০৫:৩০ এম
রক্তে শর্করার মাত্রা কিংবা ব্লাড সুগার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রোধ করতে মিষ্টি কখনোই খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ সঠিক খাবার খাওয়ার ক্রম বা ফুড সিকোয়েন্সিং এবং সঠিক সময় মেনে চললে, মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার পরও শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ফলে ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় এবং তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
যেহেতু সব সময়ে চিনি মেশানো খাবার গ্রহণ করলে শুধু ডায়াবেটিসের সমস্যা নয়, আরও অনেক ধরনের ক্রনিক অসুখ দেখা দিতে পারে, তাই এটি রোধ করতে মিষ্টিজাতীয় খাবার খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়। এর ফলে সঠিক ডেজার্ট খাওয়ার গুরুত্বও বেড়ে যায়।
আপনি যদি খাবারের তালিকায় প্রাকৃতিক শর্করা যুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করেন, তাহলে তা আপনার জন্য উপকারী হবে। যেমন, ফল দিয়ে ডেজার্ট তৈরি করা যেতে পারে। চিনির পরিবর্তে খেজুর খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। টকদই, চিয়াসিড ইত্যাদির সাহায্যে পুডিংও বানানো যেতে পারে। যদি চকোলেট খেতে ইচ্ছে হয়, তাহলে ডার্ক চকোলেট বেছে নেওয়া ভালো।
আরও পড়ুন: সোমবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে
এবং এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, ডায়াবেটিস হলে আপনার জন্য কোনো ধরনের মিষ্টি খাওয়া যাবে না— এই ধারণা সঠিক নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ানোর জন্য শুধুমাত্র মিষ্টি খাবার দায়ী নয়; দৈনন্দিনতার কিছু নিয়ম মেনে চললে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সঠিক খাবার নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে।
যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নয়, তথাপি কেউ কেউ মিষ্টি খেলে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। অতএব সঠিক উপায়ে মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার ব্যপারে সচেতন থাকা উচিত। প্রোটিন, ফাইবার ও হেলদি ফ্যাট যুক্ত খাবার খাওয়ার পরে মিষ্টি খাওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন মিষ্টি খেতে চান, শাকসবজি ও প্রোটিন খাওয়ার পর মিষ্টি খান। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স আছে অথবা পলিসিস্টিক ওভারির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্যও এই নিয়ম কার্যকর।
মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন। আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। সকালে ইনসুলিনের কার্যকারিতা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে। ফলে সকালে মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া গেলে সেটি ভালোভাবে হজম হয় এবং শরীরও ভালোভাবে শর্করা শোষণ করতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। কিন্তু বিকালের পর কিংবা রাতে মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই রাতে ডেজার্ট না রাখাই হবে ভালো।
আরও পড়ুন: রোববার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন