০৬:৫২ পি.এম
বরিশালের মুলাদী এলাকায় ত্রাণের ‘২০ পার্সেন্ট’ দিতে রাজি না হওয়ার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে মারধরের শিকার হয়েছেন মো. জাকির হোসেন সিকদার নামে এক ইউপি কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা দেড়টার জলবায়ু, উপজেলার মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদে ঘটনার খবর থানায় অভিযোগ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
ইউপি পরিষদ সূত্রের তথ্য মতে, নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণের চাল বিতরণের তালিকা প্রস্তুতের সময় ৬ নম্বর মুলাদী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. জাকির হোসেন সিকদারকে তার অফিসে ঢুকে মারধর, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব বেল্লাল হোসেন সরদার নিজের লোকজন নিয়ে এই মারধর ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করছেন জাকির হোসেন সিকদার।
আরও পড়ুন: গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর
এ ঘটনার জন্য জাকির হোসেন থানায় বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ ও জিডি থেকে জানা যায়, মুলাদী সদর ইউনিয়নে নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের জন্য ৩ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার তার অফিস কক্ষে বসে সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করছিলেন। আর তখনই বেল্লাল হোসেন সরদার ও সুজন চৌকিদারসহ ৫-৬ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী তার রুমে প্রবেশ করেন। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে ওই কর্মকর্তাকে পিটিয়ে মারধর করেন। তারপর তারা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার অভিযোগ করেছেন, ছাত্রদল নেতা বেল্লাল সরদার এর আগেও তার অফিস কক্ষের আসবাবপত্র তছনছ করার ঘটনা ঘটিয়েছিল। এছাড়া বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় ভিজিএফ চাল বিতরণ করতে বাধা দিয়ে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ চাল দিতে দাবি জানায়। এমনকি দরিদ্র মহিলাদের দুই বছর মেয়াদি ভিডব্লিউবি চালের কার্ড বিতরণের সময়ও তারা কার্ড জোরপূর্বক নিজেদের দখলে নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য উল্লেখ করেছেন, নদী ভাঙন কবলিত ১৫০ জন মানুষের জন্য ২০ কেজি করে ৩ টন চাল বরাদ্দ রয়েছে। এই চালের ২০ শতাংশ হিসেবে ৩০ জনের তালিকা দিতে চেয়েছিলেন ছাত্রদল নেতা বেল্লাল সরদার। কিন্তু পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে ২০ জনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। তিনি রাজি না হলে চেয়ারম্যান তাকে ২৫ জনের নাম দিতে বলেন। চেয়ারম্যন পরিষদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর ওই ছাত্রদল নেতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর এবং গুলি করার হুমকি দেন।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাজারের দানবাক্স ভেঙে টাকা ও মালামাল চুরি, ক্ষতি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা
মুলাদী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. কামরুল আহসান বলেছেন, ‘ঘটনার বিষয়টি শুনেছি। আমি অসুস্থ থাকায় ঘটনার দিন পরিষদ থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গিয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদল সদস্যসচিব বেল্লাল হোসেন সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হয়নি। আমি গত মঙ্গলবার পরিষদে যাইনি। তবে ওই দিন কিছু লোকের সঙ্গে জাকির হোসেনের কথার কাটাকাটি ও হাতাহাতির বিষয়টি শুনেছি। আমি মুলাদী সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ার কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও জিডি করা হয়েছে।’
মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা জানিয়েছেন, ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জিডি করেছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেছেন, মারধর এবং প্রাণ নাশের হুমকির বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানায় জিডি হয়েছে এবং জিডি কপি আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সন্দ্বীপে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলন অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন