মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,
০৪:৩২ পি.এম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অসহায় পরিবার এবং চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন থাকা ব্যক্তিদের সহায়তায় নানা ধরনের মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে দীঘিনালা জোন।
বুধবার (১০ জুন ২০২৬) সকালে দীঘিনালা জোনের আয়োজনে এক সহায়তা প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক ও দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাব জোন কমান্ডার মেজর তৌকির আহমেদ, এসইউপি, পিএসসি এবং জোন অ্যাডজুট্যান্ট ক্যাপ্টেন আবদুল্লা আল আজমী।
কর্মসূচির আওতায় ছোট মেরুং বাজার দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা এবং দারুল উলুম শাহিদা সুমাইয়া বালিকা মাদ্রাসা ও এতিমখানায় চাল, আটা, চিনি, তেল ও ডালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এছাড়া অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তার অংশ হিসেবে মো. বাচ্চু মিয়া ও ক্রিস ত্রিপুরাকে ৫ হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ও জরাজীর্ণ বসতঘর পুনর্নির্মাণে সহায়তার লক্ষ্যে অন্তনিতা চাকমা, বাকী রাম ত্রিপুরা, মোছা. জাহেরা খাতুন, গৌরিকা বালা চাকমা, ফুলেকা চাকমা এবং মার্জিনা বেগমের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।
এ সময় জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন বলেন, সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বই পালন করে না, বরং মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবেও কাজ করে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও দীঘিনালা জোন জনকল্যাণমূলক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এমন সহায়তা শুধু আর্থিক স্বস্তিই দেয় না, বরং দুর্গত ও অসহায় মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের বকশীগঞ্জের রামরামপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) একজনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে। এর ফলে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) ভোর ৫টার দিকে বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা পুশইনের উদ্যোগ নেয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র এবং বিজিবি জানায়, বিষয়টি বুঝতে পেরে জামালপুর-৩৫ বিজিবির সদস্যরা এবং স্থানীয় এলাকাবাসী প্রতিরোধ গঠন করে। বিজিবি এবং স্থানীয়দের বাধার সম্মুখীন হয়ে ৬০ বছর বয়সী ঐ ব্যক্তি নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেয়।
সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে সকাল সাড়ে ১০টায় জামালপুর-৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক এবং ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকের সময় বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে ফেরত নিতে অস্বীকার করে নো ম্যান্স ল্যান্ডে রেখে চলে যায়। বৈঠক সফল না হওয়ায় সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা নাজির হয়।
বিএসএফ বার বার ঐ ব্যক্তিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু প্রতিরোধের সামনে ওই ব্যক্তি ফিরে যেতে বাধ্য হন।
সকালে বিএসএফ এক ব্যক্তিকে ভারত থেকে শূন্য রেখায় ঠেলে পাঠিয়েছে। জামালপুর বিজিবি-৩৫ অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, "একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। আমরা তাকে ফেরত পাঠিয়েছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।"
এর আগে গত ৯ জুন জামালপুর ও কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকায় এক রাতেই আটটি আলাদা স্থানে বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। ট্রাকে করে শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। রাত ১২টা থেকে জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) এর আওতাধীন কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
বিজিবি থেকে জানা যায়, রাত ১২টা থেকে দাঁতভাঙা বিওপির ১০৫৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা, মুল্লারচর সীমান্ত পিলার ১০৬২-এর পাশে কুচুনিমারা এলাকা, ইজলামারি বিওপির ১০৬৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে মানকারচর এলাকা, খেয়ারচর বিওপির ১০৬৯ নম্বর পিলারের বিপরীতে সদরটিলা এলাকা, পাথরেরচর বিওপির ১০৭৫ নম্বর পিলারের বিপরীতে লুকায়েরচর এলাকা, বাঘারচর বিওপির ১০৭৩ নম্বর পিলারের বিপরীতে বালুরঘাট এলাকা, ঝাউডাঙা বিওপির ১০৭৮ নম্বর পিলারের বিপরীতে দর্গাপাড়া এলাকা এবং সাতানীপাড়া বিওপির ১০৮৭ নম্বর পিলারের বিপরীতে বিলডুবা এলাকায় শতাধিক মানুষের পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নানের ব্যক্তিগত সহকারী এবং রাজনৈতিক সচিব হাসনাত হোসেনসহ দুজনকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছে।
এরা ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ শহরের আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামি। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সুনামগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারকেরা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
হাসনাত হোসেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। পূর্ববর্তী ঘটনাক্রমে ওই বছরের ১৬ আগস্ট জগন্নাথপুর উপজেলা মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার মামলার ২নং আসামি রেজাউল করিম রিজুকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ দুপুরে আদালতে উপস্থিত হয়ে রেজাউল করিম রিজু জামিন চাইলে জগন্নাথপুর জোনের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমদাদ তার জামিন মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশের সুনামগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক মোজাম্মেল হোসেন আদালতের আদেশটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে আওয়ামী লীগ, অঙ্গ সংগঠন এবং পুলিশের হামলায় গুলিবিদ্ধ হওয়া দোয়ারাবাজারের জহুরের ভাই হাফিজ আহমেদের করা দ্রুত বিচার আইনের মামলার নামোল্লিখিত ৯৯ জনের মধ্যে হাসনাত হোসেন ৪৯ নম্বর আসামি। এই মামলায় অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ২০০। ইতোমধ্যে সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান ও সাবেক এমপি মুহিবুর রহমান মানিক কয়েকদিন কারাভোগ করার পর আদালতের মাধ্যমে জামিন পেয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আদর্শিক সংকটগুলোর একটি হলো যুবসমাজ কাকে অনুসরণ করবে? প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বৈশ্বিক বিনোদন সংস্কৃতির বিস্তারের ফলে আজকের তরুণদের সামনে অসংখ্য আইডল উপস্থিত। ফুটবল তারকা, সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রী, টিকটক সেলিব্রিটি কিংবা পশ্চিমা সংস্কৃতির জনপ্রিয় মুখগুলো আজ অনেক যুবকের চিন্তা, রুচি ও জীবনযাপনের মানদণ্ড হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
তাদের পোশাক, চুলের স্টাইল, কথাবার্তা, জীবনধারা এমনকি ব্যক্তিগত সম্পর্ক পর্যন্ত অনুকরণ করা হচ্ছে অন্ধভাবে। সফলতার সংজ্ঞাও যেন বদলে গেছে, ভাইরাল হওয়া, জনপ্রিয় হওয়া এবং বিলাসী জীবনযাপন করাই যেন জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
কিন্তু মুসলিম যুবকদের সামনে কি আদর্শের অভাব রয়েছে? ইসলাম ইতিহাস খুলে দেখলে আমরা এমন সব তরুণের সন্ধান পাই, যাদের চরিত্র, ত্যাগ ও আদর্শ মানবসভ্যতার জন্য আজও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মুসআব ইবনে উমাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
তিনি ছিলেন মক্কার অন্যতম ধনী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। সৌন্দর্য, আভিজাত্য ও বিলাসিতার কারণে পুরো মক্কায় তিনি ছিলেন বিশেষভাবে পরিচিত। ইতিহাসবিদ ইবনে সাদ তাঁর আত-তাবাকাতুল কুবরা গ্রন্থে উল্লেখ করেন, মক্কার যুবকদের মধ্যে মুসআবের চেয়ে অধিক বিলাসী এবং সৌন্দর্যসচেতন যুবক আর ছিল না। দামী পোশাক, উন্নত সুগন্ধি ও রাজকীয় জীবনযাপন ছিল তাঁর প্রতিদিনের নিত্যসঙ্গী।
কিন্তু যখন তাঁর হৃদয়ে কুরআনের আলো প্রবেশ করল, তখন তাঁর জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন, দুনিয়ার চাকচিক্য ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টিই চিরস্থায়ী সফলতা।
ইসলাম গ্রহণের কারণে তাঁকে ভয়াবহ পারিবারিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়। তাঁর মা, যিনি ছিলেন অত্যন্ত ধনী ও প্রভাবশালী নারী, ইসলাম গ্রহণ করার কারণে তাঁকে ঘরে বন্দি করে রাখেন। আরাম আয়েশ, সম্পদ ও স্বাধীনতা সবকিছু থেকে বঞ্চিত করা হয় তাঁকে। অথচ এই কষ্ট তাঁর ঈমানকে দুর্বল করেনি; বরং আরও দৃঢ় করেছে।
একসময় যিনি রেশম ছাড়া পোশাক পরতেন না, পরবর্তীতে তাঁকে ছেঁড়া কাপড়ে দেখা গেছে। সাহাবিরা তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জীবনের পার্থক্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তেন।
কিন্তু ইসলামের ইতিহাসে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় কেবল আত্মত্যাগ নয়; বরং তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম দাঈদের একজন। মহানবী সা. তাঁকে মদিনায় পাঠিয়েছিলেন মানুষকে কুরআন শেখানোর জন্য। তাঁর দাওয়াত, প্রজ্ঞা ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মদিনার বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। পরে সেই মদিনাই ইসলামী রাষ্ট্র ও সভ্যতার কেন্দ্রভূমিতে পরিণত হয়।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, "মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক এমন আছে, যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে।” (সূরা আল-আহযাব: ২৩) মুসআব রা.-এর জীবন ছিল এই আয়াতের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
উহুদের যুদ্ধে তিনি ইসলামের পতাকা বহন করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে, তাঁর কাফনের কাপড় এত ছোট ছিল যে মাথা ঢাকলে পা বের হয়ে যেত, আর পা ঢাকলে মাথা বের হয়ে যেত।
ভাবা যায় যে যুবকের একসময়কার পোশাকের মূল্য দিয়ে বহু গরিব মানুষের সংসার চলতে পারত, মৃত্যুর সময় তাঁর পূর্ণ কাফনের কাপড়ও ছিল না! কিন্তু তিনি দুনিয়া হারিয়ে আখিরাত অর্জন করেছিলেন।
আজকের বাস্তবতার সঙ্গে এই ইতিহাসের তুলনা করলে দেখা যায় একজন ভয়ংকর চিত্র সামনে আসে। বর্তমান সময়ের বহু তরুণ রাত কাটাচ্ছে মোবাইল স্ক্রিনে, ভার্চুয়াল বিনোদনে এবং ক্ষণস্থায়ী জনপ্রিয়তার পেছনে। অথচ সাহাবিদের যুবক জীবন ছিল জ্ঞানচর্চা, আত্মশুদ্ধি, দাওয়াহ ও মানবকল্যাণে নিবেদিত।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত প্রভাব তরুণদের মধ্যে এক ধরনের “সেলিব্রিটি সংস্কৃতি” তৈরি করেছে, যেখানে নৈতিকতা ও চরিত্রের চেয়ে বাহ্যিক চাকচিক্য অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে অনেক তরুণ ধীরে ধীরে আত্মিক উন্নয়ন ও আদর্শিক চেতনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, "মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে; তাই সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে, তা যেন লক্ষ্য করে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৩৩)
এই হাদিস কেবল বন্ধুত্ব নয়, অনুসরণ ও আদর্শ গ্রহণের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। কারণ মানুষ যাকে অনুসরণ করে, ধীরে ধীরে তাঁর চিন্তা ও চরিত্রও তেমন হয়ে ওঠে। আজ মুসলিম যুবকদের নতুনভাবে ভাবতে হবে আমাদের আদর্শ কারা? যে মানুষ আমাদের আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, নাকি যে মানুষ আমাদের জান্নাতের পথ দেখায়?
সময়ের দাবি হলো যুবসমাজ আবার সাহাবিদের জীবনী পড়ুক, কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুক, জ্ঞান ও চরিত্র গঠনে মনোযোগী হোক। কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, একজন আদর্শবান তরুণ পুরো জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। মুসআব ইবনে উমাইর রা. তার উজ্জ্বল প্রমাণ।
লেখক: আবদুল আজিজ মুহাম্মাদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্য আমেরিকার চারটি দেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, কারণ ক্রান্তীয় ঝড় ‘ক্রিস্টিনা’ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। প্রবল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় মঙ্গলবার বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মিয়ামিভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) মঙ্গলবার ভোরে জানায়, ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার বেগের স্থায়ী বাতাস নিয়ে ক্রিস্টিনা মধ্য আমেরিকার উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সান সালভাদর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এনএইচসি জানায়, ঘণ্টায় ছয় কিলোমিটার গতিতে উত্তরমুখী ঝড়টি বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস, এল সালভাদর ও গুয়াতেমালার উপকূলীয় এলাকায় ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এক বুলেটিনে এনএইচসি সতর্ক করে বলেছে, ‘এই বৃষ্টিপাত প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও খাড়া ঢালবিশিষ্ট এলাকায় ঝুঁকি বেশি।’ এই সংস্থাটি আরও জানায়, উপকূলমুখী বাতাসের কারণে কিছু এলাকায় জলোচ্ছ্বাসজনিত উপকূলীয় প্লাবনও দেখা দিতে পারে।
ভূমিধস, বন্যা ও অন্যান্য ঝুঁকির কারণে এল সালভাদরের শিক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ও বুধবার দেশের সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। রাজধানী সান সালভাদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে লা লিবারতাদ এলাকায় জেলেদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রবল ঢেউয়ের কারণে ওই বন্দর এলাকা উত্তাল হয়ে উঠেছে।
ক্রিস্টিনার আগমনের আগে সমুদ্রতীরবর্তী বেশ কিছু সংখ্যক দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রয়েছে মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যের বাজারও। এল সালভাদরের সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের পরিচালক লুইস আলোনসো আমায়া জানিয়েছেন, আগামী তিন দিনে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় দেশজুড়ে ১৮০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
গুয়াতেমালার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির উপকূলীয় অঞ্চল, মধ্যাঞ্চলের আলতিপ্লানো এলাকা ও পূর্বাঞ্চলের উপত্যকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। নিকারাগুয়ার কো-প্রেসিডেন্ট রোসারিও মুরিলো বাসিন্দাদের উপকূল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রোববার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
হন্ডুরাসে জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দেশের নয়টি অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে। মধ্য আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ অঞ্চলগুলোর একটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ