বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৫৯ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র গ্রিস ও পানামাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান কারনাকিস অ্যান্ড কারনাকিসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইরানের জাহাজ চলাচল ও তেল বাণিজ্যসংক্রান্ত নেটওয়ার্ককে আইনি সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে করা হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় স্থানীয় সময় বুধবার (২১ অক্টোবর) এই ঘোষণা দেয়।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত নেটওয়ার্ককে আইনি সহায়তা প্রদান করে আসছিল।
এছাড়া, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অপরাধবিষয়ক সংস্থা ফিনসেন (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক) গ্রিসের একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে। ব্যাংকটিকে প্রশাসনিকভাবে নথিপত্র তলবের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তবে ব্যাংকটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন সংস্থাটি আরও ছয়টি ইউরোপীয় ব্যাংকের কাছে তথ্য চেয়েছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যাংকের নামও প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, “আপনি সমুদ্রে অবৈধভাবে তেল স্থানান্তর করুন কিংবা কোনো আইনি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে বসে এসব কাজে সহায়তা করুন—ইরানি সরকারকে সমর্থন দিলে আমরা আপনাকে খুঁজে বের করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব।”
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট অভিযোগ করেন যে, কারনাকিস অ্যান্ড কারনাকিস বহু বছর ধরে বিভিন্ন ভুয়া বা কাগুজে কোম্পানি তৈরি করেছে। এসব কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও ইস্পাত পরিবহণকারী জাহাজগুলোর প্রকৃত মালিকানা আড়াল করা হতো।
পিগটের দাবি, এসব কোম্পানি মূলত আড়াল হিসেবে কাজ করত এবং এর মাধ্যমে ইরানের লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নেটওয়ার্ককে সহায়তা করা হয়েছে। এসব বাণিজ্য থেকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্স এবং ইয়েমেনের হুথিরা লাভবান হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।
তবে কারনাকিস অ্যান্ড কারনাকিসের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এছাড়া, ইরানের তেল পরিবহণে সহায়তার অভিযোগে সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কয়েকটি জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত এজেন্টের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের গোপন তেল পরিবহণ নেটওয়ার্ক পরিচালনায় সরাসরি সহায়তা করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। চলতি মাসে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি ইরানের জাহাজ চলাচল, তেল বাণিজ্য এবং এসব কাজে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, যা প্রচলিত জুলাই-জুন অর্থবছরকে পরিবর্তন করবে। এই উদ্দেশ্যে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে তাদের কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছর চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন, বিধিমালা, চুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় কোন পরিবর্তন প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৬ থেকে ১৫ অক্টোবর জারি করা একটি চিঠিতে এই নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে। উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল স্বাক্ষরিত চিঠিটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও শাখায় পাঠানো হয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর হবে নয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর। এই অর্থবছর শুরু হবে ২০২৭ সালের জুলাইয়ে এবং শেষ হবে ২০২৮ সালের মার্চে। এরপর থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে প্রতি বছর ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ৩১ মার্চ শেষ হবে অর্থবছর।
নতুন অর্থবছর চালুর জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ২০২৭-২৮ অর্থবছর শুরুর পূর্বেই সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা, পরিপত্র, বিশেষ আদেশ (এসআরও), চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করতে হবে। কোথায় সংশোধন বা সমন্বয় প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে সময়সীমাসহ কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের ফলে সরকারের বাজেট প্রণয়ন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), রাজস্ব আদায়, হিসাব সংরক্ষণ ও পরিসংখ্যান প্রস্তুতির নিয়মেও পরিবর্তন আনতে হবে। আইবাস++, ভ্যাট এবং ট্রেজারি ব্যবস্থাপনাসহ সরকারি আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার সফটওয়্যারগুলো নতুন অর্থবছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।
নতুন কাঠামো কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা প্রয়োজন। অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমেও নতুন সময়সীমার প্রভাব পড়বে।
নির্দেশনার আওতায় রয়েছে রাজউক, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এবং হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
অর্থবছর পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা। সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জুলাই-জুন অর্থবছরে বর্ষা মৌসুমে অনেক অবকাঠামোগত কাজ পরিচালনা করতে হয়। এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালু হলে বর্ষার আগেই অনেক উন্নয়ন কাজ শেষ করার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব কমানোর পাশাপাশি কাজের মান উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার মাধ্যমে নতুন অর্থবছর চালুর প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে চায় সরকার। তবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিবর্তন কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা হালনাগাদ এবং বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীরের বিরুদ্ধে মাদক সেবনকারী ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে এক রাত থানার লকআপে রাখার পর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের প্রায় এক মাস পর জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তার সিনিয়র রিপোর্টার আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে মামলা রেকর্ডের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সাংবাদিক আলাউদ্দিনের অভিযোগ, তার প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত বা অনুসন্ধান না করেই এবং তাকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ বা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
অভিযোগের আরও গুরুতর দিক হলো—কোতোয়ালি থানার বর্তমান ওসি তৌহিদুল আনোয়ার ছুটিতে থাকা অবস্থায় ওসি (তদন্ত) আলমগীর ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্বে ছিলেন এবং ওই সময় তিনিই মামলাটি রেকর্ডিং কর্মকর্তা হিসেবে নথিভুক্ত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে একই কর্মকর্তাকে ঘিরে আগে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং পরবর্তীতে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সময়গত সম্পর্ক ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে
সাংবাদিক আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, ০৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে।
আলাউদ্দিনের দাবি, ওই মামলার বাদী ২৬ বছর বয়সী রাফির সঙ্গে তার ওই দিন তো দূরের কথা, জীবনে কোনোদিন তার বানানো ভুক্তভোগী সাজ্জাদের সঙ্গে দেখা ও কথা হয়নি।
তার প্রশ্ন—যদি সত্যিই ওই তারিখ ও সময়ে তিনি বাদীর বানানো ভুক্তভোগী এবং মামলার এক নম্বর সাক্ষীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন, তাহলে ঘটনার সময় তার অবস্থান কোথায় ছিল, বাদীর সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল কি না এবং তাদের মধ্যে কোনো ফোনকল বা যোগাযোগের ডিজিটাল প্রমাণ রয়েছে কি না—এসব যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে মামলার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR), যোগাযোগের তথ্য, অবস্থানসংক্রান্ত প্রযুক্তিগত তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শী এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ পরীক্ষা করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।
“সত্য হলে প্রমাণ করুন”—সাংবাদিক আলাউদ্দিনের চ্যালেঞ্জ
সাংবাদিক আলাউদ্দিন বলেন, যার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে তাকে আসামি করা হয়েছে, সেই ব্যক্তির সঙ্গে তার কখনো দেখা বা কথা হয়েছে—এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারলে তিনি সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অঙ্গীকার দিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, মামলায় উল্লেখিত ০৯ জুলাই ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৪টার সময় তিনি কোথায় ছিলেন এবং অভিযোগকারী ব্যক্তির সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না—তা তদন্তে বের করা হোক।
তার বক্তব্য, প্রযুক্তিগত তদন্তে যদি প্রমাণ হয় যে তিনি ওই সময় অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বা ঘটনাস্থলে ছিলেন, তাহলে তদন্তে যে আইনগত সিদ্ধান্ত আসবে তা তিনি মেনে নেবেন।
সংগঠনের লোগো ব্যবহার করে টাকা দাবির অভিযোগ
মামলার বাদী রাফির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সংগঠনের লোগো ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক আলাউদ্দিন বলেন, যে সংগঠনের নাম ব্যবহার করার অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটি কীভাবে পরিচালিত হয়, এর বৈধ নিবন্ধন আছে কি না এবং তার লোগো ব্যবহার করে টাকা দাবি করার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসবও তদন্তের বিষয়।
আলাউদ্দিনের দাবি, দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের অর্জন থাকা অবস্থায় কোনো অনিবন্ধিত বা ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়ানোর প্রশ্নই আসে না।
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে সংগঠনের লোগো ব্যবহার করে অর্থ দাবির অভিযোগ থাকলে অভিযোগকারী পক্ষকে সেই লোগো ব্যবহারের স্ক্রিনশট, ফোন নম্বর, বার্তা, কল রেকর্ড, টাকা দাবির অডিও/ভিডিও বা অন্য কোনো প্রামাণ্য তথ্য তদন্তকারী সংস্থার কাছে উপস্থাপন করতে হবে।
অভিযোগের পেছনে প্রতিহিংসার প্রশ্ন
সাংবাদিক আলাউদ্দিনের অভিযোগ, কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীরের বিরুদ্ধে মাদক সেবনকারী ও ছিনতাইকারীকে আটকের পর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে তিনি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের পরিবর্তে প্রায় এক মাস পর তার বিরুদ্ধেই ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে মামলা হওয়ায় তিনি ঘটনাটিকে প্রতিহিংসামূলক বা হয়রানিমূলক মামলা হওয়ার আশঙ্কা হিসেবে দেখছেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
পুলিশ সুপারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
সাংবাদিক আলাউদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ওসি (তদন্ত) আলমগীরের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএমের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপেও পাঠানো হয়েছিল।
তার অভিযোগ, প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে কোনো দৃশ্যমান তদন্ত কমিটি গঠন বা নিরপেক্ষ অনুসন্ধান না হওয়ায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই হয়নি।
এখানেই এখন বড় প্রশ্ন—
একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের পর সেটি তদন্ত করা হলো কি না, এবং একই কর্মকর্তার দায়িত্বকালীন সময়ে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে মামলা রেকর্ড হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো স্বার্থের সংঘাত বা পক্ষপাতের সম্ভাবনা ছিল কি না—তা কি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে?
বাংলাদেশ পুলিশের প্রকাশিত অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতেও বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কাঠামোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া নিয়েও স্বাধীন তদন্তের দাবি
এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সাংবাদিক আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলাটি রেকর্ডের আগে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগকারীর বক্তব্যের পাশাপাশি অভিযুক্ত সাংবাদিকের বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি না, ঘটনাস্থল যাচাই করা হয়েছিল কি না, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি না, মোবাইল ফোনের যোগাযোগের তথ্য বা অন্যান্য ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বের করা জরুরি।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মামলায় আসামি করা মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
২০২৬ সালের সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩A ধারায় তদন্ত চলাকালে কোনো আসামির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন চাওয়ার এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অব্যাহতির বিষয়ে আদালতের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে মো. মোজাম্মেল হোসেনের দায়িত্ব পালন নিয়েও সাংবাদিক আলাউদ্দিনের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আলাউদ্দিনের অভিযোগ, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্তের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই তিনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য যাচাই কিংবা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহের মতো তদন্ত কার্যক্রম না করেই টেবিলে বসে মামলার নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন তিনি।
তার আরও অভিযোগ, মামলাটি কীভাবে সংঘটিত হয়েছে এবং অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রাথমিক প্রমাণ রয়েছে—এসব যাচাই না করেই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে কি না, সেটিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেনের পুলিশ পরিচয় নম্বর বিপি ৮৬১৪১৭০৪২০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা আদৌ কী কী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, কোন কোন ব্যক্তির বক্তব্য নিয়েছেন, কী কী নথি বা ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং মামলার অভিযোগের পক্ষে কী কী প্রমাণ পেয়েছেন—এসব তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে মামলাটি রেকর্ডকারী কর্মকর্তা হিসেবে ওসি (তদন্ত) আলমগীরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার পুলিশ পরিচয় নম্বর বিপি ৮৬১৩১৫৫৯২৮ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় একই ঘটনার ক্ষেত্রে মামলা রেকর্ডের পর্যায় থেকে তদন্ত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত ভিত্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
চাঁদাবাজির অভিযোগের আইনি প্রশ্ন
বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারায় ভয় দেখিয়ে অসৎভাবে অর্থ বা সম্পদ আদায়কে ‘extortion’ বা চাঁদাবাজির সংজ্ঞার মধ্যে রাখা হয়েছে এবং ৩৮৪ ধারায় এর শাস্তির বিধান রয়েছে।
তাই ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সত্য কি না, তা নির্ধারণে শুধু বাদীর বক্তব্য নয়—টাকা দাবির প্রমাণ, যোগাযোগের রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শী, ডিজিটাল তথ্য এবং ঘটনার সময়-স্থানসহ পারিপার্শ্বিক প্রমাণ যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্ত হলে যে বিষয়গুলো যাচাই করা যেতে পারে
এই ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ ও থানার বাইরে/উচ্চতর পর্যায়ের তদন্ত হলে অন্তত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যাচাই করা যেতে পারে—
১. ০৯ জুলাই ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৪টার সময় সাংবাদিক আলাউদ্দিনের অবস্থান কোথায় ছিল।
২. বাদী রাফি ও আলাউদ্দিনের মধ্যে ওই দিন বা তার আগে-পরে কোনো ফোন যোগাযোগ হয়েছিল কি না।
৩. প্রাসঙ্গিক CDR ও অন্যান্য আইনসম্মত ডিজিটাল তথ্য কী নির্দেশ করে।
৪. ১৫ হাজার টাকা লেনদেনের কোনো প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শী বা ডিজিটাল রেকর্ড আছে কি না।
৫. সংগঠনের লোগো ব্যবহার করে অর্থ দাবির অভিযোগের পক্ষে স্ক্রিনশট, বার্তা, অডিও, ভিডিও বা অন্য কোনো প্রমাণ আছে কি না।
৬. মামলার আগে সাংবাদিক আলাউদ্দিনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি না।
৭. অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে থানার পক্ষ থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
৮. ওসি লুৎফুর রহমান ছুটিতে থাকার সময় ওসি (তদন্ত) আলমগীর কী ক্ষমতাবলে ভারপ্রাপ্ত ওসি হিসেবে মামলাটি রেকর্ড করেন।
৯. পূর্বে ওসি (তদন্ত) আলমগীরকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে পরবর্তী মামলার সময়গত সম্পর্ক কোনো তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না।
১০. একই কর্মকর্তাকে ঘিরে পূর্বের অভিযোগ এবং পরবর্তী মামলার ঘটনায় স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা থাকলে মামলাটি অন্য কোনো ইউনিট দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে কি না।
১১. তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেন মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর কী কী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
১২. বাদী, সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে কি না এবং তাদের বক্তব্যের কোনো লিখিত রেকর্ড রয়েছে কি না।
১৩. অভিযোগের পক্ষে থাকা কথিত কল রেকর্ড, মেসেজ, স্ক্রিনশট, অডিও-ভিডিও বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে কি না।
১৪. তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো তদন্ত প্রতিবেদন, জব্দতালিকা, সাক্ষীদের জবানবন্দি বা অন্যান্য তদন্ত-নথি প্রস্তুত করেছেন কি না।
১৫. তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগে কীভাবে মামলার অভিযোগকে প্রাথমিকভাবে সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে—তার কোনো নথিভুক্ত ভিত্তি রয়েছে কি না।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন
ঘটনাটি এখন শুধু একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয় নয়; বরং একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ, তার পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা এবং মামলার রেকর্ডিং ও তদন্ত প্রক্রিয়া—এই তিনটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
তাই পুলিশের আইজিপি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, কুমিল্লা জেলা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন—
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কি স্বাধীন তদন্ত হবে?
মামলার বাদী ও আসামির বক্তব্যের পাশাপাশি ডিজিটাল ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ কি পরীক্ষা করা হবে?
মামলা রেকর্ডের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা কি আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হবে?
তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেনের তদন্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা কি ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা বা স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হবে?
আগের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগেরও কি পৃথক তদন্ত হবে?
একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হলে একই সঙ্গে দুটি বিষয় পরিষ্কার হতে পারে—সাংবাদিক আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি আছে কি না এবং এর বিপরীতে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের কোনো সত্যতা আছে কি না।
অভিযোগ সত্য হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে দায়মুক্তি—দুই ক্ষেত্রেই স্বাধীন তদন্তই হতে পারে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রশান্ত মহাসাগরের একটি শক্তিশালী ঝড়, টাইফুন ‘চামপি’, তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হওয়ায় ভূমি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যৌথ সামরিক মহড়ার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, অতিপ্রবল এই টাইফুনের কেন্দ্রস্থলের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটারের বেশি রয়েছে। ঝড়টি তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে এবং এটি উত্তর দিকে মোড় নিয়ে চীনের উপকূল হয়ে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঝড়ের ব্যাসার্ধ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩২০ কিলোমিটারে পৌঁছানোর কারণে তাইওয়ানের অধিকাংশ এলাকা এর আওতাধীন হয়ে পড়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ছয় মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ এবং পাহাড়ি অঞ্চলে এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং জনগণকে পাহাড়ি বা উপকূলীয় এলাকা এড়িয়ে চলার এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রধানত অভ্যন্তরীণ রুটের ১২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া, তাইওয়ানের কাছাকাছি জাপানি দ্বীপগুলোতেও টাইফুনটির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাপানের ইনহাবিটেড দ্বীপ ইয়োনাগুনিতে এটি আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাপানি বিমান সংস্থা জাপান এয়ারলাইনস, এএনএ এবং স্কিমার্ক বৃহস্পতিবার থেকে রোববারের মধ্যে একশর বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে, যার ফলে এগারো হাজারের বেশি যাত্রীর ভ্রমণ ব্যাহত হয়েছে।
এছাড়া, তাইওয়ান সংলগ্ন জাপানি দ্বীপগুলোতে চলমান প্রায় ৫৬ হাজার সেনার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত দুই বছর মেয়াদী ‘কিন সোর্ড’ নামক যুক্তরাষ্ট্র-জাপান যৌথ সামরিক মহড়াও এই দুর্যোগের কারণে প্রতিদিনের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জ উপজেলার মৈকুলী এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রূপগঞ্জের মৈকুলী এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ বেগম (৫৫) এবং একই এলাকার রিফাত হোসেন (২০)। আহত তিনজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
ভুলতা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, দুপুরের দিকে যাত্রী নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রূপসীর দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুই জন নিহত হন এবং আহত হন আরও তিনজন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ