বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৫১ এম
চার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিল, যারা বাংলাদেশি তকমা দিয়ে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। অবশেষে, দীর্ঘ আইনি জটিলতা কাটিয়ে তারা বাংলাদেশ সীমান্ত পার করে ভারতে ফিরে এসেছেন। বিএসএফের অবৈধ পুশইনের শিকার হওয়া সেই চার ভারতীয় নাগরিক দেশের কাছে ফিরেছেন। ভারতের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে, এক বছরের অপেক্ষার পর তারা বাংলাদেশে কারাগার থেকে দেশে ফিরলেন। সুইটি বিবি, তার দুই নাবালক সন্তানসহ মোট চারজন ফিরেছেন। বুধবার, বাংলাদেশের সোনামসজিদ সীমান্ত পার করে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার মাহাদিপুর এলাকার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমান্তের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা হলেও, গত এক দশক ধরে দিল্লিতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করছিল সুইটির পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশি সন্দেহে ২০২৫ সালের জুন মাসে সুইটি ও তার দুই সন্তান এবং প্রতিবেশী দানিশ শেখ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনালী বিবি ও তাদের এক সন্তানকে (মোট ৬ জন) গ্রেফতার করে দিল্লির কে.এন. কাটজু মার্গ থানার পুলিশ। পরে বিএসএফের মাধ্যমে তাদেরকে আসামের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে প্রবেশের পর তারা স্থানীয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ দ্বারা অনুপ্রবেশের মামলায় গ্রেফতার হন। এরপর, আদালতের আদেশে তারা স্থানীয় কারাগারে বন্দি হয়ে ছিলেন। যদিও মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অভিযোগ ছিল, তাদের নাগরিকত্বের তথ্য যাচাই-বাছাই না করেই ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়। সোনালীসহ তাদের পুশব্যাকের ঘটনায় ভারতজুড়ে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে সুইটি বিবি এবং সোনালী বিবির পরিবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। সেই মামলা পরে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। পরবর্তীতে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাংলাদেশ থেকে দেশে ফেরার সুযোগ পান অন্তঃসত্ত্বা নারী সোনালী বিবি ও তার পুত্রসন্তান সাবির। মূলত মানবিকতার খাতিরেই তাদের মুক্তি দেয় বাংলাদেশের আদালত। কিন্তু তার স্বামী দানেশ শেখ এবং সুইটি ও তার দুই সন্তান তখনও বাংলাদেশের কারাগারে ছিলেন। গত ২২ মে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, তথ্য যাচাই-বাছাই করার পর তারা পুশব্যাক করা ওই চার ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। সেক্ষেত্রে, প্রায় এক বছর পর বুধবার মালদহের মাহাদিপুর স্থলসীমান্ত দিয়ে ভারতে ফেরেন সুইটিসহ মোট চারজন ভারতীয় নাগরিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মর্যাদা পাওয়ার পরও নাগরিকরা এখনও জলাবদ্ধতার সংকটে রয়েছেন। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক, আবাসিক এলাকায় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি জমে যাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বহু এলাকায় বৃষ্টি শেষ হলেও পানি নামতে সমস্যা হওয়ার কারণে হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এর এই চিত্র দেখা যায়।
সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর পৌরসভা ২০২১ সালে গঠন করা হয় কিন্তু অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা, এবং পানি নিষ্কাশনের অভাবে সামান্য ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এই পৌরসভায় প্রায় তিনশতাধিক শিল্প কারখানা অবস্থিত।রিকর্সের কারণে এ সকল শিল্প কারখানার শ্রমিকরা জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এর ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ এখনও সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ ভোগ করছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
কালিকাপুর পৌরসভার পর্ষদ এবং নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল হোসাইন জানান, পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থার জন্য ড্রেন পরিষ্কারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এটি সাময়িক সমাধান নয়, বরং জলাবদ্ধতা নিরসন করতে দীর্ঘমেয়াদি এবং কার্যকর পরিকল্পনা কার্যকরী করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব মাঠে গড়ানোর আগে মাঠের বাইরের তুমুল উত্তেজনা শুরু হয়ে গেছে। বোস্টন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে গতবারের রানার্সআপ ফ্রান্স ও আফ্রিকার সিংহ মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপের সেই রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটিকে ঘিরে বর্তমানে ফুটবল বিশ্বে অন্যরকম একটি বিতর্কের ঝড় বইছে। এই মেগা ম্যাচের দায়িত্বভার সম্পূর্ণ এক আর্জেন্টাইন রেফারি প্যানেলের হাতে তুলে দিয়েছে ফিফা, যা নিয়ে ফরাসি শিবিরে এক ধরনের অস্বস্তি এবং ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, খোদ কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্য এই সিদ্ধান্ত বিশাল মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম বড় বিতর্কের সূত্রপাত মূলত শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার লড়াইকে কেন্দ্র করে। সেই ম্যাচে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার এবং তার পুরো ফরাসি রেফারিং দল। আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে সেই ম্যাচটি জিতলেও মাঠের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয় এবং অভিযোগ ওঠে যে ফরাসি রেফারির কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পক্ষে গেছে। এর ঠিক কদিন পরই যেন নাটকের উল্টো পিঠ দেখা গেল ফুটবল বিশ্বে। এবার ফ্রান্সের বাঁচা-মরার লড়াই পরিচালনা করার দায়িত্ব পেলেন আর্জেন্টিনার রেফারিরা।
ফিফার অফিসিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী, আজকের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের মূল রেফারির দায়িত্বে থাকবেন ফাকুন্দো তেল্লো। তাকে সহযোগিতা করবেন অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে হুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চাদে। এ ছাড়া চতুর্থ অফিশিয়াল হিসেবে আছেন দারিও হেরেরা এবং রিজার্ভ রেফারি হিসেবে থাকবেন ক্রিশ্চিয়ান نাভারো। চলতি বিশ্বকাপে এবারই প্রথম মাঠের প্রধান পাঁচ জন অফিশিয়ালের সবাই একই দেশের নাগরিক। এর আগে ফাকুন্দো তেল্লো যে দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন, সেখানে চতুর্থ ও রিজার্ভ রেফারি ছিলেন যথাক্রমে সৌদি আরব ও কলম্বিয়া।
ফিফা সাধারণত অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা এবং মাঠের পারফরম্যান্স বিবেচনা করেই রেফারি নিয়োগ দেয়। এই আর্জেন্টাইন রেফারিদের সততা বা নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলেও ফুটবল অনুরাগী ও বোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এর বড় কারণ হলো, টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেট বা সমীকরণ অনুযায়ী আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স একই দিকেই অবস্থান করছে। আজকের ম্যাচে ফ্রান্স জিতলে এবং অন্য ম্যাচে আর্জেন্টিনা তাদের জয় ধরে রাখলে সেমিফাইনাল মাঠে গড়াবে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মহারণ। ফলে ফ্রান্সের ম্যাচে আর্জেন্টাইন রেফারিদের উপস্থিতি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন ফরাসি সমর্থকেরা।
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সেরা রেফারি ফাকুন্দো তেল্লোর ক্যারিয়ারে এটি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা।
সূত্র: মার্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দুই দেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ তৈরি করেছে। তিনি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন, পারমাণবিক জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সবুজ হাইড্রোজেন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে উভয় দেশই লাভবান হবে।
বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় একটি ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। বুধবার রাতে তিনি মেলবোর্নে পৌঁছান। মোদি এ সময় বলেন, অস্ট্রেলিয়ার উন্নত প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ভারতের জ্বালানি খাতের রূপান্তরকে আরো দ্রুত এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে। তিনি কম-কার্বন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন প্রকল্পেও দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, জ্বালানি ও খনিজ খাতে যৌথভাবে কাজ করার আপাতত সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তার বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা যায়, তাহলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হতে পারে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতের সড়ক, বন্দর, রেলপথ এবং নগর অবকাঠামো প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিনিয়োগের জন্য ভারত এক নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির দেশ। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীদের সামনে ভারতের বাজার বড় সুযোগ তৈরি করছে।
এই সফর তখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ভারত ও অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো বিস্তৃত করতে কাজ করছে। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে এবং এই লক্ষ্য পূরণে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম মজুদের দিকে নজর দিচ্ছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াও তাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতের মতো দ্রুত বর্ধনশীল বাজারের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য আগ্রহী।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় পেনশন তহবিল ‘অস্ট্রেলিয়ানসুপার’ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে তারা ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে আরো ৫০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিনিয়োগ করবে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ান ফিন্যান্সিয়াল রিভিউ পত্রিকা জানিয়েছে যে ভারতকে ইউরেনিয়াম রপ্তানি সংক্রান্ত দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০১৪ সালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির পর ইউরেনিয়াম রপ্তানি সীমিত ছিল। কারণ, এই জ্বালানি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তাকে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘জীবন্ত সেতু’ বলেও অভিহিত করেন। তিনি মোদির নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে দেখা যায়। আজ বৃহস্পতিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথাও রয়েছে। বর্তমানে, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর ভারত অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই প্রবাসী সম্প্রদায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৩ সালের সফরের ধারাবাহিকতায় এবারও মেলবোর্নের একটি বড় স্টেডিয়ামে প্রবাসী ভারতীয়দের সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মোদির। সেখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, কিছু বিক্ষোভের আশঙ্কা থাকায় স্টেডিয়ামের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিদেশ সফরে বড় জনসমাবেশে ভাষণ দেওয়া মোদির জন্য নতুন নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে সহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী ভারতীয়দের বড় সমাবেশে তিনি বক্তব্য রেখেছেন। তিন বছর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়ও সিডনির একটি বড় ইনডোর স্টেডিয়ামে হাজারো সমর্থক তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান মোদি। ইন্দোনেশিয়ায় তিনি কৃষি ও প্রতিরক্ষা খাতে একাধিক চুক্তি সই করেন, এর মধ্যে ব্রহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি চুক্তি ছিল। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে শুক্রবার দুপুরে তিনি নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেবেন। এরপর সেখান থেকে ভারতে ফিরে আসবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পদ্ধতিগত জ্ঞান বিনিময়, উদ্ভাবন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।
গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন- ইউএনকপস ২০২৬’-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যোগদান করেন। তিনি এই সম্মেলনে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এইবারের সম্মেলনে, যা দুই দিনব্যাপী (৭-৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত হচ্ছে, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পুলিশ প্রধান এবং নীতি-নির্ধারকগণ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তিনটি মূল প্লেনারি সেশনে অংশ নিচ্ছেন। এই সেশনগুলো হলো- ‘জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা’, ‘জাতিসংঘ পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি’ এবং ‘আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’।
সম্মেলনের প্রথম সেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জসমূহ দিন দিন অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং অপরাধী চক্রগুলোর আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের কারণে প্রথাগত পুলিশিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।’ মন্ত্রী বাংলাদেশের তুলে ধরে বলেন, ‘ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ তার ফর্মড পুলিশ ইউনিটকে (এফপিইউ) আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলেছে। আমাদের পুলিশ বাহিনীতে ইতোমধ্যে সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সাইবার ও সংগঠিত অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং ইন্টেলিজেন্স-লেড পুলিশিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি ও সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
বিশ্ব পরিমণ্ডলে মেধা ও দক্ষতার পদ্ধতিগত আদান-প্রদানের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে একটি ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। এর মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সেরা অনুশীলন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা শেয়ার করতে পারবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রস্তুতি জোরদার করার জন্য বার্ষিক পরিবেশ পুলিশিং সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাবও করেন। মন্ত্রী একটি অভিযোজনক্ষম, উদ্ভাবনী এবং শান্তি ও মানবতার প্রতি দায়বদ্ধ জাতিসংঘ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী প্রস্তাবনা এবং বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে।
সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (ডিপিও), অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস) এবং রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণ বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেলরা অংশগ্রহণ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ