০২:১৫ পি.এম
কানাডায় ভয়াবহ দাবানল হাজার হাজার একর বনাঞ্চলকে পুড়িয়ে দিচ্ছে। ফাইল ছবি এএফপি দেওয়া হয়েছে। কানাডার বনাঞ্চলে জ্বলতে থাকা শত শত দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়া এবার গ্রাস করেছে প্রতিবেশী দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ধোঁয়ার চাদর তৈরি হওয়ায় বায়ুর মান অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে থাকার এবং অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার জন্য জরুরি পরামর্শ দিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার-এর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরের বায়ুর মান বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় চলে গেছে। শহরটির বায়ুদূষণ সূচক (একিউআই) রেকর্ড ৬০০-তে পৌঁছায়, যা মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার নির্ধারিত 'বিপজ্জনক' মাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। মার্কিন সরকারি তথ্যানুযায়ী, মিনেসোটা, মিশিগান, উত্তর ইলিনয়, উত্তর ওহিও এবং কানাডার অন্টারিও অঞ্চলে ধোঁয়ার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। মিনিয়াপোলিস, মিলওয়াকি ও টরন্টোর মতো বড় বড় শহরেও বায়ুর মান চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। এছাড়া মিনেসোটা থেকে মেরিল্যান্ড পর্যন্ত অন্তত ১০টি অঙ্গরাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় অস্বাস্থ্যকর বায়ুর জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
একজন শিকাগোর বাসিন্দা স্টেফানি ভিলানোভা নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, 'বাইরে তাকালে প্রথম দেখায় কুয়াশা মনে হলেও আসলে পুরো শহর ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। বাইরে গেলেই চোখ ও গলায় তীব্র জ্বালাপোড়া অনুভূত হচ্ছে।' মারাত্মক বায়ুদূষণের কারণে মিনেসোটায় বেশ কয়েকটি উন্মুক্ত কনসার্ট, মেলা ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিসে সব ধরনের আউটডোর কার্যক্রম এবং সুইমিং পুল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরাকের আল-ফাও উপকূলে জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা
কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞানী এমিলি ফিশার বলেন, 'বর্তমানে ধোঁয়ার একটি বিশাল প্রবাহ সরাসরি মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। এটি মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব, যা এখন মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসেও আঘাত হানছে।' নিউইয়র্কেও আকাশ ইতিমধ্যে কমলা রঙের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। নিউইয়র্ক সিটির mayor জোহরান মামদানি সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। শহরের বিভিন্ন লাইব্রেরি ও ফায়ার স্টেশনে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠেয় চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ঠিক আগে বায়ুদূষণের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় ফুটবল ভক্তদের মাঝে তীব্র উদ্বেগ জেগেছে।
কানাডা সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে বর্তমানে ৮৫৮টি দাবানল জ্বলছে, যার মধ্যে ১১১টি এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সবচেয়ে বেশি আগুন জ্বলছে ম্যানিটোবা, সাসকাচেওয়ান ও অন্টারিও প্রদেশে। চলতি মৌসুমে কানাডায় প্রায় ৫৯ লাখ একর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে দাবানলের সংখ্যা ও তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে, যা মানুষের ফুসফুস ও হৃদ্রোগের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ক্ষমতার হিসাব হবে ৩ নভেম্বর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন