০২:০৬ পি.এম
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ন্যাটো জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষাবিষয়ক ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সাথে তুলনা করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে মক্কা চুক্তি ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতোই হতে পারে। পাশাপাশি, ফিদান স্পষ্ট করে বলেন, চুক্তিটির লক্ষ্য হচ্ছে ইরান নয়।
শনিবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আনাদোলু এজেন্সির ‘এডিটরস ডেস্ক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হতে পারে। তাঁর মতে, এই চুক্তিটির লক্ষ্য হচ্ছে কোনো নির্দিষ্ট দেশকে হুমকি দেওয়া নয়; বরং সম্মিলিত প্রতিরক্ষার মাধ্যমে অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা।
ফিদান আরও বলেন, চুক্তিতে কোনো অভিন্ন হুমকির উল্লেখ করা হয়নি। বরং এমনটা বলা হয়েছে, যদি কোনো দেশ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন দেশের ওপর হামলা না করে, তাহলে তাকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হবে না। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান সম্প্রসারণবাদী দেশ হিসেবে পরিচিত নয়। তারা নিজেদের সীমান্ত, সমস্যা এবং উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়েই বেশি মনোযোগী এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চান।
আরও পড়ুন: পারস্য উপসাগরে মাইনের আঘাতে দ্বিতীয় সুপারট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামরিক সক্ষমতা ও কাজের ধরন ভিন্ন হলেও তিনটি দেশের একত্রিত হওয়া একটি প্রতিরক্ষামুখী জোটে পরিণত হতে পারে। এই জোটের উদ্দেশ্য হচ্ছে আক্রমণ চালানো নয়; বরং সদস্য দেশগুলোর সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর জন্য প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো।
তিনি আরও জানান, চুক্তিটি আইনগত, রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং তুরস্ক এতে কোনো সমস্যা দেখতে পাচ্ছে না। ফিদান আবারও বলেন, চুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে ইরান নয়।
ফিদান জানান, ভবিষ্যতে এই জোটকে তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনে অন্যান্য দেশকেও এর আওতায় আনা হতে পারে। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে—এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করা।
চুক্তির অধীনে হামলার শিকার হওয়া কোনো সদস্য দেশ প্রয়োজন অনুযায়ী গোয়েন্দা তথ্য, রসদ, গোলাবারুদ বা সামরিক ইউনিটসহ অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জাম চাইতে সক্ষম হবে। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জোটের সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে তেলের দাম বেড়ে ১১০ ডলারে পৌঁছেছে
ফিদান বলেন, তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানদের নিয়ে একটি যৌথ রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটি তৈরি করা হয়। এ ছাড়াও সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, লজিস্টিক সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তি বিনিময়ের বিষয়গুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নিরাপত্তার দায়িত্বে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের মালিকানা বা ‘রিজিওনাল ওনারশিপ’ অভিজ্ঞান। তাঁর মতে, বাইরের শক্তির আধিপত্যের পরিবর্তে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা হওয়া উচিত।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন তিন সুন্নি মুসলিম দেশের এই জোট এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠিত হলো, যেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রফতানিকারক দেশগুলোও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
চুক্তির বিষয়ে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করাই এর মূল উদ্দেশ্য। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন