০১:৩৮ পি.এম
ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে জনপ্রিয় জুটিগুলোর তালিকায় সালমান শাহ ও শাবনূরের নাম আজও আলাদাভাবে উচ্চারিত হয়। তাদের পর্দায় দুর্দান্ত রসায়ন দর্শকের হৃদয় ছুঁয়েছিল, সেই সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিজীবন ঘিরে বিভিন্ন আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
বিশেষ করে, এই দুই তারকার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে গত তিন দশক ধরে চলছে নানা রকম জল্পনা। এবার সেই পুরোনো প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী।
সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ছেলে ও শাবনূরের সম্পর্ক প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন নীলা চৌধুরী।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা নিয়ে জামায়াত-শিবির-এনসিপির রাজনীতি: ছাত্রদল সেক্রেটারি নাছির উদ্দীন নাছির
তিনি দাবি করেছেন, শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং, সালমান শাবনূরকে নিজের ছোট বোনের মতোই স্নেহ করতেন।
নীলা চৌধুরীর কথায়, শাবনূর সালমানের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল ছিলেন। অন্যদিকে, সালমানও বিভিন্ন উপায়ে তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। যেহেতু সালমানের কোন বোন নেই, তাই তিনি শাবনূরকে বোনের মতো দেখতেন এবং সেভাবেই তাঁর স্নেহ করতেন।
তবে, শাবনূরকে নিয়ে কিছু অভিযোগও করেছেন সালমানের মা। তাঁর দাবি, শাবনূর কখনো কখনো সালমানের সঙ্গে তার বিশেষ কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন একটি ধারণা তৈরির চেষ্টা করতেন। পরবর্তী সময়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়েই নানারকম গল্প ছড়িয়ে পড়ে।
অবশ্য, শাবনূর বরাবরই সালমান শাহর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের গুঞ্জন অস্বীকার করে এসেছেন। তার বক্তব্য হচ্ছে, সালমানকে তিনি কখনো প্রেমিক হিসেবে দেখেননি; বরং, ভাইয়ের মতোই সম্মান করতেন।
আরও পড়ুন: আরটিভিতে রাত ৮টায় সম্প্রচারিত হবে নাটক ‘মন দরজা’
তাদের বন্ধুত্ব ও পর্দার রসায়নকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ ও গণমাধ্যম মুখরোচক গল্প তৈরি করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় সালমান শাহের। এই সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী। এরপর ‘তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ অভিনয় করেছেন ২৭টি সিনেমায়। এর মধ্যে ১৪টি সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর।
সালমান-শাবনূর জুটির ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্যবসাসফল সিনেমা আজও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে। তাদের পর্দার রসায়ন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পরও তার ব্যক্তিজীবন, সম্পর্ক ও ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা থামেনি। সময়ের সাথে সাথে সেই আলোচনা আরও নানা মাত্রা পেয়েছে।
আরও পড়ুন: নোলক: কাদের ও নাদের ভাইদের সম্পদ ও সম্পর্কের নাটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন