ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শৈশবের ক্লাবে চতুর্থ অধ্যায় শুরু করছেন সিলভা


শৈশবের ক্লাবে চতুর্থ অধ্যায় শুরু করছেন সিলভা

বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন নিয়ে ইউরোপে ফিরে গিয়েছিলেন থিয়াগো সিলভা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়া সম্ভব হয়নি ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডারের জন্য। যদিও প্রাথমিক দলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তবুও ২৬ জনের চূড়ান্ত দলে তাকে জায়গা দেননি কার্লো আনচেলত্তি। এই অবস্থায় নতুন খবর হলো, স্বপ্নভঙ্গের বেদনাকে নিয়েও আবার ব্রাজিলে ফিরে গেছেন সিলভা। তিনি চতুর্থবারের মতো যোগ দিয়েছেন শৈশবের ক্লাবে।

ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভা আবারও ক্লাবে ফিরে এসেছেন। পর্তুগিজ চ্যাম্পিয়ন পোর্তো ছাড়ার পর, তিনি ফ্লুমিনেন্সের সঙ্গে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি সারা দিয়েছেন। ক্লাবটি জানাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে তিনি দলের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করবেন। দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষ শিরোপাগুলোর লড়াইয়ে নিজেদের অস্তিত্ব আরও শক্তিশালী করতেই এই অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাককে দলে ফিরিয়েছে ফ্লুমিনেন্স।

ক্লাবটি নিশ্চিত করেছে যে, এটি সিলভার চতুর্থ দফার ফ্লুমিনেন্স অধ্যায় হবে, যার মধ্যে রয়েছে তার যুব একাডেমির সময়টিও। পোর্তো ছাড়ার পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু সপ্তাহ ধরে জল্পনা চলছিল, কিন্তু শেষে তিনি শৈশবের ক্লাবে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

আগামী সপ্তাহে, তিনি ক্লাবের সিটি কার্লোস কাস্তিলহো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ দেবেন। সিলভাকে দলে ভেড়াতে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় ক্লাব আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, কিন্তু ফ্লুমিনেন্সের সঙ্গে তার গভীর আবেগময় সম্পর্কই তাকে শেষ পর্যন্ত রিও ডি জেনিরোতে ফিরে আসার দিকে টেনে নিয়েছে।

সিলভার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ফ্লুমিনেন্স এক আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেছে। ক্লাবটি জানায়, এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যা কখনই সত্যিকার অর্থে শেষ হয়নি।

ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'যা বিদায় বলে মনে হয়েছিল, আসলে তা ছিল "পরে আবার দেখা হবে”। কারণ কিছু গল্প কখনও শেষ হয় না। থিয়াগো সিলভা ফ্লুমিনেন্সে ফিরে এসেছে। ‘দ্য মনস্টার’ আবার ক্লাবে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।'

ফ্লুমিনেন্সের হয়ে বিভিন্ন সময়ে সিলভা মোট ২১২ ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৯টি গোল করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ক্লাবটির আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

আরও পড়ুন: মঙ্গলবার অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধবিষয়ক সেমিনারে যোগ দেবেন ডা. জুবাইদা রহমান

ইউরোপে তার ক্যারিয়ার ছিল অসাধারণ সাফল্যে ভরা। তিনি এসি মিলান, পিএসজি এবং চেলসির হয়ে খেলেছেন। পিএসজির হয়ে সাতটি লিগ শিরোপা জিতেছেন এবং চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার অবদান বিশাল। ব্রাজিলের হয়ে তিনি ১১৩টি ম্যাচ খেলেছেন এবং চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তিনটিতে দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। এছাড়া ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে ফ্লুমিনেন্সকে সেমিফাইনালে তুলেও তিনি নিজের কিংবদন্তি মর্যাদা আরও দৃঢ় করেছেন।

দলে যোগ দেওয়ার পর, দ্রুতই তিনি মূল স্কোয়াডের অংশ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ফ্লুমিনেন্স ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ১৮ ম্যাচ শেষে তারা শীর্ষে থাকা পালমেইরাসের থেকে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে। বিশ্বকাপ বিরতির পর, ১৮ জুলাই মারাকানা স্টেডিয়ামে তাদের পরবর্তী ম্যাচটি রেড বুল ব্রাগান্তিনোর বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে, সহিংসতা কমেছে : ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাড়ল দেশের রিজার্ভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


বাড়ল দেশের রিজার্ভ

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে বর্তমানে ৩৫ হাজার ৭৯৮ দশমিক ১১ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, ২৩ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৭৯৮ দশমিক ১১ মিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৪৪ দশমিক ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

এর আগে, গত ২২ জুন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ১৮১ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার।

নিট রিজার্ভের হিসাব করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি অপশক্তি সক্রিয়: ইউনুছ আহমাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি অপশক্তি সক্রিয়: ইউনুছ আহমাদ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, "দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি পরাজিত অপশক্তির অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। এমতাবস্থায় প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। পাশাপাশি সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।"

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে আইএবি মিলনায়তনে ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘চলমান পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ আরও বলেন, "স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ খুঁজে ফিরি। বন্ধু রাষ্ট্রের অবন্ধু সুলভ আচরণ আমাদেরকে হতাশ করছে। সাম্প্রতিককালে পুশইনের নামে নতুন এক ষড়যন্ত্রের শিকার আমরা। এ নিয়ে রাষ্ট্রকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।"

পুশইন ঠেকাতে বিজিবির রাতজাগা পাহারার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, "এমন সাহসী সন্তানেরাই একাত্তরে দেশ স্বাধীন করেছে এবং চব্বিশে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। আগামীদিনে দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো চক্রান্ত মোকাবেলায় দেশপ্রেমিক সাহসী বীর সন্তানদের জাগ্রত থাকার আহ্বান জানান তিনি।"

ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াদুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাণঘাতী ডেঙ্গু মোকাবিলায় সৈন্য মোতায়েন করছে শ্রীলঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪১ পি.এম


প্রাণঘাতী ডেঙ্গু মোকাবিলায় সৈন্য মোতায়েন করছে শ্রীলঙ্কা

ডেঙ্গুর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ার ফলে শ্রীলঙ্কাজুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণঘাতী এ রোগ মোকাবিলায় দেশটির সরকার সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মশার বংশবৃদ্ধির স্থান চিহ্নিত ও ধ্বংসের জন্য একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এ ইউনিটে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

শ্রীলঙ্কায় চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ডেঙ্গুর কারণে প্রাণ গেছে অন্তত ২৯ জনের। তবে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় অনেক কম। ওই বছর দেশটিতে ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৪৪০ জনের প্রাণহানি ঘটে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ সামরিক ইউনিট গঠনের পাশাপশি যাদের আঙিনায় মশার বংশবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে; তাদের বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

মশার প্রজননস্থলগুলো পরিষ্কার করার জন্য আগামী বুধবার (২৪ জুন) দেশব্যাপী অভিযান শুরু করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু এবং মশা বাহিত অন্যান্য ভাইরাস আরও দ্রুত ও বিস্তৃতভাবে ছড়াচ্ছে।

দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে মাত্র এক দিনের মধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সরকারের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়লে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো তা সামাল দিতে সক্ষম নাও হতে পারে।

কলম্বোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই ইউনিটের প্রধান কপিলা কান্নাঙ্গারা বলেন, হাসপাতালগুলোতে ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের প্রবল চাপ তৈরি হয়ে গেছে। আমরা ২০১৭ সালে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম, তেমন কোনও অবস্থার পুনরাবৃত্তি চাই না। মৌসুমী বৃষ্টিপাত, সাম্প্রতিক বন্যার কারণে জমে থাকা পানি এবং যত্রতত্র ফেলা বর্জ্য মশার দ্রুত বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।

সূত্র: এএফপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের ‘সৌর বিপ্লব’ থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে : সিপিডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ পি.এম


পাকিস্তানের ‘সৌর বিপ্লব’ থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে : সিপিডি

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে গতিশীল করতে বিশেষজ্ঞরা নীতিগত সংস্কার, কর ও শুল্ক হ্রাস এবং সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ‘সৌর বিপ্লব’ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার ক্ষেত্র হতে পারে। বিশেষ করে রুফটপ সোলার ও বিতরণভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণে খুবই সহায়ক হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পাকিস্তানে সৌর বিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক এক সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সংলাপে বক্তারা মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, পাকিস্তানে স্বল্প সময়ে সৌরবিদ্যুতের বিস্তৃত ব্যবহার বিদ্যুৎ খাতের চিত্র বদলে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে।

তিনি জানান, এবারের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) ও ব্যাটারি শিল্পে কিছু কর ও রাজস্ব সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কৃষি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংলাপে উপস্থাপিত ‘সোলার রাশ’ শীর্ষক প্রবন্ধে মোহাম্মদ বাসিত ঘৌরি বলেন, বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুতের রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তবে উচ্চ কর, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত জটিলতা এ খাতের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

তিনি জানান, ২০২৫ অর্থবছরে পাকিস্তানে সৌর প্যানেল আমদানি ১৭.৯ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা দেশটির গ্রিড সক্ষমতার চেয়েও বেশি। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ২৮-৩৮ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপিত হয়েছে, যার বড় অংশই বিতরণভিত্তিক ব্যবস্থায়। বিদ্যুতের উচ্চমূল্য ও গ্রিড ব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের দ্রুত বিস্তারের প্রধান কারণ। পাশাপাশি চীনে উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে সৌর প্যানেলের দাম কমে যাওয়া এই খাতে ‘সোলার রাশ’ তৈরি করেছে।

বাসিত ঘৌরি বলেন, পাকিস্তানে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৭৩ লাখ পরিবার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যার বড় অংশই গ্রামীণ এলাকায়। সৌরবিদ্যুতের কারণে বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমেছে এবং আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে।

সংলাপে উপস্থাপিত আরেকটি গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সোলার হোম সিস্টেম একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অফ-গ্রিড কর্মসূচি ছিল এবং দুই কোটির বেশি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এনেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই কর্মসূচির গতি কমে এসেছে এবং অনেক সিস্টেম অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

গবেষণায় বলা হয়, দেশে বর্তমানে নেট-মিটারিংভিত্তিক রুফটপ সোলার স্থাপনার সংখ্যা সীমিত হলেও তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে উচ্চ কর, নেট মিটারিং অনুমোদনের জটিলতা, অর্থায়নের ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতা খাতটির বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর-সুবিধা দিয়েছে এবং সেচ পাম্পসহ বিভিন্ন খাতে সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশও পাকিস্তানের মতো দ্রুতগতির সৌর রূপান্তরের পথে এগোতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%