০৯:৫২ পি.এম
আগামীকাল থেকে বাংলা কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে ঢাকা থেকে প্রকাশিত। বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে সহজ, সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে। নগদবিহীন (ক্যাশলেস) এই ব্যবস্থা লেনদেনকে সহজ ও স্বচ্ছ করার জন্য সহায়ক হবে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ব্যাংকসমূহ বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ১ জুলাই থেকে সারাদেশে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে। এর ফলে শপিং মল থেকে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পর্যন্ত অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাংলা কিউআরের বৃহত্তম সুবিধা হলো এর সর্বজনীনতা এবং কম খরচ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রচলিত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণের জন্য ব্যয়বহুল পণ্য প্রাপ্তির জন্য পিওএস মেশিনের প্রয়োজন হয়, কিন্তু বাংলা কিউআর ব্যবহারে শুধুমাত্র একটি সাধারণ কিউআর স্টিকারই যথেষ্ট হবে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং ফুটপাতের দোকানদারসহ বিভিন্ন সেবাদাতারা সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। নিরাপত্তার দিক থেকেও বাংলা কিউআর একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা। এতে কার্ড ক্লোনিং বা পিন চুরির ঝুঁকি নেই। গ্রাহকের ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ থেকেই সরাসরি লেনদেন সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাকে কিউআর চালুর বিষয়টি বহুদিন আগে থেকেই গ্রহণ করেছে। আগামীকাল থেকে বাধ্যতামূলক হওয়া বলতে বোঝাচ্ছে- বাজারে কেনাকাটার শেষের পেমেন্ট করতে যখন আপনি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করতে চেষ্টা করবেন, তখন বিকাশের কিউআর কোড দেখতে পাবেন, কিন্তু আপনার পকেটে রকেটের অ্যাকাউন্ট আছে। এই অবস্থাটি চলে না। সকল কিউআরকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করতে হবে। বাংলা কিউআর স্ক্যান করে আপনি বিকাশ, নগদ এবং ব্যাংকসহ অন্য যেকোনো মাধ্যমে পেমেন্ট করতে সক্ষম হবেন। বিকাশের করপোরেট কমিউনিকেশন্স প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম জানালেন, মার্চেন্ট পয়েন্টগুলোতে অভিন্ন বাংলা কিউআর রূপান্তরিত হলে ডিজিটাল পেমেন্টের ইকোসিস্টেম আরও বিস্তৃত হবে। তাই ব্যাংক এবং মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকরা দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্চেন্ট পয়েন্টগুলোতে কিউআর স্ক্যান করে দ্রুত ও ঝামেলাহীন ক্যাশবিহীন লেনদেন করতে পারবেন। গ্রাহকরা ভাঙতি ও ক্যাশ বহনের ঝুঁকি এড়াতে পারবেন এবং মার্চেন্টদের পেমেন্ট গ্রহণ ও তাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। বিকাশের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকের ক্যাশলেস লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্রুততম সময়ে মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর প্রচলনে বিকাশ কাজ করছে। ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং জনপ্রিয় করার জন্য বিকাশ অনেক আগ থেকেই কিউআর পেমেন্টে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও ক্যাশলেস সমাজ গড়ার সরকারি উদ্যোগের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবে বিকাশ। এনআরবিসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বাসসকে জানান, বাংলা কিউআরের দুটি ভাগ রয়েছে, একটি অধিগ্রহণ এবং অন্যটি সরবরাহ করা। সরবরাহ করা মানে হচ্ছে ক্রেতা যাতে ক্রয় করতে পারে। বাংলা কিউআর তৈরির প্রস্তুতি শুরু করার আগে থেকেই এনআরবিসি ব্যাংক কাজ করছিল। এরপর অধিগ্রহণ অর্থাৎ দোকানে দোকানে বিকাশের মতো করে বাংলা কিউআরের সার্ভিস দিতে কাজ করছে। তারা ইতিমধ্যে একগুচ্ছ মার্চেন্ট অনবোর্ড হয়েছে এবং প্রতি দিন বাংলা কিউআরের লেনদেন কোটি টাকার উপরে হচ্ছে। তাই বাংলা কিউআরের জন্য এনআরবিসি ব্যাংক সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সাথে গ্রাহকদের সহযোগিতা জারি রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন