প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরে দুই বছর আগে স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর প্রেমিককে বিয়ে করলেও, এখনো স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়ায় তিনি স্বীকৃতির দাবিতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন।
জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নে পখিরা গ্রামের হানিফ চৌকিদারের মেয়ে রানী আক্তার এবং পার্শ্ববর্তী মধ্যচক গ্রামের আয়নাল খানের ছেলে স্বপন খানের মধ্যে একটি ৫ বছরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু রানীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার।
রানী আক্তার অভিযোগ করেছেন, স্বপন খান শ্বশুর বাড়িতে কুৎসা রটিয়ে তার সংসারটি ভেঙে দিয়েছেন। পরে তিনি ২০২৪ সালের ২০ মে রাজধানীর খিলক্ষেতের একটি কাজী অফিসে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে তাকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই সক্রিয়ভাবে স্বপন তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নানা টালবাহানা করতে শুরু করেন। বহু চেষ্টা সত্ত্বেও সমাধান না পেয়ে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর থেকে বিষের বোতল নিয়ে স্বপনের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেন রানী।
গণমাধ্যমকে রানী আক্তার জানান, ২০২৩ সালে তার আগের স্বামীর কাছে মিথ্যা অভিযোগ এনে সংসার ভেঙে দিয়েছেন স্বপন। এরপর ২০২৪ সালে গোপনে স্বপনের সঙ্গে বিয়ে করেন। তার বড় ভাশুর (স্বপনের বড় ভাই) লিবিয়ায় ধরা পড়ার পর, স্বামী ও শাশুড়ি (স্বপন ও তার মা) তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেন।
তিনি আরও বলেন, এখন স্বপনের পরিবার তার স্বামীকে গোপনে বিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। স্বামী তাকে বলেছেন, তাকে বাড়িতে নিলে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু রানী বলছেন, "আমি তো প্রেমিকা না, বিয়ে করা বউ। আমি স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই।" এর আগে তিনি স্থানীয় মেম্বারের কাছে বিচার দাবি করলেও কোনো ফল পাননি। তিনি বলেছেন, "যদি সঠিক বিচার না পাই, তাহলে এই বাড়িতে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব।"
স্বপন খানের মা এবং তার পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের ছেলে ও রানীর ৫ বছরের সম্পর্ক ছিল, কিন্তু তারা জানতেন না। তারা এখন ছেলের জন্য বিয়ে ঠিক করছেন এবং রানী বলছেন যে তিনি তাকে বিয়ে করছেন। তারা আরও বলেন, "গোপনে বিয়ে করে থাকলে আমার ছেলে ওই মেয়ের সঙ্গে যেখানে মন চায়, সেখানে গিয়েই থাকবে। ওই মেয়ে এই বাড়িতে আসবে কেন? এটি স্বপনের বাড়ি না।"
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ বিষয়ে যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন