ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ

কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা ও মার্কিন জেনারেলদের পলায়ন: একটি সেনাদলের ক্ষোভ ও গোপন তদন্তের নেপথ্য কাহিনী


কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা ও মার্কিন জেনারেলদের পলায়ন: একটি সেনাদলের ক্ষোভ ও গোপন তদন্তের নেপথ্য কাহিনী

কুয়েতে মার্কিন সেনাদলের অপারেশন সেন্টারে একটি ইরানি আত্মঘাতী ড্রোন আঘাত হানার ঘটনার পর ঘটে যাওয়া। ভেতরে থাকা সৈন্যদের সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত এক মার্কিন আর্মি জেনারেল মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ান। নিজের প্রটেক্টিভ ভেস্ট এবং হেলমেটটি টেনে নিয়ে পাশে থাকা এক সৈন্যকে চিৎকার করে নির্দেশ দেন- ‘এখান থেকে পালাও!’

দিনটি ছিল মার্চের ১ তারিখ। এ ঘটনা ঘটে যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র একদিন পর।

কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে অবস্থিত ওই ভবনের ঠিক মাঝখানে ড্রোনটি আঘাত হানে। এর প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ভেতরে থাকা সৈন্যরা দেয়ালে গিয়ে আছড়ে পড়েন এবং মুহূর্তের মধ্যে ভবনটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়—সেদিনের হামলায় বেঁচে ফেরা সৈন্যরা সেই নারকীয় অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ক্লিন্ট বার্নস যখন জরুরি বহির্গমন পথ দিয়ে প্রাণভয়ে পাশে থাকা একটি সুরক্ষিত বাঙ্কারের দিকে দৌড়াচ্ছিলেন, তখনো তার অধীনস্থ ডজন ডজন নারী ও পুরুষ সেনা জ্বলন্ত ভবনের ভেতরে আটকা ছিলেন।

জেনারেলের নির্দেশে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা সৈন্যটি পরে জানান, ‘আমাদের ওই ভবন ছেড়ে ওভাবে পালিয়ে আসা উচিত হয়নি।’

বাঙ্কারের ইস্পাতের দরজা খোলার পর যখন তিনি পুনরায় ভেতরে আটকে পড়াদের সাহায্য করতে যেতে চেয়েছিলেন, তখন জেনারেল বার্নস তাকে কড়া ভাষায় সেখানে স্থির থাকার নির্দেশ দেন। কাঁপানো গলায় সেই সৈন্যটি বলেন, ‘আমি তো আর চোখের সামনে ওভাবে মানুষ মরতে দেখতে পারি না।’

এরপর অন্য এক অফিসারের উৎসাহে ছুটে গিয়ে ওই সৈন্যটি অপারেশন সেন্টারে ফিরে যান এবং ঘন ধোঁয়ার মধ্যে জীবিত কাউকে খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু সেই জেনারেল আর ফিরে আসেননি।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

ড্রোন হামলার পর জেনারেল বার্নসের এই পলায়ন এবং সিদ্ধান্তহীনতা শুয়াইবা বন্দরে মোতায়েন সৈন্যদের মনে তাদের নেতৃত্বের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও তিক্ততা সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যখন এই ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করছেন, ঠিক তখনই ১৭ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও সেনাসদস্য এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন।

ইউএস আর্মির ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের ৬ জন সৈন্য এই হামলায় নিহত হন এবং আরও বেশ কয়েকজন সৈন্য গুরুতর আহত হন। ইরানের সঙ্গে চলমান এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের জন্য এটি ছিল অন্যতম বড় ও ব্যয়বহুল ক্ষয়ক্ষতি, যা তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। একইসাথে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সৈন্যদের পাঠানোর আগে তাদের সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কিনা—তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সামরিক বাহিনীর তদন্তের গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেঁচে থাকা সৈন্য ও তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কথা বলেছেন।

শত্রুর মুখে সৈন্যদের ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

শুয়াইবা বন্দরের এই ঘটনা সৈন্যদের মনে এক গভীর অপরাধবোধ ও বিশ্বাসঘাতকতা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই ভাবছেন তারা নিহত সহকর্মীদের বাঁচাতে আরও কিছু করতে পারতেন কিনা।

আবার আহত সৈন্যরা অভিযোগ করেছেন, মার্কিন সামরিক চিকিৎসা ব্যবস্থা তাদের চরম অবহেলা করেছে।

বড় ক্ষোভের তীর জেনারেল বার্নস এবং তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জন হিনসনের বিরুদ্ধে। সৈন্যদের অভিযোগ, উভয়েই জানতেন যে শুয়াইবা বন্দরটি ইরানের সম্ভাব্য হামলার তালিকায় রয়েছে। এমনকি, ইন্টেলিজেন্সের স্পষ্ট সতর্কবার্তা এবং ড্রোন প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত ঘাঁটির দুর্বলতা অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও জেনারেলরা জোর করে সৈন্যদের সেখানে পাঠান।

এর পূর্বেও ২০২৪ সালে জর্ডানে অপর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে ইরানি প্রক্সিদের ড্রোন হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা ঘটেছিল, তবে শুয়াইবা বন্দরে সেই ভুল থেকে কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি। সেখানকার আকাশ থেকে নজরদারি এড়ানোর বা ড্রোন হামলা ঠেকানোর মতো কোনো ধরনের উপরের ছাউনি বা শেড ছিল না।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

এমনকি ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছিল, তখন এই দুই জেনারেলকে পরিষ্কার জানানো হয়েছিল যে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে খতম করা হলে তারা শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং যেকোনো মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালাবে।

এক সৈন্য জেনারেল বার্নসকে যুদ্ধে যাওয়ার আগে বলেছেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা বদলানো দরকার, এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ কিন্তু সেই কথায় কান দেওয়া হয়নি।

তীব্র যুদ্ধ শুরুর আগের দিনগুলোতে সৈন্যরা নিজেদের উদ্যোগে ঘাঁটির লাউডস্পিকার চালিত সতর্কসংকেত ব্যবস্থা চালু করেন। তবে তারা যখন ট্রাক-মাউন্টেড ড্রোন ডিফেন্স সিস্টেম ‘ঈগলস’ চেয়েছিলেন, তখন সেন্ট্রাল কমান্ড সম্পদের স্বল্পতা তুলে ধরে তা প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি সৈন্যরা সেখানে অস্ত্র ছাড়াই অবস্থান করছিলেন; তাদের সব স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র আরিফজান ঘাঁটির আর্মস রুমে রেখে আসা হয়েছিল।

হামলার সেই ভয়াবহ মুহূর্ত

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের

২৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১টা ১৫ মিনিটে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী যৌথভাবে ইরানের ওপর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ১,০০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। এতে ইরানও পাল্টা ড্রোন ও মিসাইল ছোড়ে।

১ মার্চ ভোর সাড়ে ৪টায় শুয়াইবা বন্দরে শেষবারের মতো সতর্কসংকেত বাজানো হয়। সৈন্যরা দীর্ঘ চার ঘণ্টা বাঙ্কারে কাটানোর পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং কাজের তাগিদে অনেকেই ‘অল ক্লিয়ার’ বা বিপদমুক্ত ঘোষণার আগেই মূল ভবনে ফিরে আসেন। সকাল ৯টা নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা দেওয়া হয় (যদিও পরবর্তীতে আর্মি তদন্তে এই ঘোষণার কোনো লিখিত লগ পাওয়া যায়নি)।

এর ঠিক ৩০ মিনিট পর, সকাল সাড়ে ৯টায় একটি একক ইরানি ‘শাহেদ’ আত্মঘাতী ড্রোন সোজা এসে ভবনের কেন্দ্রে আঘাত করে।

বাইরে থাকা দুই সৈন্য জানান, তারা এক ধরনের শোঁ শোঁ শব্দ শুনতে পান এবং তাঁরা তাকিয়ে দেখেন ড্রোনটি প্রায় খাড়াভাবে ভবনের ওপর আছড়ে পড়েছে। চোখের পলকে পুরো ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং লোহা, কাচ ও প্লাস্টিকের টুকরো এসে ঘরের ভেতরে থাকা সৈন্যদের শরীরকে ঝাঁঝরা করে দেয়।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বিস্ফোরণের ধাক্কায় হুলুস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাথায় স্প্লিন্টার বিদ্ধ হওয়ার সত্ত্বেও মেজর স্টিফেন রামসবটম ধোঁয়ার মধ্যে একের পর এক নিহত ও আহত সৈন্যদের টেনে বের করতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে কোনো জেনারেলকে দেখিনি। পরে শুনলাম জেনারেল হিনসনের মুখ দিয়ে প্রচুর রক্ত পড়ছিল এবং তারা বাঙ্কারের পাশে বসে ছিলেন।’

ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল কমান্ড তবে দাবি করেছে যে, জেনারেলরা আহত হয়েও মাঠপর্যায়ে সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়ার কাজে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন।

এই হামলায় মেজর কোডি এ. খোর্ক (৩৫), চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার রবার্ট এম. মারজান (৫৪), মাস্টার সার্জেন্ট নোয়া এল. টিটজেন্স (৪২), মাস্টার সার্জেন্ট নিকোল এম. আমোর (৩৯), সার্জেন্ট ডিক্লান জে. কোডি (২০) এবং মেজর জেফরি আর. ওব্রায়েন (৪৫) নিহত হন।

চিকিৎসার নামে চরম অবহেলা এবং ‘নিজেদের তদন্ত নিজেদের’ করার চেষ্টা

আহত সৈন্যরা কুয়েতের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়ে জার্মানির মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিখ্যাত ‘ল্যান্ডস্টুল রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টার’-এ পৌঁছান। তারা ভেবেছিলেন সেখানে উন্নত চিকিৎসা পাবেন। কিন্তু জার্মানিতে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাদের জানান, ফ্লাইটের মেনিফেস্টে বা ক্যাজুয়ালটি ডেটাবেজে তাদের নাম ‘গুরুতর আহত’ বা ‘মেডিকেল ইভাকুই’ হিসেবে নথিভুক্তই করা হয়নি! ফলে হাসপাতালটি তাদের ভর্তি করতে অস্বীকার করে এবং কেবল বহির্বিভাগের রোগী হিসেবে ব্যান্ডেজ বেঁধে ব্যারাকে পাঠিয়ে দেয়।

সেন্ট্রাল কমান্ড তবে এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, থিয়েটারেই তাদের ক্ষতের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছিল এবং তারা নিয়মিত চিকিৎসা পেয়েছেন।

এদিকে, এই ট্র্যাজেডির তদন্তের জন্য জেনারেল হিনসন প্রথমে অধীনস্থ এক মাঝারি পদের কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন, যা সৈন্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে। সৈন্যরা মনে করেছিলেন, নেতৃত্ব নিজেদের দোষ ঢাকতেই এই ‘নিজেদের লোক দিয়ে তদন্ত’ করাচ্ছেন।

পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই তদন্তভার আর্মি সেন্ট্রাল কমান্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হাতে ন্যস্ত করা হয়।

তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদন করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্যাট্রিক ফ্রাঙ্ক (যিনি বর্তমানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জেনারেল)। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, এই তদন্ত প্রতিবেদনে হামলার জন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়নি। এটি কবে নাগাদ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, তাও স্পষ্ট নয়।

জার্মানিতে এক সপ্তাহ কাটানোর পর আহত ও বেঁচে যাওয়া সৈন্যরা যখন আমেরিকার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠছিলেন, তখন তাদের ব্যাগেজ ওজন করার সময় দেখা যায় ব্যাগের সংখ্যা অনেক বেশি। এক সৈন্য অশ্রুভেজা চোখে বলেন, ‘আমরা আমাদের সেইসব ভাইদের জিনিসপত্রও বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম, যারা আর কোনোদিন আমাদের সঙ্গে ফিরে যাবে না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাকার বিনিময়ে ননস্টপ সুবর্ণ এক্সপ্রেস থেকে মাঝপথে যাত্রী নামানোর অভিযোগ, আহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ এম


টাকার বিনিময়ে ননস্টপ সুবর্ণ এক্সপ্রেস থেকে মাঝপথে যাত্রী নামানোর অভিযোগ, আহত ১

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ননস্টপ সুবর্ণ এক্সপ্রেসে অর্থের বিনিময়ে যাত্রী বহন এবং পরে মাঝপথে চলন্ত ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিচে নামার সময় একজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৫ মিনিটে ট্রেনটি আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের তিতাস সেতু এলাকায় পৌঁছালে জরুরি চেইন (এসিপি) টেনে ট্রেনের গতি কমানো হয়। এরপর গার্ড ব্রেকের দিক থেকে তিনজন যাত্রীকে নিচে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় একজন পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতি ৪০০ টাকা করে মোট ১,২০০ টাকার বিনিময়ে ওই তিনজনকে ট্রেনে তোলা হয়েছিল এবং নির্ধারিত স্টেশন ছাড়াই মাঝপথে নামিয়ে দেওয়া হয়।
তবে টাকার বিনিময়ে যাত্রী বহন ও নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা ট্রেন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থাইল্যান্ডে মিলল ১৫ কোটি বছর আগের ডাইনোসরের জীবাশ্ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ এম


থাইল্যান্ডে মিলল ১৫ কোটি বছর আগের ডাইনোসরের জীবাশ্ম

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কালাসিন প্রদেশে একটি নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন দেশটির জীবাশ্মবিদরা। এই উদ্ভিদভোজী ডাইনোসরের নাম উরাগাসরাস কালাসিনেনসিস (Uragasaurus kalasinensis), যা প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে জুরাসিক যুগে পৃথিবীতে বিচরণ করত বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।

গবেষকদের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে, ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ মিটার বা ৬৬ ফুট ছিল, যা একটি ক্রিকেট পিচের সমান। এর সবচেয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল অস্বাভাবিকভাবে লম্বা ঘাড়।

২০০৮ সালে ফু নোই এলাকায় স্থানীয় একটি ব্যক্তি জীবাশ্মটি খুঁজে পাওয়ার পর অনুসন্ধানের শুরু হয়। পরে সেখানে ডাইনোসরের দাঁত, হাড় এবং বিপুল পরিমাণে জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়। একটি কশেরুকার বিশেষ গঠন বিশ্লেষণ করে নতুন প্রজাতিটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন গবেষকরা।

সিটি স্ক্যানে দেখা গেছে, এটি দীর্ঘ ঘাড়বিশিষ্ট ম্যামেনচিসোরিডি পরিবারের সদস্য। উল্লেখযোগ্যভাবে, এ পরিবারের জীবাশ্ম এতদিন মূলত চীনে পাওয়া গেলেও থাইল্যান্ডে এটিই প্রথম।

গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, ডাইনোসরটির হাড়ের গঠন বিশ্বের অন্য কোনো পরিচিত ডাইনোসরের সঙ্গে মেলে না। এ অনন্য বৈশিষ্ট্যে ভিত্তি করেই এটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, গত মে মাসেও থাইল্যান্ডে আরেকটি দীর্ঘ ঘাড়ের তৃণভোজী ডাইনোসর নাগাটাইটান-এর জীবাশ্ম আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই ডাইনোসরটি ২৭ মিটার দীর্ঘ ও প্রায় ২৭ টন ওজনের হওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় ডাইনোসর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলাবদ্ধতার মধ্যেও রাজধানীতে দায়িত্ব পালন করছেন ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ এম


জলাবদ্ধতার মধ্যেও রাজধানীতে দায়িত্ব পালন করছেন ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশ

টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক পুলিশ জনসেবায় এক মুহূর্তের জন্য থেমে নেই। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

তারা একদিকে যেমন যান চলাচলকে স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য তাদের সহায়তা প্রদান করছেন। একইসময়, সড়কে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে তারা ড্রেনের মুখ পরিষ্কার করেছেন, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করছেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে লিপ্ত আছেন।

ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশের এই মানবিক ও দায়িত্বরত কার্যক্রমের ফলে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও রাজধানীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। জনসেবায় নিবেদিত ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশ, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও রাজধানীবাসীর পাশে থেকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক নগরজীবন নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বামীকে তালাকের পর প্রেমিককে বিয়ে, তারপর যা ঘটল..........

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ এম


স্বামীকে তালাকের পর প্রেমিককে বিয়ে, তারপর যা ঘটল..........

মাদারীপুরে দুই বছর আগে স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর প্রেমিককে বিয়ে করলেও, এখনো স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়ায় তিনি স্বীকৃতির দাবিতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন।

জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নে পখিরা গ্রামের হানিফ চৌকিদারের মেয়ে রানী আক্তার এবং পার্শ্ববর্তী মধ্যচক গ্রামের আয়নাল খানের ছেলে স্বপন খানের মধ্যে একটি ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু রানীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার।

রানী আক্তার অভিযোগ করেছেন, স্বপন খান শ্বশুর বাড়িতে কুৎসা রটিয়ে তার সংসারটি ভেঙে দিয়েছেন। পরে তিনি ২০২৪ সালের ২০ মে রাজধানীর খিলক্ষেতের একটি কাজী অফিসে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে তাকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই সক্রিয়ভাবে স্বপন তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নানা টালবাহানা করতে শুরু করেন। বহু চেষ্টা সত্ত্বেও সমাধান না পেয়ে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর থেকে বিষের বোতল নিয়ে স্বপনের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেন রানী।

গণমাধ্যমকে রানী আক্তার জানান, ২০২৩ সালে তার আগের স্বামীর কাছে মিথ্যা অভিযোগ এনে সংসার ভেঙে দিয়েছেন স্বপন। এরপর ২০২৪ সালে গোপনে স্বপনের সঙ্গে বিয়ে করেন। তার বড় ভাশুর (স্বপনের বড় ভাই) লিবিয়ায় ধরা পড়ার পর, স্বামী ও শাশুড়ি (স্বপন ও তার মা) তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেন।

তিনি আরও বলেন, এখন স্বপনের পরিবার তার স্বামীকে গোপনে বিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। স্বামী তাকে বলেছেন, তাকে বাড়িতে নিলে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু রানী বলছেন, "আমি তো প্রেমিকা না, বিয়ে করা বউ। আমি স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই।" এর আগে তিনি স্থানীয় মেম্বারের কাছে বিচার দাবি করলেও কোনো ফল পাননি। তিনি বলেছেন, "যদি সঠিক বিচার না পাই, তাহলে এই বাড়িতে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব।"

স্বপন খানের মা এবং তার পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের ছেলে ও রানীর ৫ বছরের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু তারা জানতেন না। তারা এখন ছেলের জন্য বিয়ে ঠিক করছেন এবং রানী বলছেন যে তিনি তাকে বিয়ে করছেন। তারা আরও বলেন, "গোপনে বিয়ে করে থাকলে আমার ছেলে ওই মেয়ের সঙ্গে যেখানে মন চায়, সেখানে গিয়েই থাকবে। ওই মেয়ে এই বাড়িতে আসবে কেন? এটি স্বপনের বাড়ি না।"

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ বিষয়ে যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%