা বাড়াতে হবে। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং সেবার মান নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় না করে চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%