০৮:৫২ এম
ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং। যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্তিতে দীর্ঘসূত্রতা বিশেষ করে বহু পুরোনো মিগ-২১ বহর অবসরে পাঠানোর পর স্কোয়াড্রন সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় চরম শূন্যতা তৈরি করেছে। অনুমোদিত ৪২.৫টি স্কোয়াড্রনের বিপরীতে বর্তমানে তা নেমে এসেছে আশঙ্কাজনক মাত্র ২৯-এ। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে ভারতকে প্রতি বছর অন্তত ৩৬ থেকে ৪০টি আধুনিক যুদ্ধবিমান বাহিনীতে যুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
৯৪তম বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং বলেন, “প্রযুক্তির আগমনে বিলম্ব মানেই সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হওয়া (টেকনোলোজি ডিলেইড ইজ টেকনোলোজি ডিনাইড)। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলেও এবারের বিলম্ব সীমা ছাড়িয়ে গেছে, যা সরাসরি আমাদের আঘাত করছে।” তিনি আরও জানান, যদিও বহর সংকুচিত, ভারতীয় বিমান বাহিনী দুর্বল নয়। ঘাটতি মেটাতে এলসিএ তেজস মার্ক-১এ, প্রস্তাবিত মার্ক-২, মাল্টিরোল ফাইটার এয়ারক্রাফট (এমআরএফএ) এবং দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘আমকা’ (এএমসিএ) কর্মসূচির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফ্রান্সের সাথে ১১৪টি রাফাল বিমান কেনার চুক্তি চলতি অর্থবছর নাগাদ সই হতে পারে এবং রাশিয়া তাদের সুখোই-৫৭ স্টেলথ বিমানের প্রস্তাব দিলেও এ বিষয়ে নয়াদিল্লি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
এদিকে, পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও চীনা সামরিক আগ্রাসন নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় বিমান প্রধান। পাকিস্তান চীন থেকে পঞ্চম প্রজন্মের জে-৩৫এ স্টেলথ ফাইটার জেট সংগ্রহ করতে যাচ্ছে এবং তাদের বৈমানিকরা চীনে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে- এমন তথ্যকে তিনি ‘উদ্বেগের বড় কারণ’ বলে আখ্যা দেন।
আরও পড়ুন: নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অস্ট্রেলীয় সিনেটর জর্ডন স্টিল-জন
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ সর্বাধুনিক স্টেলথ বিমান বিদেশে রফতানির ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা সমীকরণে ভারতের জন্য মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বহুল প্রচারিত ‘আত্মনির্ভর ভারত’ বা ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ সেøাগানের সীমাবদ্ধতা নিয়েও বাস্তবসম্মত মন্তব্য করেছেন এয়ার চিফ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আত্মনির্ভরতা প্রয়োজনীয় হলেও জাতীয় প্রতিরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে বা কোনো সমঝোতা করে তা রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নয়। ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ওপর জোর দিলেও আধুনিক সমরাস্ত্র ও সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাই যে চূড়ান্ত সামরিক শক্তির মূল চাবিকাঠি, বিদায়লগ্নে তা স্পষ্টভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর এ শীর্ষ কর্মকর্তা। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন