ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
পর্ব: ১

আদরের ছোঁয়া


আদরের ছোঁয়া

ভার্সিটিতে প্রথম পা দিয়েই কোনো সিনিয়রের গালে থাপ্পড় মারা কোনো ছেলেখেলা নয়। এটি বেশ সাহসিকতার পরিচয়। আর এই সাহসিকতার পরিচয় দিতে বুকের পাটা অনেক বড় হতে হয়, যা সবার মধ্যে থাকে না। সেই সাহসিকতার পরিচয় ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছে ফাইজা আলম ছোঁয়া। ছোঁয়া অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং আজই তার ভার্সিটিতে প্রথম দিন।

তবে সিনিয়র বলতে কোনো ছেলে নয়, একজন মেয়ে। ছোঁয়া ইচ্ছে করে তাকে থাপ্পড় দিয়েছে—ব্যাপারটা তেমন নয়। মেয়েটি ছোঁয়ার সঙ্গে এমন কিছু করেছে, যার কারণে সিনিয়র হয়েও জুনিয়রের হাত থেকে তাকে থাপ্পড় খেতে হয়েছে।

হঠাৎ মেয়েটির গালে ছোঁয়াকে থাপ্পড় দিতে দেখে আগে-পিছে কোনো কিছু না ভেবেই ছোঁয়াকে নিজের সামনে ঘুরিয়ে একটি থাপ্পড় লাগিয়ে দেয় আদর আহমেদ চৌধুরী।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আগে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ

আদর এই ভার্সিটির মাস্টার্স পড়ুয়া একজন ছাত্র। ছোঁয়া ও আদর যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানেই একটি গ্রুপ বসেছিল। ছোঁয়া যে মেয়েটিকে থাপ্পড় মেরেছে, সে মেয়েটিও এই গ্রুপের একজন। আর আদর আহমেদ চৌধুরী সেই গ্রুপেরই লিডার।

এতক্ষণ কী হয়েছে, আদর কিছুই জানে না। ভার্সিটিতে ঢুকেই বন্ধুদের কাছে এগিয়ে যাচ্ছিল সে। তখনই চোখে পড়ে, আচমকা একটি মেয়ে তার বান্ধবীকে থাপ্পড় মারছে। সেটি দেখেই কোনো কিছু না ভেবে মেয়েটিকেও থাপ্পড় মেরে দেয় আদর।

এতক্ষণ ছোঁয়ার সঙ্গে যা হয়েছে, তাতে সে খুবই বিরক্ত ছিল। এখন আদরের কাছে থাপ্পড় খাওয়ায় আরও ক্ষেপে গেছে। পারছে না আদরের মাথার সব চুল টেনে ছিঁড়ে দিতে। রাগে ফোঁসফোঁস করতে করতে জিজ্ঞেস করল,

— "আমাকে মেরেছেন কেন?"

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা

আদরও রাগান্বিত কণ্ঠে বলল,

— "আপনি ওকে মেরেছেন কেন? আপনাকে তো আগে কখনো এই ভার্সিটিতে দেখিনি। হঠাৎ এসেই একজন অপরিচিত মেয়েকে থাপ্পড় মারেন কোন সাহসে?"

আদরের চিৎকার শুনে গ্রুপের সবাই বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেল। আশপাশের লোকজনও থমকে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল, এখানে কী হচ্ছে।

আদরের চোখেমুখে প্রচণ্ড রাগ। রাগে কপালের রগ ফুলে উঠেছে। চোখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। চোখের মধ্যে লাল লাল রগ ভেসে উঠেছে।

আরও পড়ুন: জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে আরও এগিয়ে গাডি আইজেনকট

আদরের এমন রাগ দেখে দৌড়ে আসে তার বন্ধুরা। এদিকে আদরের দিকে তাকিয়ে ছোঁয়ার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। তবুও সেও কম নয়। তার রাগও আকাশচুম্বী।

আদরের বন্ধুরা তাকে ধরে বলল,

— "আদর, তুই শান্ত হ। আমরা ব্যাপারটা দেখছি। ও ফার্স্ট ইয়ারের নতুন ছাত্রী।"

ফার্স্ট ইয়ারের কথা শুনে আদরের যেন রাগ আরও বেড়ে গেল। আদর ভাবতেই পারছে না, ফার্স্ট ইয়ারের ছোট একটা মেয়ে হয়ে মাস্টার্স পড়ুয়া একজন সিনিয়রের গালে প্রথম দিনেই কীভাবে থাপ্পড় মারতে পারে!

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের ৩ দাবি আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

এর একটা ব্যবস্থা করতেই হবে।

আদরের অবস্থা দেখে বন্ধুরা ছোঁয়াকে আপাতত আদরের সামনে থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে।

— "তুমি এখন যাও এখান থেকে। তোমার সঙ্গে আমরা পরে কথা বলব।"

এদিকে ছোঁয়া তো যাওয়ার পাত্রী নয়। বিনা দোষে একটা ছেলের কাছে থাপ্পড় খেয়ে এর হেস্তনেস্ত না করে কোনোভাবেই যাবে না।

আরও পড়ুন: দৃষ্টিনন্দন বনায়ন: রাঙ্গামাটিতে ১০ একর জমিতে ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ

আদরের দিকে তাকিয়ে একবার দেখে নিজের ঠোঁট দুটো জিহ্বা দিয়ে ভিজিয়ে আদরের বন্ধুদের উদ্দেশে বলল,

— "কেন যাব আমি? উনি না জেনে, না বুঝে আমাকে থাপ্পড় মারবেন, আর আমি কিছু না বলেই চলে যাব? এতক্ষণ আমার সঙ্গে যা কিছু হয়েছে, সেসব কি উনি দেখেছেন? উনি না দেখে কেন আমায় মারবেন? উত্তর দিন। আপনারা তো সবই দেখেছেন, সবই জানেন।"

একটু থেমে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে আবার বলল,

— "অবশ্য আপনাদের কাছে আর কিসের উত্তর আশা করছি আমি! যেখানে আপনারাই নতুন নতুন ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে জঘন্যতম র‍্যাগিংয়ে মেতে উঠেছেন। র‍্যাগিংয়ের মাত্রা এতটাই ছিল যে, এর আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে নিজেদের হিতাহিত জ্ঞান পর্যন্ত হারিয়ে বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গিয়েছেন। আপনাদের জ্ঞান ফেরানোর জন্য এই একটা থাপ্পড় যথেষ্ট ছিল না। প্রয়োজন ছিল আরও কয়েকটা দেওয়ার। ফারদার আবার এমন র‍্যাগিং করতে দেখলে আরও কয়েকটা থাপ্পড় দিতে এই ছোঁয়ার হাত কাঁপবে না। কথাটা মাথায় রাখবেন।"

আরও পড়ুন: পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ টাকা ও ৩ খাসি নেন বিএনপি নেতা রমিজ উদ্দিন

তারপর আদরের একটু কাছে এগিয়ে গিয়ে ছোঁয়া বলল,

— "আপনার বন্ধুদের জিজ্ঞেস করবেন, কেন এই থাপ্পড়টা খেতে হলো একটা জুনিয়রের হাত থেকে। অবশ্য কারণ জানতে পারলে সেটা আপনার জন্যই লজ্জাজনক হবে। আর শুনুন, এই ছোঁয়া অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। সেটা নিজের বাবা হলেও না। আর সেখানে উনি তো শুধু একজন সিনিয়র। আরেকটা কথা, এই থাপ্পড়ের বদলা আপনার কাছ থেকে আমি পরে বুঝে নেব। মাইন্ড ইট!"

কথাগুলো বলে ছোঁয়া সেখান থেকে হনহন করে চলে যায়।

এদিকে ছোঁয়ার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে আদর। মাথায় শুধু ছোঁয়ার বলা "র‍্যাগিং" শব্দটা বারবার বাজতে থাকে।

তারপর বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

— "এই মেয়ে কী বলে গেল? কথাগুলো কি সত্যি? তোরা ওর সঙ্গে র‍্যাগিং করেছিস?"

বন্ধুরা সবাই চুপ। কেউ কিছু বলছে না। সবাই নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের সঙ্গে এখন কী হতে পারে, তা আন্দাজ করতে পেরে ভয়ে চুপসে গেছে।

আদর র‍্যাগিং পছন্দ করে না। ভার্সিটিতে কখনো কাউকে র‍্যাগিং করার সুযোগও দেয় না। সবাইকে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যেন এই ভার্সিটিতে কোনো ধরনের র‍্যাগিং বা কোনো শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার না হয়।

এত কিছু বলার পরও তারই গ্রুপের সদস্যরা এই কাজ করেছে—এটা ভাবতেই অবাক লাগছে আদরের। কোনোভাবেই বিষয়টি মানতে পারছে না সে।

আদর এই ভার্সিটির আদর্শ ছাত্র। পড়ালেখায় সব সময় টপ পজিশনে থাকে। এখন পর্যন্ত তাকে কেউ সেকেন্ড করতে পারেনি। এ কারণে প্রিন্সিপাল স্যার ও প্রফেসররা তাকে খুব পছন্দ করেন। সব সময় সবকিছুর দায়িত্ব চোখ বন্ধ করে নির্দ্বিধায় আদরকে দিয়ে চিন্তামুক্ত থাকেন ভার্সিটির প্রিন্সিপাল।

আদর পড়ালেখায় যেমন ভালো, রাজনীতিতেও তেমন সক্রিয়। পড়ালেখা ও রাজনীতি—দুটোই একসঙ্গে ব্যালেন্স করছে সে।

তার বিশাল বন্ধুমহল না থাকলেও কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবীকে নিয়েই তার জগত। তার বন্ধুদের মধ্যে আছে আদনান, রোহান, সাব্বির এবং বান্ধবীদের মধ্যে আছে তানু, মাহি ও নিশাত। এছাড়াও তার ক্লাসমেটসহ ভার্সিটির সব জুনিয়রই তাকে খুব মান্য করে। আদরের এক কথাতেই সবাই পাশে দাঁড়াতে রাজি।

ছোঁয়া যাকে থাপ্পড় মেরেছে, তার নাম তানু। তাদের সাতজনের একটি গ্রুপ হলেও নিশাত আজ আসেনি। আদর ছাড়া বাকি পাঁচজন মিলে আজ যা করেছে, তার জন্য আদর প্রচণ্ড রেগে আছে তাদের ওপর।

আদনান সবকিছু খুলে বলে আদরকে। আদর সব শুনে যেই তানুর দিকে রাগান্বিত চোখে তাকিয়েছে, অমনি আদর শান্ত হয়ে গেল।

শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল,

— "তোর গাল থেকে রক্ত বের হচ্ছে তানু। কাটল কীভাবে? মেয়েটি তো শুধু থাপ্পড় দিয়েছিল। এই থাপ্পড়ে পাঁচ আঙুলের দাগ বসার কথা, গাল তো কাটার কথা নয়।"

আদরের কথা শুনে সবাই তানুর দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠল।

তানু গালে হাত দিয়ে রক্ত দেখে বলল,

— "ওই মেয়েটি যখন থাপ্পড় মেরেছে, তখন মনে হচ্ছিল ধারালো কিছু একটা আমার গালটা এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে। কিন্তু তুই ওকে থাপ্পড় মারায় এই ব্যথাটা ভুলে সেদিকেই তাকিয়ে ছিলাম। এখন আবার অনেক জ্বালা করছে।"

আদর তখন তানুর পেছনে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখল, নিচে কংক্রিটের গুঁড়া আর অনেক ছোট-বড় ভাঙা কাঁচের টুকরো পড়ে আছে। সেখানে অনেক রক্তও লেগে আছে।

আদর যেদিকে দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানেও ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়ে আছে এবং সেই রক্ত অনেক দূর পর্যন্ত গিয়েছে।

কিন্তু কারও সেদিকে খেয়াল নেই। সবাই তানুকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

চলবে...

লেখিকা: মমতাজ নাহার মনিকা: চট্টগ্রাম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসিরনগরে ডাকাতির অভিযোগে সোহেল গ্রেপ্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


নাসিরনগরে ডাকাতির অভিযোগে সোহেল গ্রেপ্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চাপড়তলা ইউনিয়নের কালিউতা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাসিরনগর থানার এসআই জামালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার সোহেল উপজেলার কালিউতা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি কালিউতা ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শফিকুল ইসলামের ভাতিজা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম সোহেলকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে তিলপাড়া, ছাতিয়াইন, রতনপুর ও আদাঐর সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত। তাকে ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
সর্বশেষ যে মামলায় সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ওই মামলার বাদী উপজেলার গুতমা গ্রামের জামাত আলী। অভিযোগ রয়েছে, ডাকাতির সময় জামাত আলীকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং তার বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। জামাত আলী দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বর্তমানে কিছুটা সুস্থ রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সোহেলের সঙ্গে তার এক আত্মীয়ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। কালিউতা গ্রামের পশ্চিম দিকে নদীর পাড়সংলগ্ন একটি নির্জন এলাকায় সোহেলের বাড়ি হওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওই এলাকায় অপরাধীদের আনাগোনা ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি তাদের।
এলাকাবাসী জানান, অতীতেও ওই এলাকা থেকে গরুসহ ডাকাত গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। এ-সংক্রান্ত একটি মামলা এখনও চলমান রয়েছে বলেও তারা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু গ্রেপ্তার নয়, তদন্তের মাধ্যমে ডাকাতির সঙ্গে প্রকৃতভাবে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে গড়মিল হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৫ পি.এম


তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে গড়মিল হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে এবং জনগণের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নৌযান শুমারি ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শুমারি সমন্বয়কারীদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও উপাত্ত অপরিহার্য। দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সঠিক পরিসংখ্যানে বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে কোনো ধরনের গড়মিল, অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার নৌপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ায় পণ্য পরিবহনে নৌপথের গুরুত্ব অনেক বেশি। নৌপথের কার্যকর ব্যবহার ও উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নৌযান শুমারি সফলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পেশাদারিত্ব ও সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি ২০২৬ পরিচালনা করা হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহযোগিতায় আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট দেশব্যাপী এ শুমারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমোডর শফিউল বারী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক।

এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদফতর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নৌযান শুমারি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ নিয়ে আশাবাদী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ নিয়ে আশাবাদী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ এবং ভারত সিরিজ খেলার জন্য চলতি মাসেই বাংলাদেশে আসার কথা ভারতের। দুই দল তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে। সূচি অনুযায়ী, সিরিজটি শুরু হওয়ার কথা ১ সেপ্টেম্বর। তবে, দ্বিপক্ষীয় সিরিজটি ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, আগামী ২৮ আগস্ট ভারত আসবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়নের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তবে, সিরিজ নিয়ে আশাবাদী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানান, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। সম্প্রতি ভারতীয় হাই কমিশনার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের আলোচনা অনুযায়ী, সিরিজের বিষয়টি সেখানে ছিল।

আমিনুল বলেন, 'ভারতের হাই কমিশনার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে এবং তাঁরাও খুব আশাবাদী। গত বিশ্বকাপ থেকে যে দোটানা তৈরি হয়েছে তা দ্রুত সমাধান করতে পারব। আমি এখন পর্যন্ত আশাবাদী আছি। বাংলাদেশ-ভারত সিরিজটি দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনা মাধ্যমে সমাধান হবে।'

আমিনুল মনে করেন স্পোর্টসের মাধ্যমেই দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে। তিনি আরও বলেছেন, 'আমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে চাই। আশা করি স্পোর্টসের মাধ্যমে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারব। যে দোটানা তৈরি হয়েছে তা স্মুথলি রান করতে চাই। আজ আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললাম। তিনিও অত্যন্ত আশাবাদী। ইতোমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। তিনি খুব ইতিবাচকভাবে বলেছেন, 'আমরা দ্রুতই ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ, কীভাবে দ্রুত খেলার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারি।'

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যেতে পারায় পুনরায় সমালোচনা করেছেন আমিনুল। তিনি বলেন, 'গত বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিগত সরকার যে হটকারি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, হঠাৎ করে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া, একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমি এটি মেনে নিতে পারি না। এটা ঠিক হয়নি। এই কারণেই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে যে দোটানা সৃষ্টি হয়েছে... আমি ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ভারতীয় হাইকমিশন থেকে শুরু করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিনে আয় ছিল মাত্র ৪৬ টাকা, এখন ২১ কোটির বাড়ির মালিক সেই অভিনেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


দিনে আয় ছিল মাত্র ৪৬ টাকা, এখন ২১ কোটির বাড়ির মালিক সেই অভিনেতা

পকেটে এক কুঁড়ে টাকা ছিল না, ভবিষ্যৎও অন্ধকার ছিল। তার দিনে আয় ছিল একদমই মাত্র ৩৬ রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় ৪৬ টাকার সমান।

এই কঠিন সময় পেরিয়ে এখন তিনি কোটি টাকার সম্পত্তির অধিকারী, ভারতীয় অভিনেতা গুরমিত চৌধুরী।

এ সম্পর্কে জানা গেছে, তার বাড়ির মূল্য প্রায় ১৬ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় ২০ কোটি ৭৩ লাখের বেশি। এটি ছাড়াও, নিজের স্বপ্নের ফার্মহাউস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে অভিনেতার।

কিন্তু গুরমিতের এই সাফল্য একদিনে আসেনি। অভিনেতা হওয়ার আগে তিনি নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন। অর্থের সংকটকালীন সময়ে লড়াই করে ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন।

গুরমিতের জনপ্রিয়তা মূলত টেলিভিশনে শুরু হয়। ‘রামায়ণ’ ধারাবাহিকে রামের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

এরপর ‘গীত হুই সবসে পরায়ি’ এবং ‘পুনর্বিবাহ’ এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান।

অভিনয়ের পাশাপাশি, গুরমিত নাচেও নিজের প্রতিভা দেখিয়েছে। তিনি জনপ্রিয় নাচের রিয়েলিটি শো ‘ঝলক দিখলা যা’-য় অংশ নিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন। এর পর তিনি বলিউডে পা রাখেন। ‘খামোশিয়াঁ’, ‘মিস্টার এক্স’ এবং ‘ওয়াজাহ্ তুম হো’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই তারকা।

ব্যক্তিগত জীবনেও গুরমিত সুখী সংসারী হওয়ার সুখ পেয়ে গেছেন। তিনি অভিনেত্রী দেবিনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। নিজেদের সংসারের নানা মুহূর্ত মাঝে মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তারা।

বর্তমানে, প্রায় ২১ কোটি টাকার বাড়ির মালিক হলেও, গুরমিতের স্বপ্নের আকার আরও বড়। তার উদ্দেশ্য হলো, নিজের একটি ফার্মহাউস তৈরি করা। একটি সময় যেখানে প্রতিদিনের জীবন নির্বাহ করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, আজ সেখানে নিজের স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করার পরিকল্পনা করেন তিনি।

গুরমিতের জীবন শুধু বিপুল অর্থ ও সম্পত্তির মালিক হওয়ার কাহিনি নয়, বরং অভাব ও অনিশ্চয়তার মাঝে ওঠে এসে নিজের পরিচয় তৈরি করার এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%