বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
১০:৩৪ এম
কুমিল্লায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন জহির (২৬) নামে এক ছাত্রশিবির নেতা। গত বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ রোডের ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আব্দুল্লাহ বিন জহির বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা মহানগর শাখার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে।
এমনটা জানা গেছে যে, সন্ধ্যায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ রোডের ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে সড়ক পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এই ধাক্কায় তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে যান এবং মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে কুমিল্লা মেডিক্যাল সেন্টারে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করে নিয়ে গেছেন।
বিএনপি দলের গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগর শাখা।
এক শোকবার্তায় মহানগর সভাপতি হাছান আহমেদ ও সেক্রেটারি নাজমুল হাসান বলেন, ‘আব্দুল্লাহ বিন জহিরের আকস্মিক মৃত্যুতে সংগঠন একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীকে হারিয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের পথে তার অবদান ও স্মৃতি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
অন্যদিকে, পৃথক এক যৌথ শোকবার্তায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, আব্দুল্লাহ বিন জহির ছিলেন একজন সৎ, কর্মঠ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। ছাত্রসমাজের মাঝে ইসলামের আদর্শ পৌঁছে দিতে তার ত্যাগ ও অবদান সংগঠন চিরকাল স্মরণ রাখবে। মহান আল্লাহ তাআলা ইসলামের জন্য তার সকল খেদমত কবুল করুন, তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা তিনটি ম্যাচে জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে ম্যাক্সিকো। বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো গ্রুপ পর্ব শেষ করল শতভাগ সাফল্য নিয়ে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঐতিহাসিক অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামে তারা চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে। এই অসাধারণ জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ৩২–এর অংশীদার হয়ে উঠেছে এল ত্রি।
গ্রুপ ‘এ’-এর শেষ ম্যাচে, মেক্সিকো দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোলই অর্জন করেছে। ৫৫ মিনিটে মাতেও শাভেজ মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন। এর ৬ মিনিট পর ইউলিয়ান কুইনোনেস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। আর ম্যাচের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে চেক প্রজাতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন আলভারো ফিদালগো।
এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তারা তাদের শেষ গেম ডে'তে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হারিয়েছে।
ম্যাচটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গুইলের্মে অচোয়ার বিশ্বরেকর্ড। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক করা এই ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়েন। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে যুক্ত হলেন।
গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর প্রদর্শনী বিশাল ছিল। তারা তিনটি ম্যাচে জয়লাভ করেছে, ছয়টি গোল করেছে এবং কোনো গোল হজম করেনি।
এখন শেষ ৩২-এর পর্বে মেক্সিকো প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলবে গ্রুপ ‘সি’, ‘ই’, ‘এফ’, ‘এইচ’ অথবা ‘আই’-এর তৃতীয় স্থান অধিকারী দলটির বিরুদ্ধে। ম্যাচটি আগামী ৩০ জুন মেক্সিকো সিটির অ্যাজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অবৈধভাবে ৯ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশের দিকে পুশ-ইন করার চেষ্টা করেন। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) যথাযথ পদক্ষেপের কারণে তাদের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থান নেওয়া ওই ৯ জনকে পরে বিএসএফ ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম।
সূত্র অনুসারে, বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৪টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধীনস্থ আদাতলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি এর নিকটবর্তী এলাকায় বিএসএফের এলেনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৩ জন শিশুসহ মোট ৯ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।
বিজিবি জানায়, বিজিবির বাধায় ওই ব্যক্তিরা অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। এরপর বিজিবি ওই এলাকায় কড়া নজরদারি বজায় রাখে। সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে ১৫০ গজের মধ্যে ওই ব্যক্তিদের আর কোনো অবস্থান বা চলাচল দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে রাতের কোনো সময় বিএসএফের সদস্যরা তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, ধারণা করা হচ্ছে যে, শূন্য রেখায় অবস্থান করা ৯ জন ভারতীয় নাগরিককে রাতের কোনো এক সময় বিএসএফ ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে। বিজিবি সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা সম্ভব হয়। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অভিযান চালিয়ে এক মাদক কারবারিকে ১৮০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি গাড়ি ও দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
এই ঘটনার বিস্তারিত জানাতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সাজেদুল হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কালামুড়িয়া গ্রামের কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের পূর্ব পাশে তাওছিয়া স্টোরের সামনে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজেদুল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ইবাদুল ইসলাম (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সিলনা এলাকার বাসিন্দা।
অভিযানে তার কাছ থেকে ১৮০ কেজি গাঁজা, একটি মিটসুবিশি আউটল্যান্ডার গাড়ি এবং দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. তায়রিফুল ইসলাম বাদী হয়ে কসবা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার পর নেইমার জুনিয়র ইনজুরিতে পড়েছিলেন। তারপর থেকে আর তিনি মাঠে ফিরে আসতে পারেননি। বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার পরেও দুই ম্যাচ তিনি বেঞ্চে কাটাতে বাধ্য হন। তবে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে ৭৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনিয়ার পরিবর্তে যখন নেইমার মাঠে নেমে এলেন, তখন গ্যালারিতে শোরগোল এবং উল্লাস শুরু হলো।
দীর্ঘ পুনর্বাসন ও কঠোর লড়াইয়ের পর জাতীয় দলে তার প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
৯৮১ দিনের অপেক্ষার পর ব্রাজিলের জার্সিতে আবার খেললেন নেইমার। সর্বশেষ তিনি ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন।
সেই ম্যাচে ভয়াবহ হাঁটুর চোটের কারণে তাকে অনেকদিন মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল। একাধিক অস্ত্রোপচার এবং পুনর্বাসনের পর অবশেষে জাতীয় দলের হয়ে ফিরে আসলেন এই ফরোয়ার্ড।
নেইমারের প্রত্যাবর্তন একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলায় বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিখ্যাত ‘১০ নম্বর’ জার্সি পরে তার ম্যাচসংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ১৪-এ।
এটি কিংবদন্তি পেলে ও রিভাল্ডোর পাশে তাকে নিয়ে এসেছে, যারা এই জার্সি পরে ১৪টি করে ম্যাচ খেলেছেন। নেইমারের এই অর্জন তাকে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সেরা তারকাদের দলে আরও দৃঢ়ভাবে জায়গা করে দিয়েছে।
শুধু বিশ্বকাপের জন্য নয়, জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সি পরে তিনি হাঁটছেন আরেকটি বড় রেকর্ডের কাছাকাছি। ব্রাজিলের হয়ে এই ঐতিহ্যবাহী জার্সি পরে তাঁর ম্যাচসংখ্যা এখন ৯৮।
এ ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছেন পেলে, যার রয়েছে ১০৫টি ম্যাচ। অর্থাৎ, শততম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করার জন্য নেইমারকে আর মাত্র দুটি ম্যাচ খেলতে হবে।
যদিও এই ম্যাচে তিনি শুরু থেকেই একাদশে ছিলেন না, তবে কোচ আনচেলত্তি ম্যাচের আগে জানিয়েছিলেন যে নেইমার পুরোপুরি ফিট এবং প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরার জন্য প্রস্তুত।
এই আস্থা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিফলিত হয়েছে।
নেইমারের উপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণে বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দেয় এবং নকআউট পর্বের আগে দলে আরও শক্তি যোগাবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
৯৮১ দিনের অপেক্ষা শেষে নেইমারের প্রত্যাবর্তন একজন ফুটবলারের মাঠে ফেরা ছাড়াও অধ্যবসায়, সংগ্রাম এবং প্রত্যাবর্তনের একটি অনন্য কাহিনি।
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা এখন আশা করছেন, বিশ্বকাপের বাকি পথচলায় তাদের প্রিয় তারকা আবারও জাদুকরী ফুটবল উপহার দিয়ে দলকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ