০২:০৭ পি.এম
পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আনসারসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো নিয়মিত টহল ও অভিযান জোরদারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সম্প্রীতি সভা, ক্রীড়া আয়োজনসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আজ ৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবস। এই দিবসটি ঘিরে তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে যাতে কোনো ধরনের জনদুর্ভোগ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে যে, পাহাড়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: কোম্পানীগঞ্জে কাদের মির্জার অনুসারী শীর্ষ সন্ত্রাসী কেচ্ছা রাসেল গ্রেফতার
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, "প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় জেলায় সম্প্রীতি বজায় রয়েছে।"
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত সম্প্রীতি সভার আয়োজন করা হয়। এসব সভায় সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন, যাতে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বড় ধরনের বিরোধ বা বিশৃঙ্খলায় রূপ না নেয়।
এছাড়া, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার উদ্যোগে বিভিন্ন সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে পারস্পরিক পরিচয়, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সহাবস্থান বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, "খাগড়াছড়িতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। তাদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।" তিনি আরও বলেন, "পূর্বাঞ্চলে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও তারা কাজ করছেন।"
আরও পড়ুন: গোমস্তাপুরে সড়ক পার হওয়ার সময় ভটভটিচাপায় গৃহবধূর প্রাণ গেল
বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের মাধ্যমে এখানকার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পাঠশালা সিএইচটি গবেষণা কেন্দ্রের সমন্বয়ক মোহাম্মদ কাউছার উল্লাহ বলেন, "সম্প্রীতি বাড়াতে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে মেলবন্ধন আরও বাড়ানো প্রয়োজন।"
শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, "সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।"
আরও পড়ুন: হিলি স্থলবন্দরে ৭ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক
স্থানীয়রা জানান, সেনাবাহিনী সম্প্রীতি রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। বিভিন্ন সময় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও নানা সহযোগিতা করা হচ্ছে।
দুর্গম এলাকায় যেখানে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন, সেখানে সেনাবাহিনীর চিকিৎসা দল গিয়ে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দুর্গম এলাকা থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসতেও সহযোগিতা করা হয়। এমনকি নিয়মিত টহলের সময়ও প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয়দের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কার্যক্রম পাহাড়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ হত্যা: দুর্গাপুরে অপূর্ব নামের যুবক গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন