মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
০৫:৩৭ পি.এম
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার একটি পাহাড়ি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে মহালছড়ি উপজেলার ২৪ মাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মহালছড়ি যৌথ খামার ও মুড়া পাড়ার মাঝামাঝি এলাকায়, মহালছড়ি সরকারি কলেজের বিপরীত পাশে পাহাড়ি সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরের জঙ্গলে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে মহালছড়ি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত নারী স্থানীয় কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য হতে পারেন। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা জহির উদ্দিন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির পর ঘটনাটির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে চলতি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর লন্ডনে মরক্কোর সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। এ ঘটনায় মোট অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্কাই নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের এজওয়্যার রোড এলাকায় বিপুলসংখ্যক মরক্কো সমর্থক জড়ো হয়ে যান। তাদের মধ্যে কিছু সমর্থক গাড়ির ওপর উঠে পড়েন, আতশবাজি ও ফ্লেয়ার জ্বালান এবং সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করে মেট্রোপলিটন পুলিশ।
মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, প্রাথমিকভাবে সড়কে যানজটের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর মরক্কোর সমর্থকরা বোতল ছোড়া ও আতশবাজি ফোটানো শুরু করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর ফলে একজন কর্মকর্তা কাচের বোতলের আঘাতে মাথায় আহত হন। পরবর্তীতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, রাত ১টার দিকে সমর্থকরা সরে গেলে সড়কটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
এদিকে এই কোয়ার্টার ফাইনালকে ঘিরে আগে থেকেই ফ্রান্স সরকার সারা দেশে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছিল, যাদের মধ্যে প্যারিসে ছিল আট হাজার সদস্য। তবে ম্যাচ শেষে প্যারিসে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের আসরে ব্রাজিলের ব্যর্থতার কারণে কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে বিদায় দেওয়ার দাবি জানালেন বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ভরাডুবি ও লজ্জাজনক পরিস্থিতির পর কার্লোকে কোনোভাবেই প্রধান কোচের দায়িত্বে দেখতে চান না তিনি। হলুদ উৎসব বিশ্বকাপের শীর্ষ ষোলোতেই থেমেছে। ২৩তম আসরের রং কিছুটা হলেও ফিকে হয়েছে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিদায়ে। ২০০২ সালে শিরোপা জয়ের পর থেকে আর আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের দেখা নেই। গেল কয়েক আসরের তুলনায় এবার বেশ আগেভাগেই বেজেছে বিদায়ঘণ্টা।
অর্থচ দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ সামনে রেখে কত কাঠখড় পুড়িয়ে কার্লো আনচেলত্তিকে কোচ হিসাবে নিয়োগ দিয়েছিল ব্রাজিল। চিরায়ত প্রথা ভেঙ্গে ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ডকে কোচ বানানোর সিদ্ধান্ত নেয় সিবিএফ। আনচেলত্তির হাত ধরে শিরোপাখরা কাটানোর আশায় ছিল সেলেসাওরা। কিন্তু আগেভাগেই বাদ পড়ায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বকাজয়ী সাবেক তারকা ফুটবলার রোমারিও এবার সে সমালোচনার আগুনে ঘি ঢাললেন।
রোমারিওর অভিযোগ, কার্লোর প্রতি তাঁর সব ক্ষোভ। যদিও ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্লোর সঙ্গে চুক্তি রয়েছে, তবুও রোমারিও চান এই ইতালিয়ানকে এখনই বিদায় করা হোক।
রোমারিও বলেন, ‘আমি যদি ফেডারেশনে থাকতাম, তবে তার চুক্তি ছিড়ে ফেলে বলতাম এখনই বিদায় হন। প্রয়োজনে আদালতে যান। সেখানেই আমরা বিষয়টি সুরাহা করব। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের দুঙ্গা ছিল, সে হেরেছে এবং চলে গেছে। আমাদের ফেলিপে স্কলারি ছিল, সে বিশ্বকাপ জিতেছে এবং থেকে গেছে। তিতে এসেছিল। যখন সাফল্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে চলে গেছে। আর ব্যর্থতার পরেও আনচেলত্তি বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে। ব্রাজিলের পরিবর্তন চাইলে এই কোচকে বিদায় করতেই হবে। এমন ভরাডুবির পর সে কোনোভাবেই কোচের পদে থাকার যোগ্যতা রাখে না।’
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের একাদশ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রোমারিও। তিনি বলেন, ‘গিমারেসকে তুলে নিয়ে এদেরসনকে রাইটব্যাকে খেলানো হলো। একজন ফুলব্যাক চোট পেলো আর আপনি সেখানে একজন সেন্টারব্যাককে নামিয়ে দিলেন। অনেক ক্ষেত্রেই তার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার জন্য তার যথেষ্ট দায় রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক পানাম নগরীর প্রবেশপথে ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন সেতুটি আগের নকশা ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ কর্মসূচি শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে পানাম নগরীতে ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’র উদ্যোগে পালিত হয়।
মানববন্ধনে কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুগ্ম আহ্বায়ক, সাংবাদিক ও লেখক মিজানুর রহমান। এতে বক্তব্য দেন সাপ্তাহিক সোনারগাঁও পরিক্রমার প্রধান সম্পাদক আরিফুর রহমান, কমিটির সদস্য সচিব, লেখক ও সাংবাদিক রবিউল হুসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি ও সংগঠক রহমান মুজিব, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতনের সভাপতি আসমা আখতারীসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, পানাম নগরীর প্রধান প্রবেশপথে এটি ছোট হলেও অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন সেতু ছিল। আসলে সেতুটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যমই নয়, বরং পানাম নগরীর স্থাপত্য ঐতিহ্য ও নান্দনিক সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে ২০০১ সালের পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে সেতুটি ভেঙে ফেলা হলে, এতে পানাম নগরী তার গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহ্য হারায়।
তারা আরও বলেন, সেতুটির ওপর দাঁড়িয়ে একসঙ্গে পানাম নগরীর সারিবদ্ধ প্রাচীন ভবন, চারপাশের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যেত। বিশেষ করে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্যও এটি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। সেতুটি ধ্বংস হওয়ার পর পানাম নগরীর ঐতিহাসিক পরিবেশ ও সৌন্দর্যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
বক্তারা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল পানাম নগরীর হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রাচীন সেতুটি পুরোনো নকশা, নির্মাণশৈলী ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা প্রয়োজন। এর ফলে পানাম নগরীর ঐতিহাসিক স্বকীয়তা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পও আরও সমৃদ্ধ হবে।
মানববন্ধন শেষ হওয়ার পর অংশগ্রহণকারীরা পানাম নগরী এলাকায় একটি র্যালি বের করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) মিরপুর-১০ মেট্রো রেল স্টেশনের গ্রাউন্ড লেভেলে অবৈধ দখল উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। এই সময়ে ডিএমটিসিএলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলী, মো. জাহিদুল ইসলাম এবং নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে ডিএমটিসিএলের সাথে ছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), র্যাব, ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ আনসার, ডেসকো, ওয়াসা এবং এমআরটি পুলিশ। এছাড়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন এবং ডিএমটিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু হাসান সিদ্দিকও উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অভিযানকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করেছে।
অভিযানের সময় স্টেশনসংলগ্ন এলাকার অবৈধ দখল অপসারণের মাধ্যমে যাত্রী চলাচল ও নিরাপত্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল, সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রতি সতর্ক করা হয়েছে যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ