০৯:০১ এম
পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলার ১১ নম্বর সাপলেজা ইউনিয়নে অতিবর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের জন্য আসা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চাল চুরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিতরণের সময় ৬ বস্তা চাল পাচার করে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর দোকানে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই চাল চুরির ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির খান, সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন এবং ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় চাল জব্দ করা হলেও প্রধান অভিযুক্তদের ভূমিকা নিয়ে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি ত্রাণ বিতরণ ও চাল গায়েবের নেপথ্যে
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৫০০ জন দুস্থ ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মাঝে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাপলেজা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বরত প্রশাসক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শফিকুল ইসলাম নিজে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে উপস্থিত থেকে এই চাল বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করেন।
আরও পড়ুন: ঢাকার ধামরাইয়ে আজ সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যারা
তবে চাল বিতরণ প্রক্রিয়া চলাকালীন বা তার পরপরই একটি চক্র অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের ৬ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কৌশলে সরিয়ে ফেলে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে—বিএনপি নেতা নাসির খান, হাবিবুর রহমান আকন এবং প্যানেল চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মিলে সরকারি এই ত্রাণের চাল পাচার করেন। পরে তা সাপলেজা বাজারের ব্যবসায়ী খলিলের দোকানে এনে গোপনে মজুত করে রাখা হয়।
গোয়েন্দা অভিযান ও চাল জব্দ
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চাল পাচার ও চুরির গোপন সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) স্থানীয় কর্মকর্তা মামুন। তিনি সাপলেজা বাজারের খলিলের দোকানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা সরকারি চালের বস্তাগুলো হাতেনাতে আটক ও জব্দ করেন।
অভিযানের বিষয়ে ডিজিএফআই কর্মকর্তা মামুন তালাশ বিডিকে জানান, "আমরা নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাপলেজা বাজারের খলিলের দোকানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সরকারি ত্রাণের ৬ বস্তা চাল আটক করি। তবে দোকানদার খলিল আমাদের কাছে দাবি করেছেন, বৃষ্টির কারণে ভিজে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে চালগুলো সাময়িকভাবে তার দোকানে এনে রাখা হয়েছিল। তবে দোকানদারের এই বক্তব্যের পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, কিংবা কোনো প্রভাবশালী মহলের ভয়ভীতি ও চাপের মুখে তিনি এই কথা বলছেন কি না—তা আমরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি।"
আরও পড়ুন: বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুর বিরুদ্ধে মামলা, মব আতঙ্কে বাড়িছাড়া মা-মেয়ে
সরকারি ত্রাণের চাল চুরির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে নাম জড়িয়ে পড়ায় বিএনপি নেতা নাসির খান ও প্যানেল চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন ও সমালোচনার ঝড় বইছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানতে ঘটনার অন্যতম মূল অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান আকনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এবং তার এই রহস্যজনক নীরবতার কারণে চাল চুরির অভিযোগের সত্যতা নিয়ে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
দুস্থ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হকের চাল যারা এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে চুরি বা পাচার করতে পারে, তাদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাপলেজা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় নিজস্ব অর্থায়নে ৭৫ বিজয়ীকে পুরস্কার দিলেন মেয়র প্রার্থী মুন্সী বিল্লাল হুসাইন
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি চাল আত্মসাৎ বা অপব্যবহারের এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন