ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সালমান-শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন নীলা চৌধুরী


সালমান-শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন নীলা চৌধুরী

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে জনপ্রিয় জুটিগুলোর তালিকায় সালমান শাহ ও শাবনূরের নাম আজও আলাদাভাবে উচ্চারিত হয়। তাদের পর্দায় দুর্দান্ত রসায়ন দর্শকের হৃদয় ছুঁয়েছিল, সেই সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিজীবন ঘিরে বিভিন্ন আলোচনা তৈরি হয়েছিল।

বিশেষ করে, এই দুই তারকার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে গত তিন দশক ধরে চলছে নানা রকম জল্পনা। এবার সেই পুরোনো প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী।

সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ছেলে ও শাবনূরের সম্পর্ক প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন নীলা চৌধুরী।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা নিয়ে জামায়াত-শিবির-এনসিপির রাজনীতি: ছাত্রদল সেক্রেটারি নাছির উদ্দীন নাছির

তিনি দাবি করেছেন, শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং, সালমান শাবনূরকে নিজের ছোট বোনের মতোই স্নেহ করতেন।

নীলা চৌধুরীর কথায়, শাবনূর সালমানের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল ছিলেন। অন্যদিকে, সালমানও বিভিন্ন উপায়ে তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। যেহেতু সালমানের কোন বোন নেই, তাই তিনি শাবনূরকে বোনের মতো দেখতেন এবং সেভাবেই তাঁর স্নেহ করতেন।

তবে, শাবনূরকে নিয়ে কিছু অভিযোগও করেছেন সালমানের মা। তাঁর দাবি, শাবনূর কখনো কখনো সালমানের সঙ্গে তার বিশেষ কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন একটি ধারণা তৈরির চেষ্টা করতেন। পরবর্তী সময়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়েই নানারকম গল্প ছড়িয়ে পড়ে।

অবশ্য, শাবনূর বরাবরই সালমান শাহর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের গুঞ্জন অস্বীকার করে এসেছেন। তার বক্তব্য হচ্ছে, সালমানকে তিনি কখনো প্রেমিক হিসেবে দেখেননি; বরং, ভাইয়ের মতোই সম্মান করতেন।

আরও পড়ুন: আরটিভিতে রাত ৮টায় সম্প্রচারিত হবে নাটক ‘মন দরজা’

তাদের বন্ধুত্ব ও পর্দার রসায়নকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ ও গণমাধ্যম মুখরোচক গল্প তৈরি করেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় সালমান শাহের। এই সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী। এরপর ‘তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ অভিনয় করেছেন ২৭টি সিনেমায়। এর মধ্যে ১৪টি সিনেমায় তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর।

সালমান-শাবনূর জুটির ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্যবসাসফল সিনেমা আজও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে। তাদের পর্দার রসায়ন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পরও তার ব্যক্তিজীবন, সম্পর্ক ও ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা থামেনি। সময়ের সাথে সাথে সেই আলোচনা আরও নানা মাত্রা পেয়েছে।

আরও পড়ুন: নোলক: কাদের ও নাদের ভাইদের সম্পদ ও সম্পর্কের নাটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনা ফিরলে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারের মুখোমুখি হবেন : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪১ পি.এম


শেখ হাসিনা ফিরলে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারের মুখোমুখি হবেন : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা যখন দেশে ফিরবেন, তখন তিনি পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারের মুখোমুখি হবেন। তিনি আরও বলেন, আদালত এরপর যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই সকলকে মেনে নিতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসার পর পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। তিনি তার আইনগত অধিকারগুলো ভোগ করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়।

এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেছেন, কেউ যদি বাংলাদেশে এসে মামলা, আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চান, তাহলে তার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ‘ফালতু’ কথাবার্তা বলছেন।

তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের ছয় মাস বা ১৮০ দিন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান स्वयं জনগণের সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেন। তবে, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ আছেন, ৭ ঘণ্টার বৈঠক শেষে জানালেন পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ পি.এম


ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ আছেন, ৭ ঘণ্টার বৈঠক শেষে জানালেন পেজেশকিয়ান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ’ আছেন, এই তথ্য দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সাত ঘণ্টার একটি দীর্ঘ বৈঠকের পর তিনি সর্বোচ্চ নেতার সম্পর্কে এ তথ্য জানান।

সোমবার (১০ আগস্ট) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এই খবরটি প্রকাশ করে।

পেজেশকিয়ান বলছেন, ‘আমরা বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছি। শারীরিকভাবে তিনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন।’

তিনি আরও জানান, ‘সর্বোচ্চ নেতা আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, আমি আমার উদ্বেগ ও সমস্যাগুলো তুলে ধরেছি। তিনি স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে আমার কথা শুনেছেন।’

এছাড়া, ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানায় যে, দেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মোজতবা খামেনি এবং পেজেশকিয়ানের মধ্যে প্রায় সাত ঘণ্টা ব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখাই ছিল সর্বোচ্চ নেতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।’ বৈঠকে মূলত মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান, আবাসন এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট নানা সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের যৌথ হামলার পর পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করে।

এপ্রিল মাসে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। পরে জুন মাসে দুই দেশ সামরিক সংঘাতের অবসান এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।

তবে গত মাসে সেই চুক্তি ভেঙে পড়ে। এরপর তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সংঘাত নিরসনে আলোচনার উদ্যোগের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আকস্মিকভাবে হামলা বন্ধের ঘোষণা দেন।

তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
পর্ব: ১

আদরের ছোঁয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


আদরের ছোঁয়া

ভার্সিটিতে প্রথম পা দিয়েই কোনো সিনিয়রের গালে থাপ্পড় মারা কোনো ছেলেখেলা নয়। এটি বেশ সাহসিকতার পরিচয়। আর এই সাহসিকতার পরিচয় দিতে বুকের পাটা অনেক বড় হতে হয়, যা সবার মধ্যে থাকে না। সেই সাহসিকতার পরিচয় ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছে ফাইজা আলম ছোঁয়া। ছোঁয়া অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং আজই তার ভার্সিটিতে প্রথম দিন।

তবে সিনিয়র বলতে কোনো ছেলে নয়, একজন মেয়ে। ছোঁয়া ইচ্ছে করে তাকে থাপ্পড় দিয়েছে—ব্যাপারটা তেমন নয়। মেয়েটি ছোঁয়ার সঙ্গে এমন কিছু করেছে, যার কারণে সিনিয়র হয়েও জুনিয়রের হাত থেকে তাকে থাপ্পড় খেতে হয়েছে।

হঠাৎ মেয়েটির গালে ছোঁয়াকে থাপ্পড় দিতে দেখে আগে-পিছে কোনো কিছু না ভেবেই ছোঁয়াকে নিজের সামনে ঘুরিয়ে একটি থাপ্পড় লাগিয়ে দেয় আদর আহমেদ চৌধুরী।

আদর এই ভার্সিটির মাস্টার্স পড়ুয়া একজন ছাত্র। ছোঁয়া ও আদর যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানেই একটি গ্রুপ বসেছিল। ছোঁয়া যে মেয়েটিকে থাপ্পড় মেরেছে, সে মেয়েটিও এই গ্রুপের একজন। আর আদর আহমেদ চৌধুরী সেই গ্রুপেরই লিডার।

এতক্ষণ কী হয়েছে, আদর কিছুই জানে না। ভার্সিটিতে ঢুকেই বন্ধুদের কাছে এগিয়ে যাচ্ছিল সে। তখনই চোখে পড়ে, আচমকা একটি মেয়ে তার বান্ধবীকে থাপ্পড় মারছে। সেটি দেখেই কোনো কিছু না ভেবে মেয়েটিকেও থাপ্পড় মেরে দেয় আদর।

এতক্ষণ ছোঁয়ার সঙ্গে যা হয়েছে, তাতে সে খুবই বিরক্ত ছিল। এখন আদরের কাছে থাপ্পড় খাওয়ায় আরও ক্ষেপে গেছে। পারছে না আদরের মাথার সব চুল টেনে ছিঁড়ে দিতে। রাগে ফোঁসফোঁস করতে করতে জিজ্ঞেস করল,

— "আমাকে মেরেছেন কেন?"

আদরও রাগান্বিত কণ্ঠে বলল,

— "আপনি ওকে মেরেছেন কেন? আপনাকে তো আগে কখনো এই ভার্সিটিতে দেখিনি। হঠাৎ এসেই একজন অপরিচিত মেয়েকে থাপ্পড় মারেন কোন সাহসে?"

আদরের চিৎকার শুনে গ্রুপের সবাই বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেল। আশপাশের লোকজনও থমকে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল, এখানে কী হচ্ছে।

আদরের চোখেমুখে প্রচণ্ড রাগ। রাগে কপালের রগ ফুলে উঠেছে। চোখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। চোখের মধ্যে লাল লাল রগ ভেসে উঠেছে।

আদরের এমন রাগ দেখে দৌড়ে আসে তার বন্ধুরা। এদিকে আদরের দিকে তাকিয়ে ছোঁয়ার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। তবুও সেও কম নয়। তার রাগও আকাশচুম্বী।

আদরের বন্ধুরা তাকে ধরে বলল,

— "আদর, তুই শান্ত হ। আমরা ব্যাপারটা দেখছি। ও ফার্স্ট ইয়ারের নতুন ছাত্রী।"

ফার্স্ট ইয়ারের কথা শুনে আদরের যেন রাগ আরও বেড়ে গেল। আদর ভাবতেই পারছে না, ফার্স্ট ইয়ারের ছোট একটা মেয়ে হয়ে মাস্টার্স পড়ুয়া একজন সিনিয়রের গালে প্রথম দিনেই কীভাবে থাপ্পড় মারতে পারে!

এর একটা ব্যবস্থা করতেই হবে।

আদরের অবস্থা দেখে বন্ধুরা ছোঁয়াকে আপাতত আদরের সামনে থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে।

— "তুমি এখন যাও এখান থেকে। তোমার সঙ্গে আমরা পরে কথা বলব।"

এদিকে ছোঁয়া তো যাওয়ার পাত্রী নয়। বিনা দোষে একটা ছেলের কাছে থাপ্পড় খেয়ে এর হেস্তনেস্ত না করে কোনোভাবেই যাবে না।

আদরের দিকে তাকিয়ে একবার দেখে নিজের ঠোঁট দুটো জিহ্বা দিয়ে ভিজিয়ে আদরের বন্ধুদের উদ্দেশে বলল,

— "কেন যাব আমি? উনি না জেনে, না বুঝে আমাকে থাপ্পড় মারবেন, আর আমি কিছু না বলেই চলে যাব? এতক্ষণ আমার সঙ্গে যা কিছু হয়েছে, সেসব কি উনি দেখেছেন? উনি না দেখে কেন আমায় মারবেন? উত্তর দিন। আপনারা তো সবই দেখেছেন, সবই জানেন।"

একটু থেমে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে আবার বলল,

— "অবশ্য আপনাদের কাছে আর কিসের উত্তর আশা করছি আমি! যেখানে আপনারাই নতুন নতুন ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে জঘন্যতম র‍্যাগিংয়ে মেতে উঠেছেন। র‍্যাগিংয়ের মাত্রা এতটাই ছিল যে, এর আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে নিজেদের হিতাহিত জ্ঞান পর্যন্ত হারিয়ে বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গিয়েছেন। আপনাদের জ্ঞান ফেরানোর জন্য এই একটা থাপ্পড় যথেষ্ট ছিল না। প্রয়োজন ছিল আরও কয়েকটা দেওয়ার। ফারদার আবার এমন র‍্যাগিং করতে দেখলে আরও কয়েকটা থাপ্পড় দিতে এই ছোঁয়ার হাত কাঁপবে না। কথাটা মাথায় রাখবেন।"

তারপর আদরের একটু কাছে এগিয়ে গিয়ে ছোঁয়া বলল,

— "আপনার বন্ধুদের জিজ্ঞেস করবেন, কেন এই থাপ্পড়টা খেতে হলো একটা জুনিয়রের হাত থেকে। অবশ্য কারণ জানতে পারলে সেটা আপনার জন্যই লজ্জাজনক হবে। আর শুনুন, এই ছোঁয়া অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। সেটা নিজের বাবা হলেও না। আর সেখানে উনি তো শুধু একজন সিনিয়র। আরেকটা কথা, এই থাপ্পড়ের বদলা আপনার কাছ থেকে আমি পরে বুঝে নেব। মাইন্ড ইট!"

কথাগুলো বলে ছোঁয়া সেখান থেকে হনহন করে চলে যায়।

এদিকে ছোঁয়ার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে আদর। মাথায় শুধু ছোঁয়ার বলা "র‍্যাগিং" শব্দটা বারবার বাজতে থাকে।

তারপর বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

— "এই মেয়ে কী বলে গেল? কথাগুলো কি সত্যি? তোরা ওর সঙ্গে র‍্যাগিং করেছিস?"

বন্ধুরা সবাই চুপ। কেউ কিছু বলছে না। সবাই নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের সঙ্গে এখন কী হতে পারে, তা আন্দাজ করতে পেরে ভয়ে চুপসে গেছে।

আদর র‍্যাগিং পছন্দ করে না। ভার্সিটিতে কখনো কাউকে র‍্যাগিং করার সুযোগও দেয় না। সবাইকে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যেন এই ভার্সিটিতে কোনো ধরনের র‍্যাগিং বা কোনো শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার না হয়।

এত কিছু বলার পরও তারই গ্রুপের সদস্যরা এই কাজ করেছে—এটা ভাবতেই অবাক লাগছে আদরের। কোনোভাবেই বিষয়টি মানতে পারছে না সে।

আদর এই ভার্সিটির আদর্শ ছাত্র। পড়ালেখায় সব সময় টপ পজিশনে থাকে। এখন পর্যন্ত তাকে কেউ সেকেন্ড করতে পারেনি। এ কারণে প্রিন্সিপাল স্যার ও প্রফেসররা তাকে খুব পছন্দ করেন। সব সময় সবকিছুর দায়িত্ব চোখ বন্ধ করে নির্দ্বিধায় আদরকে দিয়ে চিন্তামুক্ত থাকেন ভার্সিটির প্রিন্সিপাল।

আদর পড়ালেখায় যেমন ভালো, রাজনীতিতেও তেমন সক্রিয়। পড়ালেখা ও রাজনীতি—দুটোই একসঙ্গে ব্যালেন্স করছে সে।

তার বিশাল বন্ধুমহল না থাকলেও কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবীকে নিয়েই তার জগত। তার বন্ধুদের মধ্যে আছে আদনান, রোহান, সাব্বির এবং বান্ধবীদের মধ্যে আছে তানু, মাহি ও নিশাত। এছাড়াও তার ক্লাসমেটসহ ভার্সিটির সব জুনিয়রই তাকে খুব মান্য করে। আদরের এক কথাতেই সবাই পাশে দাঁড়াতে রাজি।

ছোঁয়া যাকে থাপ্পড় মেরেছে, তার নাম তানু। তাদের সাতজনের একটি গ্রুপ হলেও নিশাত আজ আসেনি। আদর ছাড়া বাকি পাঁচজন মিলে আজ যা করেছে, তার জন্য আদর প্রচণ্ড রেগে আছে তাদের ওপর।

আদনান সবকিছু খুলে বলে আদরকে। আদর সব শুনে যেই তানুর দিকে রাগান্বিত চোখে তাকিয়েছে, অমনি আদর শান্ত হয়ে গেল।

শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল,

— "তোর গাল থেকে রক্ত বের হচ্ছে তানু। কাটল কীভাবে? মেয়েটি তো শুধু থাপ্পড় দিয়েছিল। এই থাপ্পড়ে পাঁচ আঙুলের দাগ বসার কথা, গাল তো কাটার কথা নয়।"

আদরের কথা শুনে সবাই তানুর দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠল।

তানু গালে হাত দিয়ে রক্ত দেখে বলল,

— "ওই মেয়েটি যখন থাপ্পড় মেরেছে, তখন মনে হচ্ছিল ধারালো কিছু একটা আমার গালটা এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে। কিন্তু তুই ওকে থাপ্পড় মারায় এই ব্যথাটা ভুলে সেদিকেই তাকিয়ে ছিলাম। এখন আবার অনেক জ্বালা করছে।"

আদর তখন তানুর পেছনে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখল, নিচে কংক্রিটের গুঁড়া আর অনেক ছোট-বড় ভাঙা কাঁচের টুকরো পড়ে আছে। সেখানে অনেক রক্তও লেগে আছে।

আদর যেদিকে দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানেও ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়ে আছে এবং সেই রক্ত অনেক দূর পর্যন্ত গিয়েছে।

কিন্তু কারও সেদিকে খেয়াল নেই। সবাই তানুকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

চলবে...

লেখিকা: মমতাজ নাহার মনিকা: চট্টগ্রাম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসিরনগরে ডাকাতির অভিযোগে সোহেল গ্রেপ্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


নাসিরনগরে ডাকাতির অভিযোগে সোহেল গ্রেপ্তার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চাপড়তলা ইউনিয়নের কালিউতা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাসিরনগর থানার এসআই জামালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার সোহেল উপজেলার কালিউতা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি কালিউতা ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শফিকুল ইসলামের ভাতিজা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম সোহেলকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে তিলপাড়া, ছাতিয়াইন, রতনপুর ও আদাঐর সড়কসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত। তাকে ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
সর্বশেষ যে মামলায় সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ওই মামলার বাদী উপজেলার গুতমা গ্রামের জামাত আলী। অভিযোগ রয়েছে, ডাকাতির সময় জামাত আলীকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং তার বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। জামাত আলী দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বর্তমানে কিছুটা সুস্থ রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সোহেলের সঙ্গে তার এক আত্মীয়ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। কালিউতা গ্রামের পশ্চিম দিকে নদীর পাড়সংলগ্ন একটি নির্জন এলাকায় সোহেলের বাড়ি হওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওই এলাকায় অপরাধীদের আনাগোনা ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি তাদের।
এলাকাবাসী জানান, অতীতেও ওই এলাকা থেকে গরুসহ ডাকাত গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। এ-সংক্রান্ত একটি মামলা এখনও চলমান রয়েছে বলেও তারা জানান।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু গ্রেপ্তার নয়, তদন্তের মাধ্যমে ডাকাতির সঙ্গে প্রকৃতভাবে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%