ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাতে গরম দুধে মধু মিশিয়ে খেলে মিলতে পারে নানা উপকার


রাতে গরম দুধে মধু মিশিয়ে খেলে মিলতে পারে নানা উপকার

সুস্থ ও ফিট থাকার জন্য আমরা কত রকমের দামি সাপ্লিমেন্ট কিংবা হেলথ ড্রিংকস কিনে থাকি। কিন্তু আমাদের রান্নাঘরেই এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা সঠিকভাবে মিশিয়ে খেলে যে কোনো দামি ওষুধের চেয়েও বেশি কাজ করে থাকে। তেমনই একটি প্রাচীন ও অত্যন্ত কার্যকরী কম্বিনেশন হচ্ছে— গরম দুধ ও মধু।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র থেকে শুরু করে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান— উভয় ক্ষেত্রেই এ মিশ্রণটিকে একটি ‘অমৃত’ বা জাদুকরী পানীয় হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে।

দুধকে বলা হয়— সুষম আহার, যা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের খনি। অন্যদিকে খাঁটি মধু হচ্ছে— প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানের ভাণ্ডার।

আরও পড়ুন: দাঁড়িয়ে কাজ করলে হাঁটু ও কোমরে ব্যথার ঝুঁকি

প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে আপনার শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি একাধিক শারীরিক জটিলতা নিমেষে দূর হয়ে যাবে। প্রকৃতির দেওয়া এ দুই উপাদানের নিয়মিত সেবন আপনাকে সারা দিন রাখবে চনমনে, সতেজ ও রোগমুক্ত। তাই কৃত্রিম কেমিক্যালযুক্ত এনার্জি ড্রিংকস বাদ দিয়ে আজ রাত থেকেই হোক এক গ্লাস হালকা গরম দুধে এক চামচ মধু মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস। এবং সুস্থ জীবনের দিকে এক পা এগিয়ে যাওয়া।

দুধ ও মধুর এই যুগলবন্দি আপনার শরীরে প্রবেশ করার পর পুষ্টির শোষণ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন এ অভ্যাস বজায় রাখলে যে ইতিবাচক প্রভাব চোখে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, দুধ ও মধুর এই যুগলবন্দি আপনার শরীরে কতটা প্রভাব ফেলে—

যারা রাতে বালিশে মাথা দিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করেন বা ইনসোমনিয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই পানীয় ওষুধের মতো কাজ করে থাকে। দুধে রয়েছে ‘ট্রিপটোফ্যান’ নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিড, যা আপনার মস্তিষ্কে গিয়ে ‘সেবোটোনিন’ এবং পরে ‘মেলাটোনিন’ বা ঘুমের হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। মধুর গ্লুকোজ এ ট্রিপটোফ্যানকে খুব দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। ফলে মন শান্ত হয় এবং নিমেষের মধ্যে গভীর ও আরামের ঘুম আসে।

আরও পড়ুন: রাতে ঘুম না আসলে ক্যামোমাইল চা পান করুন

ঋতু পরিবর্তনের সময় ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি কিংবা গলার খুসখুসে ভাব দূর করতে দুধ-মধুর মিশ্রণ অনন্য। মধুর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা গলার ভেতরের সংক্রমণ দূর করে থাকে। আর গরম দুধ আপনার শরীরের ক্লান্তি দূর করে শক্তি জোগায়। নিয়মিত এটি খেলে শরীরের শ্বেত রক্তকণিকার কার্যক্ষমতা বাড়ে। ফলে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমণ সহজে আপনার শরীরকে কাবু করতে পারে না।

মধু হচ্ছে একটি চমৎকার ‘প্রিবায়োটিক’ যা পাকস্থলীতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে গরম দুধ আমাদের পরিপাকতন্ত্র বা বাওয়েল মুভমেন্টকে সচল রাখে। রাতে এ মিশ্রণটি খেয়ে ঘুমালে সকালে পেট পরিষ্কার হয় এবং গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো ক্রনিক সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে।

দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা হাড় মজবুত রাখার জন্য প্রধান উপাদান। কিন্তু অনেক সময় শরীর এ ক্যালসিয়াম পুরোপুরি শোষণ করতে পারে না। আর মধুর মধ্যে থাকা বিশেষ পুষ্টিগুণ রক্তে ক্যালসিয়াম শোষণের হার বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বয়সজনিত কারণে হাড়ের ক্ষয়, হাঁটুর ব্যথা বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

দুধ ও মধুর মিশ্রণ ভেতর থেকে আপনার শরীরকে ডিটক্সিফাই বা বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। ফলে রক্তের পরিচ্ছন্নতা বাড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। ত্বকের কালচে ভাব দূর হয়ে এক প্রাকৃতিক জেল্লা বা গ্লো ফিরে আসে। এ ছাড়া চুলের গোড়াতেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছায়। ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পূজায় চমকে গেলেন ময়ূখ, চট্টগ্রামের জন্য আলাদা পুরস্কার চাইলেন

যদিও দুধ ও মধু খাওয়ার সময় একটি বিষয় সবসময় মনে রাখবেন। ফুটন্ত বা অতিরিক্ত গরম দুধে কখনো মধু মেশাবেন না। কারণ অতিরিক্ত তাপে মধুর ওষধি গুণাগুণ ও এনজাইমগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সবসময় দুধ ফুটিয়ে নেওয়ার পর তা হালকা কুসুম কুসুম গরম অবস্থায় তাতে মধু মেশাবেন। তা না হলে মঙ্গলের বদলে অমঙ্গলই দেখা দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তার পানি বৃদ্ধি, খুলে দেওয়া হলো জলকপাট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:২২ এম


তিস্তার পানি বৃদ্ধি, খুলে দেওয়া হলো জলকপাট

তিস্তায় আবার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার রাত ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি ছিল ৫১.৯৭ সেন্টিমিটার; যা বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। এ পয়েন্টে নদীর বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।

সোমবার সকাল ৯টায় পানি ছিল ৫১ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার; যা বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচে। দুপুর ১২টায় পানি আরও দুই সেন্টিমিটার কমে ৫১.৭৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল; যা বিকাল ৩টা পর্যন্ত একই লেভেলে ছিল।

তিনি আরো বলেন, মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। পরে রাত ৯টায় আরও সাত সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপরদিকে, ভারতের দোমোহনী পয়েন্টে রাত ৯টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার (৮৫.৯৫) ৩৬ সেন্টিমিটার (৮৫.৬৯) নিচ দিয়ে এবং মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার (৬৫.৯৫) দশমিক ২০ সেন্টিমিটার (৬৬.১৫) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, “উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর জন্য কমলা সংকেত জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে, পানি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকেই নদীর পানি বৃদ্ধির খবর জানার জন্য খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে তিস্তার পানি আরও বাড়তে থাকলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৩ জুন ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ এম


২৩ জুন ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সূচি

আজ মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, ৭ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু হবে ১২টা ০৪ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু হবে ৪টা ৪০ মিনিটে।

মাগরিবের সময় ৬টা ৫৩ মিনিটে।

এশার সময় শুরু হবে ৮টা ১৯ মিনিটে।

আগামীকাল ফজরের সময় শুরু হবে ৩টা ৪৭ মিনিটে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ৫টা ১২ মিনিটে।

সূত্র: ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিসা ও কনস্যুলার ফি পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩১ এম


ভিসা ও কনস্যুলার ফি পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে সংগৃহীত ভিসা ও কনস্যুলার ফি বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায়, স্থানীয় ভিসা প্রসেসিং এজেন্টরা অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ফি সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, তাদের বিদেশস্থ কার্যালয় বা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর সুযোগ পাবেন।

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার প্রকাশ করা হয়। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসা ও কনস্যুলার ফি বিদেশে পাঠানোর সময় কিছু নির্দিষ্ট শর্ত অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক হবে। ভিসা ফি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দূতাবাস দ্বারা নির্ধারিত হারে সংগ্রহ করতে হবে। সেইসাথে, দূতাবাস বা তাদের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ইস্যুকৃত ইনভয়েস সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।

এছাড়া, প্রতিটি আবেদনকারীর কাছ থেকে সংগৃহীত ফি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংকলন করতে হবে। বিদেশে অর্থ প্রেরণের আগে প্রযোজ্য সকল ধরনের কর যথাযথভাবে কর্তন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করাও আবশ্যক। নতুন নির্দেশনার ফলে ভিসা ফি পরিশোধ ও বিদেশে প্রেরণের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল হবে বলেও উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে, এ ধরনের লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে বলেও তাদের ধারণা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষকের শ্রম আল্লাহর কুদরতের এক অনন্য নিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ এম


কৃষকের শ্রম আল্লাহর কুদরতের এক অনন্য নিদর্শন

কৃষিকাজ যে একটি অতি শ্রেষ্ঠ পেশা, এটি আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে একটি এবং মানুষের অন্তরে ঈমানকে সুদৃঢ় করার একটি মাধ্যম।

এটি মহান আল্লাহর একত্ববাদের স্পষ্ট প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা যে বীজ বপন করো? তোমরাই কি তা উৎপন্ন করো, নাকি আমরাই উৎপন্নকারী?' (সুরা : আল-ওয়াকিয়া, আয়াত : ৬৩-৬৪)

কৃষিজগতের বিভিন্ন বৈচিত্র্য আল্লাহর কুদরতের এক মহান নিদর্শন। এখানে দেখা যায়, কিছু শস্য, কিছু ফল, কিছু ফুল, কিছু ঘাস, কিছু ফলমূল, কিছু শাক-সবজি, কিছু লতানো এবং কিছু মাচাবিহীন—এগুলো সবই আল্লাহর সৃষ্টির বিস্ময়। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'অতএব মানুষ যেন তার খাদ্যের প্রতি দৃষ্টি দেয়।

আমিই প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেছি, অতঃপর আমি জমিনকে যথাযথভাবে বিদীর্ণ করেছি। তারপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙুর, শাক-সবজি, জলপাই, খেজুর, ঘন বৃক্ষরাজির উদ্যান, ফলমূল ও ঘাস—তোমাদের ও তোমাদের পশুদের ভোগের জন্য।' (সুরা : আবাসা, আয়াত : ২৪-৩২)

কৃষকের কাজ আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট। কৃষক মাটিতে একটি বীজ বপন করে, আল্লাহর দেওয়া পানি দিয়ে তা সেচ দেয়, আল্লাহর তৈরি জমি প্রস্তুত করে এবং আল্লাহর দেওয়া যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে। এরপর সে অপেক্ষা করে—এই বীজ থেকে কী বের হয়।

কিন্তু কে সেই বীজকে বিদীর্ণ করে অঙ্কুর বের করেন? কে মাটিকে ভেদ করে ফসল বের করেন? আল্লাহ ছাড়া আর কে? ফসল দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্বের জীবন্ত উদাহরণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত হলো এমন—যেমন আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, ফলে তার দ্বারা জমিনের উদ্ভিদ মানুষের ও পশুর খাদ্যের সঙ্গে মিশে যায়। অবশেষে যখন জমিন তার সৌন্দর্য ধারণ করে এবং সুশোভিত হয়, আর তার অধিবাসীরা মনে করে যে তারা এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান, তখন আমার আদেশ রাত বা দিনে এসে পড়ে। অতঃপর আমি তাকে এমনভাবে কেটে ফেলি যেন গতকাল এখানে কিছুই ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করি।' (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৪)

এই উদাহরণের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে বুঝিয়েছেন—মানুষও প্রথমে দুর্বল অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে, পরে যৌবনে শক্তিশালী হয় এবং মনে করে সে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবে, সব কিছু করতে পারবে।

তারপর বার্ধক্য আসে, শক্তি কমে যায়, অবশেষে তার জীবনও সেই ফসলের মতো হয়ে যায়, যা প্রথমে সবুজ ছিল, পরে শুকিয়ে কেটে ফেলা হয়। ফসল, উত্তম কথা ও দান একে অপরের সঙ্গে গভীর সম্পর্কযুক্ত।

আল্লাহ তাআলা উত্তম ও মন্দ কথার উদাহরণ দিয়ে বলেন, 'তুমি কি দেখনি, আল্লাহ কিভাবে দৃষ্টান্ত দিয়েছেন? উত্তম বাক্য হলো উত্তম বৃক্ষের মতো, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা আকাশে। সে তার রবের অনুমতিতে সর্বদা ফল দান করে। আর মন্দ বাক্যের দৃষ্টান্ত হলো মন্দ বৃক্ষের মতো, যা জমিনের ওপর থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে, যার কোনো স্থায়িত্ব নেই।' (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ২৪-২৬)

অতএব, উত্তম কথা ও সৎকর্মের সঙ্গে ফসলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কৃষিকাজ ও আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিদ আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে। আল্লাহ বলেন, 'সাত আসমান, জমিন এবং এতে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। এমন কোনো বস্তু নেই যা তাঁর প্রশংসাসহ তাসবিহ করে না; কিন্তু তোমরা তাদের তাসবিহ বুঝতে পারো না।' (সুরা : আল-ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৪৪)

উদ্ভিদ আল্লাহর সামনে সিজদা করে। আল্লাহ বলেন, 'আর তৃণলতা ও বৃক্ষ উভয়েই সিজদা করে।' (সুরা : আর-রহমান, আয়াত : ৬) ফসলের মধ্যে জাকাত রয়েছে। আল্লাহ বলেন, 'আর ফসল কাটার দিন তার হক (জাকাত) প্রদান করো।' (সুরা : আল-আনআম, আয়াত : ১৪১)

কৃষিকাজ ও হজের সম্পর্কও উল্লেখযোগ্য। হজের সময় মক্কার পবিত্র এলাকার উদ্ভিদ ও গাছপালা নষ্ট করা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহ মক্কাকে হারাম (পবিত্র) করেছেন। আমার আগে বা আমার পরে কারোর জন্য এটি বৈধ নয়। আমার জন্যও দিনের কিছু সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল। এর ঘাস কাটা যাবে না, গাছ কাটা যাবে না, শিকার তাড়ানো যাবে না...' (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৩৩)

কৃষিকাজ একটি নৈতিক শিক্ষালয়। কৃষি মানুষকে বহু উত্তম চরিত্র শিক্ষা দেয়। যেমন—

১. আমানতদারি: কৃষকের হাতে মানুষের জীবনধারণের একটি বড় আমানত রয়েছে, যা সঠিকভাবে রক্ষা করা জরুরি। ইউসুফ (আ.) মিসরের রাজার স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন— 'তোমরা সাত বছর ধারাবাহিকভাবে চাষ করবে। অতঃপর যা কাটবে তা শীষের মধ্যে রেখে দেবে, সামান্য যা খাবে তা ছাড়া। এরপর আসবে সাতটি কঠিন বছর, যা তোমাদের সঞ্চিত সব খেয়ে ফেলবে...' (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৪৭-৪৯)

তাঁদের এই পরামর্শ অনুসরণের ফলে আল্লাহর ইচ্ছায় তারা দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

২. বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করা: ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে বের হওয়ার পর আল্লাহ তাঁর জন্য ইয়াকতিনগাছ উৎপন্ন করেছিলেন, যা তাঁর দুর্বলতা দূর করেছিল। আল্লাহ বলেন, 'অতঃপর আমি তাকে তীরে নিক্ষেপ করলাম, তখন সে ছিল অসুস্থ। আর আমি তার ওপর একটি ইয়াকতিনগাছ উৎপন্ন করলাম।' (সুরা : আস-সাফফাত, আয়াত : ১৪৫-১৪৬)

এভাবেই মরিয়ম (আ.)-এর জন্য খেজুরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল— 'আর তুমি খেজুরগাছের কাণ্ড তোমার দিকে নাড়াও, তা তোমার ওপর পাকা তাজা খেজুর ফেলবে।' (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ২৫)

৩. আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা: কৃষক প্রতিদিন নিজের চোখের সামনে আল্লাহর নিয়ামত দেখতে পায়। তাই তার উচিত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। দুই বাগানের মালিকের ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয়—সে আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করেছিল। তার মুমিন বন্ধু তাকে বলেছিল— 'তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করলে তখন কেন বললে না—মাশাআল্লাহ, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো শক্তি নেই?' (সুরা : আল-কাহফ, আয়াত : ৩৯)

কিন্তু সে শিক্ষা গ্রহণ করেনি, তাই তার বাগান ধ্বংস হয়ে যায়।

উপসংহার: কৃষকদের জন্য এর চেয়ে বড় সম্মান আর কী হতে পারে যে মহান আল্লাহ তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবিদের উদাহরণ দিয়েছেন ফসলের মাধ্যমে। আল্লাহ বলেন, 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর সঙ্গীরা কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি দয়ালু। তুমি তাদের দেখবে তারা রুকু ও সিজদায় অবনত, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাওরাত ও ইনজিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো এমন একটি চারাগাছের মতো, যা প্রথমে কুঁড়ি বের করে, পরে শক্তিশালী করে, তারপর তা মোটা ও দৃঢ় হয় এবং নিজের কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে যায়—যা কৃষকদের আনন্দ দেয়।' (সুরা : আল-ফাতহ, আয়াত : ২৯)

অতএব, কৃষিকাজ শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়; বরং এটি আল্লাহর নিদর্শন, ইবাদতের একটি ক্ষেত্র এবং মানবতার সেবার এক মহান পথ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%