০২:০৯ পি.এম
তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কৌশলগতভাবে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ (আর্টিকেল ৫) ভিত্তিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির সমান।
এমন বক্তব্যটি শনিবারে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তবে তিনি দাবি করেছেন যে, এই চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।
ফিদান আরও বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলছেন যে, তিনি এই জোটের পরিধি বাড়াতে চান এবং মিসরসহ আরও কয়েকটি দেশ এতে যোগ দেওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারে।
আরও পড়ুন: সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী, কিছু বিষয়ে অসন্তোষ
আঞ্চলিক শক্তিগুলো শুক্রবার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে। তথ্য অনুযায়ী, সুন্নি মুসলিম দেশগুলোর এই মিত্ররা আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন অবস্থায় রয়েছে, যেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রফতানিকারক দেশগুলোকে আঘাত করছে।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এই চুক্তির উদ্দেশ্য যেকোনও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করা। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, নতুন এই জোট ইরান বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। বরং এটি তিন মিত্র দেশের নিরাপত্তার প্রতি সাধারণভাবে পারস্পরিক সমর্থনের অঙ্গীকার হিসেবে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনও হামলার ঘটনা ঘটে, তবে মিত্র দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করে তারা কী মাত্রায়, কেমন ধরনের এবং কোন পদ্ধতিতে সহায়তা চাইবে, তা নির্ধারণ করবে। যদিও কোনও সদস্যদেশ আক্রান্ত না হলে, কোনও দেশকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা: রাষ্ট্রপতি
ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্ক জানিয়েছে, এই চুক্তিটি অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের জন্যও উন্মুক্ত এবং এটি বিদ্যমান কোনও জোটের বিকল্প হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি।
ফিদান আরো বলেন, “ন্যাটো একটি বিশাল সামরিক জোট, যেখানে ৩২টি দেশ রয়েছে। আমরা এখানে তিনটি দেশ নিয়ে শুরু করেছি এবং আমাদের খুবই বিনয়ী কিন্তু বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তিনি উল্লেখ করেছেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা দুই বছর আট মাস ধরে চলছিল।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ন্যাটোর অভ্যন্তরে থাকা ব্যবস্থা অনুসারে, মন্ত্রীদের একটি কমিটি এই জোটের অংশ হিসেবে গঠন করা হবে। তাছাড়া, সৌদি আরবে একটি সাধারণ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। তবে জোটের কার্যক্রম পরিচালনার বিস্তারিত বিষয়গুলো প্রথম কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: মেক্সিকোর উপকূলে নৌকাডুবিতে ১৬ জন উদ্ধার, ১১ জন নিখোঁজ
তিনি জানিয়েছেন, “আমাদের প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য হলো, আমরা যেন তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকি; বরং এই জোটের ছাতার নিচে সব আঞ্চলিক দেশকে একত্রিত করে এর পরিধি বাড়াই।”
তিনি আরও বলেন, কিছু কৌশলগত বিষয় সমাধান হয়ে গেলে মিসরও এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে। সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন