মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৮:৪৫ এম
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) নবীন কর্মকর্তাদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দিতে নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মাঠ সমীক্ষা।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সাভারের বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ক্যাডারের ১৫ জন প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তা নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় পরিদর্শন করেন।
দুপুর ১২টার দিকে কর্মকর্তারা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৌঁছালে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রেজওয়ান আহমেদ (পিপিএম)। এ সময় জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আন্তরিক ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরিদর্শনকালে প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাদের সামনে নেত্রকোনার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা তুলে ধরা হয়। পরে জেলা পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।
প্রেজেন্টেশনে জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, জনসেবা এবং মাঠ পর্যায়ে পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, সাইবার অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিভিন্ন উদ্যোগ ও অর্জনের বিষয়েও প্রশিক্ষণার্থীদের অবহিত করা হয়।
পরে অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। এতে প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের কর্মপদ্ধতি এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান আহমেদ এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং জনবান্ধব, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের মাঠ সমীক্ষার মাধ্যমে নবীন ক্যাডার কর্মকর্তারা মাঠ প্রশাসনের বাস্তব চিত্র, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে জনবান্ধব ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে এ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ সময় জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মাহফুজা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম এবং সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বজল কুমার সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮।
ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ প্রকাশ করা হলো—
জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫০ মিনিটে।
আসরের নামাজ শুরু হবে ৪টা ৩ মিনিটে।
মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ৬টা ৪৫ মিনিটে।
এশার নামাজ শুরু হবে ৬টা ৫৮ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৪১ মিনিটে
আজ ঢাকায় সূর্যাস্তের সময় ৫টা ৪৩ মিনিট এবং আগামীকাল সূর্যোদয়ের সময় ৫টা ৫১ মিনিটে হবে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং। যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্তিতে দীর্ঘসূত্রতা বিশেষ করে বহু পুরোনো মিগ-২১ বহর অবসরে পাঠানোর পর স্কোয়াড্রন সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় চরম শূন্যতা তৈরি করেছে। অনুমোদিত ৪২.৫টি স্কোয়াড্রনের বিপরীতে বর্তমানে তা নেমে এসেছে আশঙ্কাজনক মাত্র ২৯-এ। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে ভারতকে প্রতি বছর অন্তত ৩৬ থেকে ৪০টি আধুনিক যুদ্ধবিমান বাহিনীতে যুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
৯৪তম বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং বলেন, “প্রযুক্তির আগমনে বিলম্ব মানেই সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হওয়া (টেকনোলোজি ডিলেইড ইজ টেকনোলোজি ডিনাইড)। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলেও এবারের বিলম্ব সীমা ছাড়িয়ে গেছে, যা সরাসরি আমাদের আঘাত করছে।” তিনি আরও জানান, যদিও বহর সংকুচিত, ভারতীয় বিমান বাহিনী দুর্বল নয়। ঘাটতি মেটাতে এলসিএ তেজস মার্ক-১এ, প্রস্তাবিত মার্ক-২, মাল্টিরোল ফাইটার এয়ারক্রাফট (এমআরএফএ) এবং দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘আমকা’ (এএমসিএ) কর্মসূচির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফ্রান্সের সাথে ১১৪টি রাফাল বিমান কেনার চুক্তি চলতি অর্থবছর নাগাদ সই হতে পারে এবং রাশিয়া তাদের সুখোই-৫৭ স্টেলথ বিমানের প্রস্তাব দিলেও এ বিষয়ে নয়াদিল্লি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এদিকে, পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও চীনা সামরিক আগ্রাসন নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় বিমান প্রধান। পাকিস্তান চীন থেকে পঞ্চম প্রজন্মের জে-৩৫এ স্টেলথ ফাইটার জেট সংগ্রহ করতে যাচ্ছে এবং তাদের বৈমানিকরা চীনে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে- এমন তথ্যকে তিনি ‘উদ্বেগের বড় কারণ’ বলে আখ্যা দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ সর্বাধুনিক স্টেলথ বিমান বিদেশে রফতানির ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা সমীকরণে ভারতের জন্য মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বহুল প্রচারিত ‘আত্মনির্ভর ভারত’ বা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ সেøাগানের সীমাবদ্ধতা নিয়েও বাস্তবসম্মত মন্তব্য করেছেন এয়ার চিফ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আত্মনির্ভরতা প্রয়োজনীয় হলেও জাতীয় প্রতিরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে বা কোনো সমঝোতা করে তা রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নয়। ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ওপর জোর দিলেও আধুনিক সমরাস্ত্র ও সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাই যে চূড়ান্ত সামরিক শক্তির মূল চাবিকাঠি, বিদায়লগ্নে তা স্পষ্টভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর এ শীর্ষ কর্মকর্তা। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জাতীয় রাজনীতি যখন উত্তাল, তখন ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূইয়াঁ। তিনি বলেন, "কোনো ব্যক্তি নাগরিক থাকবেন, অথচ ভোট দিতে পারবেন না- এমন ব্যবস্থা একেবারে সংবিধানের ভিতেই আঘাত করে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোটি কোটি ভারতীয় নাগরিক যদি ভোটাধিকার হারান, তাহলে সেই প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই খামখেয়ালি ও স্বেচ্ছাচারী হিসেবে গণ্য হবে। বিচারপতি ভূইয়া বলেন, "পাল্টা অভিযোগ তুলে বা নজর ঘুরিয়ে এ ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই ন্যায্য বলা যায় না।"
রবিবার হায়দরাবাদের নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচারপতি বোধরাজ সাহনি স্মারক প্রতিযোগিতার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন বিচারপতি ভূইয়া। সেখানে তিনি ভোটাধিকারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, নাগরিকের পরিচয় থেকে ভোট দেওয়ার অধিকার কিংবা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অধিকার আলাদা করা যায় না। তিনি বলেন, "এটা হবে শরীর থেকে আত্মাকে বের করে নেওয়ার মতো।"
এসআইআর সংক্রান্ত একটি আবেদন ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটেও বিচারপতির বক্তব্যের তাৎপর্য রয়েছে। তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতা; এটি কোনো মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় বা নির্দেশ নয়।
‘নিজের দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’
বিচারপতি ভূইয়াঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল একটি মৌলিক প্রশ্ন- নাগরিকত্ব বহাল রেখে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হলে গণতন্ত্রের অবশিষ্ট থাকে কী? তিনি বলেন, "কোনও প্রক্রিয়ার ফলে যদি কোটি কোটি ভারতীয় নাগরিক ভোটাধিকার হারান, ভোটাধিকারহীন নাগরিক হিসেবে নিজের দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হন, তা হলে সেই প্রক্রিয়া অন্তর্নিহিত ভাবেই স্বেচ্ছাচারী।" তিনি আরও বলেন, "কোনও ধরনের প্রসঙ্গ টেনে এনে তাকে ন্যায্য করা যায় না।"
তিনি ইংরেজিতে ‘হোয়াটঅ্যাবাউটারি’ শব্দটি ব্যবহার করেন, যা একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অন্য ঘটনা বা অন্যের কাজ সামনে এনে মূল প্রশ্ন থেকে নজর সরানোর কৌশল বোঝায়। বিচারপতি ভূইয়ার বক্তব্য স্পষ্ট, বিপুল সংখ্যক নাগরিকের ভোটাধিকার হরণের প্রশ্নকে এভাবে পাশ কাটানো যায় না।
তিনি আরও বলেন, এমন প্রক্রিয়া ‘সংবিধানের একেবারে হৃদয়ে আঘাত করে’। বিচারপতির মতে, এটি ভারতীয় সংবিধানের অধীনে গৃহীত সাংবিধানিক ব্যবস্থার অস্বীকৃতিও বলা যায়।
ভোটের অধিকার সমতার ভিত্তি
ভোটাধিকার কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝাতে বিচারপতি ভূঁইয়া সংবিধানের ৩২৫ ও ৩২৬ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তোলেন। ৩২৫ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, লোকসভা বা রাজ্যের আইনসভার নির্বাচনের জন্য প্রতিটি আঞ্চলিক নির্বাচনী কেন্দ্রে একটি সাধারণ ভোটার তালিকা থাকবে। ধর্ম, বর্ণ, জাত বা লিঙ্গের কারণে কাউকে সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অযোগ্য বলা যাবে না।
৩২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লোকসভা ও রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হবে প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে। বিচারপতি জানান, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের ভারতীয় নাগরিক, যিনি সংবিধান বা উপযুক্ত আইনসভার তৈরি আইনে নির্ধারিত কারণে অযোগ্য নন, তিনি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার অধিকারী। তিনি বাসস্থান-সংক্রান্ত অযোগ্যতা, মানসিক অসুস্থতাজনিত আইনগত অযোগ্যতা, অপরাধ কিংবা দুর্নীতিপূর্ণ বা বেআইনি আচরণের মতো নির্দিষ্ট ভিত্তির কথাও উল্লেখ করেন।
অর্থাৎ ভোটার হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার সাংবিধানিক কাঠামো রয়েছে। সেই কাঠামোর আলোচনাতেই কোটি কোটি নাগরিককে নির্বিচারে ভোটাধিকারহীন করে দেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন বিচারপতি।
‘ধনকুবের ও রিকশাচালকের ভোটের দাম সমান’
ভোটাধিকার যে কেবল নির্বাচনী আনুষ্ঠানিকতা নয়, সমাজের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানোর হাতিয়ারও, তা বোঝাতে সরাসরি উদাহরণ দেন বিচারপতি ভূঁইয়া। তিনি বলেন, "একজন ধনকুবের হতে পারেন, আর একজন রিকশাচালক। কিন্তু দু’জনেরই ভোট থাকবে এবং তাঁদের ভোটের মূল্য হবে সমান।"
একইভাবে সামাজিকভাবে উচ্চ অবস্থানে থাকা মন্দিরের পুরোহিত এবং সমাজের সবচেয়ে নীচের স্তরে থাকা, হাতে মানববর্জ্য পরিষ্কারের কাজে বাধ্য হওয়া ব্যক্তির ভোটেরও সমান মূল্য। বিচারপতির মতে, এটাই ভারতীয় সংবিধানের সমাজ বদলের দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন, সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা কিংবা পেশার ভিত্তিতে ভোটের ওজন বদলায় না। এই সমান ভোটাধিকার গ্রহণকে ভারতে সাম্য প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
ভারতে প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ধারণার ইতিহাসও তুলে ধরেন বিচারপতি ভূঁইয়া। তিনি জানান, ১৮৯৫ সালের ‘কনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়া বিল’, যা ‘স্বরাজ বিল’ নামেও পরিচিত, সেখানে এই ভাবনার প্রাথমিক প্রকাশ পাওয়া যায়। গণপরিষদের বিতর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খসড়া সংবিধানের ২৮৯এ এবং ২৮৯বি অনুচ্ছেদই পরে যথাক্রমে ৩২৫ ও ৩২৬ অনুচ্ছেদ হয়েছে।
বি আর আম্বেদকরের বক্তব্যের উল্লেখ করে বিচারপতি জানান, ভোটাধিকার ও প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তি সংবিধানে স্পষ্টভাবে লিখে রাখার প্রয়োজন ছিল। তা সংসদীয় আইন প্রণয়নের খেয়ালখুশির ওপর ছেড়ে দেওয়ার বিষয় নয়।
বিচারপতি ভূইয়াঁর মতে, দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার গ্রহণ ছিল স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত। ভারত যে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বেছে নিয়েছে, তার অপরিহার্য উপাদান এটি। সেই কারণেই নাগরিকের ভোটাধিকার হরণ নিছক তালিকা সংশোধনের বিষয় নয়। তা সমতা, নাগরিকের মর্যাদা এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থার ভিত্তি রক্ষারও প্রশ্ন। সূত্র : দ্য ওয়াল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানি আক্রমণের ঝড় বইয়ে দিয়েও জয় লাভ করতে পারেনি। গ্রীস, যারা আগের রাউন্ডে স্মরণীয় জয় নিয়ে এসেছিল, তাদের জমাট রক্ষণে ঘরের মাঠে জার্মানদের রুখে দিয়েছে।
গ্রিসে রোববার রাতে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রতে শেষ হয়েছে। নতুন কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের অধীনে জার্মানি প্রথম চার ম্যাচের তিনটিতেই জয়হীন রয়ে গেছে।
এদিন ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই জার্মানির আধিপত্য ছিল। পুরো ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে ২১ বার শট নিয়েছে। কিন্তু কোনটিতেই সফলতা আসেনি। প্রথমার্ধে ক্লপের দলের একটি গোল হয়েছিল, ৩২ মিনিটে জোনাথন বারকার্দত ক্রস থেকে গোল করেন। তবে ভিএআরের হস্তক্ষেপে দেখা যায়, জার্মান মিডফিল্ডার টম বিশচফ হ্যান্ডবল করেছেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
গ্রিস প্রথমার্ধে তাদের একমাত্র উল্লেখযোগ্য সুযোগটি পায় ম্যাচের প্রথম মিনিটে। মাসোরাসের হেড রুখে দেন গোলরক্ষক ইয়োনাস উরবিগ।
দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে লেনার্ট কার্লের শট ঠেকান গ্রিসের গোলরক্ষক। বাকি সময়ে সফরকারীরা আর একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। বরং এই সময়ে গ্রীস তাদের রক্ষণে কয়েকটি দারুণ আক্রমণ চালিয়ে অঘটনের ইঙ্গিত দিয়েছিল।
ড্রয়ের পর লীগ টেবিলে গ্রিস দারুণ সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে। লিগ এ-র গ্রুপ টু পয়েন্ট তালিকায় জার্মানির উপরে থেকে এবারের আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ করেছে। ৪ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল তৃতীয় স্থানে রয়েছে। অপরাজিত থাকা গ্রিস সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তলানিতে থাকা সার্বিয়াকে ২-১ গোলে হারানো নেদারল্যান্ডস ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ