ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তীব্র তাপদাহে যুক্তরাজ্যে প্রাণ গেল ২৭০০ জনের


তীব্র তাপদাহে যুক্তরাজ্যে প্রাণ গেল ২৭০০ জনের

যুক্তরাজ্যে মে এবং জুন মাসে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপদাহের ফলে দেশটিতে ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত ওই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানান, ২১ থেকে ২৯ মে-র মধ্যে তাপদাহের কারণে ৫৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় দুই হাজার ২০০ জন।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, মেট অফিস এবং লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকরা আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য, জলবায়ু মডেল এবং চরম আবহাওয়াকালীন অতিরিক্ত মৃত্যুর ওপর করা বিভিন্ন গবেষণার পর এমস তথ্য জানিয়েছে।

দেশটির স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহের সময়ের মৃত্যুর রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে তারা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাপজনিত মৃত্যুর বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করবে।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ

চলতি বছরে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বড় অংশে ইতোমধ্যে দুটি রেকর্ড-ভাঙা তাপপ্রবাহের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ডে তাপমাত্রা মে মাসে ৩৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুন মাসে ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল।

মেট অফিসের জলবায়ু অ্যাট্রিবিউশন (জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণকারী) দলের বিজ্ঞান ব্যবস্থাপক মার্ক ম্যাকার্থি বলেন, যুক্তরাজ্য এবং পশ্চিম ইউরোপের সব অঞ্চলের জন্য এগুলো ছিল একটি চরম মাত্রার তাপপ্রবাহ। বিশেষ করে বছরের কোন সময়ে এবং কতটা আগেভাগে এগুলো আঘাত হেনেছে, তার বিচারে এগুলো ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা।

বিজ্ঞানীরা তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র ও ঘন ঘন করে তোলার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন না থাকলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যতটা হতো, তার চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারকে পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থা ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটি’ গত বছরই সতর্ক করেছিল। সংস্থাটি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও পরিণতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য ‘প্রস্তুত নয়’। ইউকেএইচএসএ -এর ‘সেন্টার ফর ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ সিকিউরিটি’-র লিয়া বেরাং ফোর্ড বলেছেন, সোমবার প্রকাশিত এই গবেষণাটি ‘চরম তাপমাত্রাজনিত ঝুঁকির মাত্রা এবং আমাদের সুস্থতার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়তা করবে।

মে মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ৯২ শতাংশ বাড়ি অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠতে পারে। এতে আরও বলা হয়েছে, চরম আবহাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকারের উচিত কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নির্ধারণ করা এবং হাসপাতাল ও স্কুলের মতো সরকারি ভবনগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য বিনিয়োগের ওপর জোর দেয়া।

যুক্তরাজ্যে তাপজনিত মৃত্যুর বিষয়ে এই গবেষণাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তথ্য উপাত্তে দেখা গেছে, জুনের শেষভাগে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহের সময় মহাদেশজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

‘ইউরোমোমো’ যা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমর্থিত একটি নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, এই মৃত্যুগুলোর অধিকাংশই ঘটেছে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে; এই বয়সসীমার মধ্যে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯,০০০।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক

বিজ্ঞানীরা জুনে ইউরোপের ২৭টি দেশের জাতীয় মৃত্যুহার সংক্রান্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তাদের মতে, কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের মতো অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য কারণ ছাড়াই ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে ১০ হাজার ৬৫০টি অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে সম্ভবত তাপপ্রবাহই প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের ১৭০ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


ইরানের ১৭০ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত গত দু দিনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে যে, ইরানের প্রায় ১৭০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। মার্কিন বাহিনী বলছে, এসব হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের বিরুদ্ধে নেওয়া ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় এবং ধারাবাহিক সামরিক অভিযানগুলোর একটি।

এছাড়া সেন্টকম জানিয়েছে, সামরিক অভিযানটি আরও বৃহৎ আকারে পরিচালনা করা হতে পারে। হামলাগুলোর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া হবে।

এদিকে, গত দুদিন রাতের সামরিক অভিযানে তেহরানে অবস্থিত আইআরজিসি-র সদর দপ্তর এবং একটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বড় ধরনের হামলার বিষয়ে একাধিক অনির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া গেছে। এই অভিযানে আইআরজিসি প্রধান আহমাদ ওয়াহিদি নিহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে বর্তমানে এই তথ্যটি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর ৭ জুলাই চালানো প্রথম দফার অভিযানে দেশটির ৮০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

সেন্টকমের তথ্যমতে, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশে সক্রিয় আইআরজিসির ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানে আঘাত হেনেছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহন রুটে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরের রাতেই অভিযানের দ্বিতীয় ধাপটি পরিচালিত হয়; এতে মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে আরও প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

সেন্টকম জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি ইরানের হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এই হামলাগুলো করা হয়েছে। হামলায় মূলত ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র, নৌ-সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার উদ্দেশ্যে আঘাত হানা হয়েছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত যখন বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার গণ্ডি অতিক্রম করে বৃহত্তর আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে রূপ নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই সামরিক অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে কুয়েত, বাহরাইন ও অন্যান্য মিত্র দেশের ঘাঁটিও অন্তর্ভুক্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করে তুলেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আনা-নেওয়া হয়, এমন অবস্থায় সেখানে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তীব্র হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নতুন দল নয়, অপেক্ষায় জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড-আফগানিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নতুন দল নয়, অপেক্ষায় জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড-আফগানিস্তান

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বার্ষিক সভায় শিগিগির টেস্ট চ‍্যাম্পিয়নশিপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে তিন টেস্ট খেলুড়ে দেশ, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের এই প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।

স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় আইসিসি সভা শেষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ।

বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশসহ মোট নয়টি দেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা নয়ের বাইরে থাকা জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান সেখানে নেই। টেস্ট ক্রিকেটের প্রতিযোগিতায় এই তিন দেশকে যুক্ত করার বিষয়ে একটি জোরালো আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি আইসিসি।

এছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটকে ৫০ ওভার থেকে ৪০ ওভারে নামিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা ছিল। কিন্তু এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা।

একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সদস্যপদ স্থগিত রাখা হয়েছে। সদস্যপদ স্থগিত না করে সতর্ক করা হয়েছে ফ্রান্স ক্রিকেট বোর্ডকে। পাশাপাশি মরিশাস ক্রিকেট ফেডারেশনকে সহযোগী সদস্য হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি। ফলে সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা হলো ১১১টি, এর মধ্যে ১২টি পূর্ণ সদস্য এবং বাকি ৯৯টি সহযোগী সদস্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

স্পেনের বিপক্ষে ভ-য় পাচ্ছে না ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


স্পেনের বিপক্ষে ভ-য় পাচ্ছে না ফ্রান্স

বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে ফ্রান্স যথেষ্ট সমীহ করছে প্রতিপক্ষকে। তবে ফরাসি ডিফেন্ডাররা সেই সমীহকে ভয় বলতে রাজি নন। তাদের বিশ্বাস, যদি সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে পারে, তাহলে দিদিয়ে দেশমের দল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারবে।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় ফাইনাল উঠার লক্ষ্যে স্পেন ও ফ্রান্স মুখোমুখি হবে।

চলতি আসরে ফ্রান্স আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করেছে তারা, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল আক্রমণভাগ হিসেবে গড়ে উঠেছে। অপরদিকে, স্পেনও আক্রমণে পিছিয়ে নেই। লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল ছয় ম্যাচে ১১ গোল করেছে। তবে স্পেনের রক্ষণে শ্রেষ্ঠত্ব আরও স্পষ্ট। তারা ছয় ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে এবং পাঁচ ম্যাচে ক্লিনশিট রেখেছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও স্পেনের পক্ষে কথা বলছে। ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং উয়েফা নেশন্স লিগের সেমি-ফাইনালে স্প্যানিশদের কাছে ফ্রান্স হেরেছিল। তাই এখন সুযোগ পাচ্ছে দেশোঁর দল, বিশ্বকাপের সেমিতে সেই হতাশা কাটানোর জন্য।

ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী সুরে কথা বলেছেন ফরাসি সেন্টার-ব্যাক ইব্রাহিমা কোনাতে। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আপনি কাউকে ভয় পেতে পারেন না। আমরা সম্ভাব্য সেরা উপায়ে প্রস্তুতি নেব এবং আশা করি, দিনের শেষে ফল আমাদের পক্ষেই থাকবে।’

কোনাতে স্বীকার করেছেন স্পেনের শক্তির কথা, ‘তাদের দলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ভরপুর অনেক খেলোয়াড় আছে। আমরা শুধু একজনকে নিয়ে ভাবছি না। তবে লামিন ইয়ামাল অসাধারণ ফুটবলার।’

ফ্রান্সের আরেক সেন্টার-ব্যাক ম্যাক্সিম লাকোয়াও স্পেনকে যথেষ্ট সম্মান দেওয়ার কথা বলেছেন, কিন্তু তিনি জানিয়েছেন যে, ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। তিনি বলেছেন, ‘আমি ভয় শব্দটি ব্যবহার করব না। তবে তাদের মান সম্পর্কে আমরা ভালোভাবেই অবগত। কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছাড়া তারা সবগুলো ম্যাচ জিতেছে। তাদের দলে উচ্চমানের খেলোয়াড় আছে। আমরা তাদের সম্মান করি, তবে আমাদের লক্ষ্য জয়।’

চলতি বিশ্বকাপে লামিন ইয়ামাল এখনও নিজের সেরাটা প্রদর্শন করতে পারেননি। বর্তমান পর্যন্ত তার ঝুলিতে আছে একটি গোল। অন্যদিকে, স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিকেল ওইয়ারসাবাল চার গোল করেছেন।

তবুও ইয়ামালকে নিয়ে সতর্ক লাকোয়া। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সেরা উপায়ে রক্ষণ সামলানোর চেষ্টা করব। লামিন খুবই ভালো খেলোয়াড়। এই বিশ্বকাপে সে দেখিয়েছে, যেকোনো সময় প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলতে পারে। তাকে থামাতে প্রয়োজন সবকিছুই আমরা করার চেষ্টা করব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উচ্চশিক্ষায় ৫ শতাংশ কর হ্রাসে গুণগত মান বাড়বে: ইউজিসি চেয়ারম্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


উচ্চশিক্ষায় ৫ শতাংশ কর হ্রাসে গুণগত মান বাড়বে: ইউজিসি চেয়ারম্যান

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, সরকারের ৫ শতাংশ কর হ্রাসের সিদ্ধান্তকে উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় গবেষণা ইকো-সিস্টেম গড়ে তোলার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলি বলেছেন। আজ ইউজিসি থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর থেকে ৫ শতাংশ কর হ্রাস শুধুমাত্র একটি আর্থিক সুবিধা নয়, বরং এটি উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের একটি বড় আভাস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই সাশ্রয় হওয়া অর্থ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দক্ষতা উন্নয়ন, চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং মানসম্মত গবেষণার জন্য ব্যয় করবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখনও মূলত পাঠদাননির্ভর রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণায়ও নেতৃত্ব দেওয়া। মানসম্মত গবেষণা ছাড়া জাতীয় সমস্যার সমাধান এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি সহায়তা পায় না এমন ধারণা সঠিক নয়। গত অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার জন্য ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউজিসি সেইসব গবেষণায় সহায়তা অব্যাহত রাখবে, যা দেশের সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়ন করছে, এবং তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইউজিসি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য করেনা। উভয় ধারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ঘোষণা করে তিনি বলেছেন, জাতীয় গবেষণা রিপোজিটরি এবং সমন্বিত গবেষণা ইকো-সিস্টেম গড়ে তোলার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এটি গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ, তথ্য সংরক্ষণ এবং একই ধরনের গবেষণার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সহায়তা করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবে এবং দেশীয় শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকার উচ্চশিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রে স্থান দিয়েছে। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা, শিল্প এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, ইন্টার্নশিপ এবং উদ্যোক্তা তৈরির মতো বিষয়গুলো এখন জাতীয় অগ্রাধিকার।

তিনি সরকারি বিনিয়োগের চিত্র তুলে ধরে জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে দেশের ৫৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে গবেষণার জন্য ২৩৮ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন প্রকল্পসহ মোট ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে গবেষণা খাতে।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এপিইউবি’র সভাপতি মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন, ভাইস চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ এবং বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি, উপাচার্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%