০৪:১৬ পি.এম
দেশে বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের মজুত নিরাপদ সীমার চেয়ে প্রায় ১০ লাখ টন বেশি। সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগারগুলোর মজুত সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৩ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি গুদামগুলোতে চাল, গম ও ধান মিলিয়ে ফ্লোটিং মজুতসহ মোট ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৬৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে নিরাপদ খাদ্য মজুতের সর্বনিম্ন সীমা ছিল ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বর্ধিত জনসংখ্যা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রভাবের কারণে বর্তমানে নিরাপদ মজুতের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ লাখ টনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামের ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৬ মেট্রিক টন চাল এবং ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮৯ মেট্রিক টন গম মজুত রয়েছে। এছাড়া ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন ধান রয়েছে, যা মোট মজুতে চালের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফ্লোটিং চালের মজুত রয়েছে আরও ৮ হাজার ৭৩৫ মেট্রিক টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযানে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহ হয়েছে। সংগ্রহের মধ্যে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯৮ মেট্রিক টন ধান, ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল এবং ৭৬ হাজার ৮১৪ মেট্রিক টন আতপ চাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সময়ে ৫২৩ মেট্রিক টন গমও সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ২৩ দিনে দেশে প্রায় ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ১১ লাখ ৬৫ হাজার টন এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৩ লাখ ৯ হাজার ১৫০ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। সরকারি আমদানির মধ্যে চাল ৭ লাখ ৮৩ হাজার টন এবং গম ৩ লাখ ৮২ হাজার টন রয়েছে। বেসরকারি আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৯৪ হাজার টন চাল ও ১৫ হাজার ১৫০ টন গম। এ সময়ে খাদ্য সহায়তা হিসেবে আমদানি প্রয়োজন হয়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাজারে খাদ্যশস্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে মজুত ও সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান অত্যন্ত সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কৃষক ও চালকল মালিকদের সহযোগিতা এবং মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, সরকারি গুদামগুলোতে বর্তমানে চাল ও গমের পর্যাপ্ত ও নিরাপদ মজুত রয়েছে। এই মজুত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করবে। খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) গবেষণা পরিচালক ফিরোজ আল মাহমুদ বলেছেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যশস্যের মজুত ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। তিনি জানান, সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিতের পাশাপাশি খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগে সরকারি খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা ছিল প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন। এখন তা বেড়ে ২৭ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে এ সক্ষমতা ৩৪ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। জামাল হোসেন বলেন, এতদিন নিরাপদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হত ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমান সরকার বর্ধিত জনসংখ্যা এবং ‘সোশ্যাল সেফটি নেটওয়ার্ক’ বেড়ে যাওয়ায় নিরাপদ খাদ্য মজুতের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন