ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অভয়নগরের অন্ধ ইমাম আকবরের জীবনে ২ হাজার টাকায় সংসার চালাতে অভাবের দীর্ঘশ্বাস


অভয়নগরের অন্ধ ইমাম আকবরের জীবনে ২ হাজার টাকায় সংসার চালাতে অভাবের দীর্ঘশ্বাস

নওয়াপাড়া বাজারে প্রতিদিন হাজারো মানুষের ব্যস্ত চলাচল লক্ষ্য করা যায়। কেউ বাজার করতে আসছেন, কেউ কর্মস্থলে ছুটছেন। এই ব্যস্ততার মাঝে হাফেজ ইমাম আকবর আলী (৫৫) নীরবে মানুষের কাছে সহায়তা প্রার্থনা করেন। তিনি জন্মগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, কিন্তু তাঁর পরিচয় শুধুমাত্র এটুকু নয়—তিনি একজন ইমাম। প্রতিদিন মসজিদে দাঁড়িয়ে অন্যদের নামাজ পড়ান এবং ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করেন। তবে, নিজের সংসারের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে তাঁকে মানুষের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।

অভয়নগর উপজেলার চাপাতলা এলাকার শালবাগানের বাসিন্দা আকবর আলী। তাঁর বাবা আজগর আলী মোল্লা। আকবর আলী চেঙ্গুটিয়া কাঁচা বাজার মসজিদে ইমামতি করেন। মসজিদ থেকে মাসে তাঁর সম্মানী মাত্র ২ হাজার টাকা। এই সামান্য আয়েই তিনি স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করেন।

আকবর আলীর দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ছোট সংসার চালান। তবে সংসার ছোট হলেও প্রয়োজন তো থেমে থাকে না। প্রতিদিনের খাবার, ওষুধ, পোশাকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ২ হাজার টাকা কোনভাবেই যথেষ্ট নয়। ফলে মসজিদের দায়িত্ব পালন শেষে প্রয়োজনের তাগিদে তাঁকে নওয়াপাড়া বাজারে মানুষের কাছে সহায়তা চাইতে হয়।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও কারখানা খোলার দাবিতে বিক্ষোভ

এটি তাঁর কাছে আনন্দের বিষয় নয়। বরং প্রয়োজনের কাছে আত্মসমর্পণের মতো মনে হয়। কারও কাছে কিছু চাইতে তাঁরও নিশ্চয়ই কষ্ট হয়। কিন্তু পেটের দায়, সংসারের প্রয়োজন এবং সীমাবদ্ধ জীবনযাপন তাঁকে সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।

দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে আকবর আলীর আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। প্রতিদিন মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ান তিনি। অন্যের জীবনে আলোর পথ দেখানোর দায়িত্ব পালন করলেও নিজের জীবনের অভাবের অন্ধকার কাটাতে পারছেন না।

চেঙ্গুটিয়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম বলেন, “আকবর আলী দীর্ঘদিন ধরে ইমামতি করছেন। তাঁর অবস্থা খুবই কষ্টের। মাত্র ২ হাজার টাকা সম্মানী দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়। প্রয়োজনের কারণেই তাঁকে মানুষের সহায়তা নিতে হয়।”

কলেজ শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, আকবর আলীর জীবন অনেকটা পরিচিত। তাঁকে কেউ করুণার চোখে দেখতে চান না। বরং তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করা এই মানুষটির জন্য এমন একটি ব্যবস্থা হওয়া প্রয়োজন, যাতে তাঁকে সংসারের খরচ জোগাতে মানুষের কাছে যেতে না হয়।

আরও পড়ুন: চরকাউয়ায় সুদ ও তাবিজ বিতর্কে মসজিদের ইমাম: পরিবর্তনের দাবি

আকবর আলীর কষ্টের জায়গাটা এখানেই—তিনি কাজ করতে চান, দায়িত্ব পালন করতে চান, নিজের সম্মান নিয়েই স্ত্রীকে নিয়ে বাঁচতে চান। কিন্তু জন্মগত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা এবং সামান্য সম্মানীর কারণে তাঁর সেই পথটি কঠিন হয়ে উঠেছে।

তাঁর জীবনের এই গল্প তাই করুণার নয়, দায়িত্ববোধেরও। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষ সম্মিলিতভাবে পাশে দাঁড়ালে হয়তো তাঁর জীবনের এই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমতে পারে। মানুষের কাছে সহায়তার জন্য হাত বাড়ানোর বদলে ইমাম আকবর আলী যেন নিজের দায়িত্ব পালন করেই স্ত্রীকে নিয়ে একটু স্বস্তি ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারেন—এটাই হতে পারে তাঁর প্রতি সবচেয়ে বড় সহমর্মিতা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিরাইয়ের পূর্বাঞ্চলের হাওরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষক, ব্যাহত নৌকা চলাচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হামিদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


দিরাইয়ের পূর্বাঞ্চলের হাওরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষক, ব্যাহত নৌকা চলাচল

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন হাওরের পানি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ার ফলে কৃষক ও হাওরপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পানি কমে যাওয়ার কারণে নৌকা চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি আগামী কৃষি মৌসুমে ধানের চারা লাগানোর বিষয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হাওরের পানি যদি এভাবে কমতে থাকে, তাহলে অনেক জমি দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। এর ফলে প্রয়োজনীয় সময়ে জমিতে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কৃষকদের জন্য ধানের চারা রোপণ ও জমি প্রস্তুতের কাজেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, যদি সময়মতো পানি না পাওয়া যায়, তাহলে জমিতে পানির সংকট সৃষ্টি হবে এবং ধানের চারা লাগাতে তাদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হবে। বিশেষ করে হাওরনির্ভর কৃষকদের জন্য বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, হাওরের পানি কমে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন নৌপথে নৌকা চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। হাওরের অগভীর অংশে নৌকা চলাচলে সমস্যা হওয়ায় কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষিপণ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

হাওরপাড়ের কৃষকরা বলছেন, কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পানি নিশ্চিত করা না গেলে সঙ্কট আরও বাড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি মুহিদ ৪ দিনের রিমান্ডে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি মুহিদ ৪ দিনের রিমান্ডে

সাতক্ষীরায় কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁনকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মুহিদ হাসান রণিকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এই আদেশটি সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মন্ডল প্রদান করেন।

মুহিদ হাসান বণি (২০) সাতক্ষীরা শহরতলীর ইটাগাছার ফিরোজউদ্দিনের সন্তান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ শনিবার ভোরে মুহিদ হাসান রণিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। বুধবার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার পর তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট অজয় কুমার সরকার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিএসআই মাজাহারুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার অফিসের প্রধান ফটকের পাশে চায়ের দোকানের মালিক রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে বিরোধের কারণে নাহিদসহ কয়েকজন তাকে মারপিট করে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে নাহিদের ছুরিকাঘাতে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ফলপ্রত্যাশী জাকারিয়া মারা যায়।

এই ঘটনার পর নিহতের ভাই শাহারিয়ার খাঁন বাদি হয়ে শনিবার রাতে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাত জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান এবং তার সহযোগী অমিত হাসান শিপনকে মঙ্গলবার ভোরে কালিগঞ্জের শুইলপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে নতুন ভোটার হতে ফর্ম ৬: নির্বাচন কমিশনের আইনি বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


ভারতে নতুন ভোটার হতে ফর্ম ৬: নির্বাচন কমিশনের আইনি বিতর্ক

ভারতে ২০২৫ সালের জুনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে এর বাস্তবায়ন নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। প্রক্রিয়াটি কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং কত দ্রুত তা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন।

ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আনা এবং ভোটার তালিকা থেকে কিছু নাম বাদ দেওয়ার মতো বিষয়েও তারা আপত্তি নথিভুক্ত করেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) মামলার শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান, ভোটার তালিকার সংশোধনে ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ কোনো পরিবর্তন অনুমোদন করেনি সুপ্রিম কোর্ট।

ভারতে এসআইআর নিয়ে চলমান বিরোধ এখন আইনি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্তের দাবিতে একটি আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলছে। তবে ফর্ম ৬ কী এবং এটি নিয়ে বিরোধের কারণ কী, তা নিয়ে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই। এসআইআর প্রক্রিয়া ও ফর্ম ৬ ঘিরে পুরো বিষয়টি কী, তা সহজভাবে তুলে ধরা হলো পাঠকের জন্য।

ফর্ম ৬ কী?

ফর্ম ৬ হলো ভারতের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের আবেদনপত্র। যারা ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তুলতে চান, তারা এই ফর্ম ব্যবহার করেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর আবার নাম অন্তর্ভুক্ত করতেও এই ফর্মে আবেদন করা যায়।

ফর্ম ৬-এ আবেদনকারীর নাম, বয়স, ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হয়। পাশাপাশি নিজের বসবাসের ঠিকানা ও নাগরিকত্বের বিষয়ে তথ্য এবং অন্য কোনো জায়গার ভোটার তালিকায় আগে থেকেই নাম আছে কি না, সে বিষয়েও ঘোষণা দিতে হয়।

এই ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কটা কী?

অনলাইন নিবন্ধনের সময় একটি অতিরিক্ত ঘোষণার প্রয়োজন হওয়ায় এই ‘ফর্ম ৬’ নিয়ে একটি বিতর্ক শুরু হয়েছে। জুলাই মাসে প্রকাশিত নতুন ফর্ম ৬-এ আবেদনকারীদের তিনটি বিবৃতির মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে বলা হয়েছে-

১) ২০০০-এর দশকের শুরুতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ এসআইআর-এর সময় তাদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল কি না।

২) সেই তালিকায় তাদের বাবা-মা বা দাদা-দাদি/নানা-নানির নাম ছিল কি না।

৩) সেই তালিকায় তাদের নিজেদের বা তাদের বাবা-মায়ের নাম ছিল কি না।

নতুন এই ঘোষণাটি ফর্মে বাধ্যতামূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এটি পূরণ না করলে অনলাইনে ফর্ম জমা দেওয়া যায় না। নির্দেশিকায় আরো বলা হয়েছে, এই ঘোষণায় মিথ্যা তথ্য দিলে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ ধারায় শাস্তি হতে পারে।

ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন নিয়ে কেন বিতর্ক?

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফর্ম ৬-এ নতুন একটি ঘোষণা যোগ করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের মতে, নিয়মে প্রয়োজনীয় সংশোধন না করে ফর্মে এ ধরনের পরিবর্তন আনা যায় না।

ভারতের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনী ফর্মসংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তনের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়। ফর্ম ৬ যেহেতু ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত বিধির অংশ, তাই এতে পরিবর্তন আনতে নিয়ম সংশোধনের প্রয়োজন হয়।

তবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফর্ম ৬-এ নতুন ঘোষণা যোগ করার সময় এ ধরনের কোনো সংশোধনী বা গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। এ কারণে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু পরিবর্তনটিকে ‘অননুমোদিত’ ও ‘অবৈধ’ বলে আপত্তি জানান এবং তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন।

নতুন ঘোষণায় আবেদনকারীর নিজের বা তাঁর বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদির নাম আগের এসআইআর-এর ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হচ্ছিল। থাকলে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা, বুথ ও ক্রমিক নম্বরের তথ্যও দিতে বলা হয়।

বিরোধীদের অভিযোগ, এই অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার কারণে বিশেষ করে প্রথমবারের ভোটারদের জন্য ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়া আরো কঠিন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ।

ফর্ম ৬-এর নতুন ঘোষণা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

নতুন এই ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে নির্বাচন কমিশন অনলাইন ফর্ম ৬ থেকে এটি সরিয়ে দেয়। যেসব রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, সেখানে ঘোষণাটি আর রাখা হয়নি। তবে যেসব রাজ্যে এসআইআর এখনো চলছে, সেসব জায়গায় এটি অনলাইন ফর্মে ছিল।

২৬ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশন জানায়, এসআইআর-এর সময় ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত করা এই ঘোষণাকে সুপ্রিম কোর্টের মে মাসের রায়ে সমর্থন করা হয়েছে। কমিশন আরো জানায়, এসআইআর শেষ হলে ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী আগের ফর্মই ব্যবহার করা হবে।

তবে পরে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন ওঠে। ৫ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট করে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ফর্ম ৬-এর এই পরিবর্তন অনুমোদন করেনি। আদালত এখন নির্বাচন কমিশনের নথি দেখে জানতে চায়, ফর্মে কী পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং তা কে করেছিলেন।

অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ছিল, এসআইআর-এর জন্য যুক্ত করা ঘোষণাটি আদালতের রায়ে সমর্থিত। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই নির্দিষ্ট পরিবর্তনকে আদালত অনুমোদন করেনি। এ নিয়েই এখন মূল বিতর্ক।

ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী বলেছে?

ফর্ম ৬-এ নতুন ঘোষণা যুক্ত করা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিষয়টি পরিষ্কার করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, ফর্ম ৬-এর কোনো পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি।

তিনি বলেন, ‘কোনো পরিবর্তিত ফর্ম ৬ আমাদের দ্বারা অনুমোদিত হয়নি। বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক। নথি আদালতে জমা পড়লে আমরা দেখব, কে এটি পরিবর্তন করেছে।’ সুপ্রিম কোর্টের এই বক্তব্যের পর নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও কমিশনের সমালোচনা আরো জোরালো হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একতরফাভাবে ফর্ম ৬ পরিবর্তন করেছেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে।

কমিশনের এক ‘ফ্যাক্ট চেক’-এ বলা হয়েছে, বিহারের এসআইআর-সংক্রান্ত আদেশ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে জারি করা হয়েছিল এবং ২৭ মে ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট তা বহাল রেখেছে। কমিশন আরো দাবি করেছে, এসআইআরের সময় ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যে ঘোষণা যুক্ত করা হয়েছিল, সেটিও সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বহাল রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলকে আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলকে আহ্বান

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলকে আহ্বান জানিয়েছেন ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট'-এর (আইইউপিএইচপিএসপি) অধীনে কার্যক্রমসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে ‘ক্রিস্টোফ লেমিয়ের’ (Christophe Lemiere)-এর নেতৃত্বে আগত বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের পরামর্শকদের বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরা হয়।

‘ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট’-টি মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে— মশক ও বাহকবাহিত রোগ (ভেক্টর) নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতাল-বহির্ভূত (আউটহাউস) মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দাবদাহ, বায়ু ও শব্দদূষণসহ জনস্বাস্থ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা, আচরণগত পরিবর্তনমূলক যোগাযোগ কৌশলের মাধ্যমে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসংক্রামক রোগ হ্রাসে প্রয়োজনীয় সুবিধা তৈরি করা।

প্রকল্পটির আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা সংলগ্ন সাভার ও তারাব পৌরসভা।

প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে নগরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক দুটি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদলকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%