০৭:৪৫ এম
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
দেশের লেবার পার্টির পরবর্তী নেতা এবং সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী কে হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোরালো আলোচনা।
এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র এবং মেকারফিল্ড আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যান্ডি বার্নহাম।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন
স্টারমারের বিদায়ের ঘোষণার পর অ্যান্ডি বার্নহামের উত্থান ওয়েস্টমিনস্টারে ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে, বিনষ্ট হবে গত চার বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইতিহাস।
এদিকে, বার্নহামের সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে যিনি সংসদ সদস্য ছিলেন না, তিনি আগামী মাসেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন—এ বিষয়টি নিয়ে লেবার পার্টির মধ্যেও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।
অনেকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, বার্নহাম অতীতে দু’বার লেবার নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বার্নহামের বর্তমান জনপ্রিয়তার মূল কারণ হল তাকে একজন ‘জয়ী নেতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে স্টারমারকে ব্যর্থতার প্রতীক ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে রিফর্ম ইউকের শক্তিশালী অবস্থানের মাঝে বার্নহাম তার রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
আরও পড়ুন: রাজা চার্লস উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করলেন
তবে, সমালোচকদের মতামত হল, গ্রেটার ম্যানচেস্টারে তার জনপ্রিয়তা থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা এখনো পুরোপুরি পরীক্ষিত নয়। তার রাজনৈতিক দর্শন, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং জাতীয় নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা এখনও পাওয়া যায়নি।
স্টারমারের পদত্যাগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বার্নহাম বলেন, জনগণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, জনসেবা, আবাসন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ দেখতে চায়। তবে এসব লক্ষ্য তিনি কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন, তা নিয়ে বর্তমানে নজরদারি শুরু হয়েছে।
লেবার পার্টির কিছু সদস্য এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোনসকে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও তার ঘনিষ্ঠদের আশঙ্কা, এই সম্ভাবনা আপাতত খুবই কম।
এদিকে, সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার্নহামের সামনে পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা খাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং সেই অর্থের উৎস কী হবে এসব বিষয়ে শিগগিরই তাকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হতে পারে।
আরও পড়ুন: কিং ফাহদ বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ১, আহত ৮
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আগামী কয়েক সপ্তাহেই পরিষ্কার হবে অ্যান্ডি বার্নহাম লেবার পার্টির নেতৃত্ব দেওয়ার এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পথে কতটা এগোতে পারেন।
সূত্র : বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন