বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:০৩ এম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দুই দেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ তৈরি করেছে। তিনি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন, পারমাণবিক জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সবুজ হাইড্রোজেন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মতো খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে উভয় দেশই লাভবান হবে।
বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় একটি ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। বুধবার রাতে তিনি মেলবোর্নে পৌঁছান। মোদি এ সময় বলেন, অস্ট্রেলিয়ার উন্নত প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ভারতের জ্বালানি খাতের রূপান্তরকে আরো দ্রুত এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে। তিনি কম-কার্বন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন প্রকল্পেও দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, জ্বালানি ও খনিজ খাতে যৌথভাবে কাজ করার আপাতত সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তার বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা যায়, তাহলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হতে পারে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতের সড়ক, বন্দর, রেলপথ এবং নগর অবকাঠামো প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিনিয়োগের জন্য ভারত এক নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির দেশ। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীদের সামনে ভারতের বাজার বড় সুযোগ তৈরি করছে।
এই সফর তখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ভারত ও অস্ট্রেলিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো বিস্তৃত করতে কাজ করছে। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে এবং এই লক্ষ্য পূরণে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম মজুদের দিকে নজর দিচ্ছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াও তাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতের মতো দ্রুত বর্ধনশীল বাজারের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য আগ্রহী।
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় পেনশন তহবিল ‘অস্ট্রেলিয়ানসুপার’ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে তারা ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে আরো ৫০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিনিয়োগ করবে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ান ফিন্যান্সিয়াল রিভিউ পত্রিকা জানিয়েছে যে ভারতকে ইউরেনিয়াম রপ্তানি সংক্রান্ত দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০১৪ সালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির পর ইউরেনিয়াম রপ্তানি সীমিত ছিল। কারণ, এই জ্বালানি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তাকে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘জীবন্ত সেতু’ বলেও অভিহিত করেন। তিনি মোদির নেতৃত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে দেখা যায়। আজ বৃহস্পতিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথাও রয়েছে। বর্তমানে, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর ভারত অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই প্রবাসী সম্প্রদায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৩ সালের সফরের ধারাবাহিকতায় এবারও মেলবোর্নের একটি বড় স্টেডিয়ামে প্রবাসী ভারতীয়দের সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মোদির। সেখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, কিছু বিক্ষোভের আশঙ্কা থাকায় স্টেডিয়ামের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিদেশ সফরে বড় জনসমাবেশে ভাষণ দেওয়া মোদির জন্য নতুন নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে সহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী ভারতীয়দের বড় সমাবেশে তিনি বক্তব্য রেখেছেন। তিন বছর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়ও সিডনির একটি বড় ইনডোর স্টেডিয়ামে হাজারো সমর্থক তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান মোদি। ইন্দোনেশিয়ায় তিনি কৃষি ও প্রতিরক্ষা খাতে একাধিক চুক্তি সই করেন, এর মধ্যে ব্রহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি চুক্তি ছিল। অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করে শুক্রবার দুপুরে তিনি নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেবেন। এরপর সেখান থেকে ভারতে ফিরে আসবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পদ্ধতিগত জ্ঞান বিনিময়, উদ্ভাবন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।
গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন- ইউএনকপস ২০২৬’-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যোগদান করেন। তিনি এই সম্মেলনে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এইবারের সম্মেলনে, যা দুই দিনব্যাপী (৭-৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত হচ্ছে, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পুলিশ প্রধান এবং নীতি-নির্ধারকগণ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তিনটি মূল প্লেনারি সেশনে অংশ নিচ্ছেন। এই সেশনগুলো হলো- ‘জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা’, ‘জাতিসংঘ পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি’ এবং ‘আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’।
সম্মেলনের প্রথম সেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জসমূহ দিন দিন অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং অপরাধী চক্রগুলোর আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের কারণে প্রথাগত পুলিশিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।’ মন্ত্রী বাংলাদেশের তুলে ধরে বলেন, ‘ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ তার ফর্মড পুলিশ ইউনিটকে (এফপিইউ) আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলেছে। আমাদের পুলিশ বাহিনীতে ইতোমধ্যে সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সাইবার ও সংগঠিত অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং ইন্টেলিজেন্স-লেড পুলিশিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি ও সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
বিশ্ব পরিমণ্ডলে মেধা ও দক্ষতার পদ্ধতিগত আদান-প্রদানের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে একটি ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। এর মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের সেরা অনুশীলন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা শেয়ার করতে পারবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রস্তুতি জোরদার করার জন্য বার্ষিক পরিবেশ পুলিশিং সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাবও করেন। মন্ত্রী একটি অভিযোজনক্ষম, উদ্ভাবনী এবং শান্তি ও মানবতার প্রতি দায়বদ্ধ জাতিসংঘ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী প্রস্তাবনা এবং বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছে।
সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (ডিপিও), অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস) এবং রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণ বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেলরা অংশগ্রহণ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় শুধুমাত্র দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় প্রদেশগুলো নয়, পূর্বাঞ্চলে পবিত্র শহর মাশহাদের দিকে যাওয়া সড়কের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
আইআরজিসির অভিযোগ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে মাশহাদের পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করে খামেনির দাফন ও রাষ্ট্রীয় শোকযাত্রা অনুষ্ঠানের ওপর প্রভাব ফেলতে চেয়েছে। এ বিষয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
খামেনির শোকযাত্রার সময় গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে ইরানে বড় আকারের হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, চার ঘণ্টার অভিযানে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল।
একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। আইআরজিসি একটি বিবৃতিতে জানায়, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আবারও বিমান হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র অবস্থান এবং সামরিক লজিস্টিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, মার্কিন বাহিনী গোলেস্তান প্রদেশের আককালা শহরের বাইরে অবস্থিত আক তেকেহ খান সেতুতে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় সেতুর আশপাশের একটি রেলপথে অন্তত দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন বিমান হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে (আইআরআইবি) প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার বিরুদ্ধে তাদের 'শাস্তিমূলক জবাবের' প্রথম ধাপ হিসেবে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। এই হামলাটি আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর যৌথ অভিযানের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঐতিহাসিক দাফন অনুষ্ঠানকে বাঁধাগ্রস্ত করা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। খামেনিকে আজ বৃহস্পতিবার ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে দাফন করার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে সেখানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান আরও বিস্তৃত হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অন্যান্য মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, 'মার্কিন আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ইরানের জবাব আরও কঠোর ও ব্যাপক হবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় স্ত্রীর সঙ্গে সন্তান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে হামলার শিকার হয়েছেন আরমান (৪০) যিনি একজন জাপান প্রবাসী। ডাকাতদল অস্ত্র ব্যবহার করে মারধর করে ভুক্তভোগী পরিবারের নিকট থেকে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, আইফোনসহ মূল্যবান দ্রব্য লুট করে নিয়ে গেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকারও বেশি বলে জানা যাচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোলপ্লাজা সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী আরমান ফেনী জেলার আব্দুস সোবহানের ছেলে এবং প্রবাসী তিনি। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আরমান তার স্ত্রী ও সন্তানসহ জাপান যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফেনী থেকে একটি মাইক্রোবাসে ঢাকার দিকে রওনা দেন।
যাত্রা করার সময় তারা মহাসড়কের পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছালে, অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল দেশীয় অস্ত্র (চাপাতি, ছুরি, লোহার রড) নিয়ে গাড়ির গতিরোধ করে। গাড়িটি থামানোর সাথে সাথে ডাকাতরা আরমান ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর শুরু করে। এরপর, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে ১৫ ভরি স্বর্ণের গহনা, একটি আইফোন-১৬ প্রো ম্যাক্সসহ তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এই বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ জানিয়েছেন, ঘটনাটি মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকায় ঘটলেও মূল মহাসড়কে ঘটেনি; এটি ঘটেছে মহাসড়কের পাশের নিচের একটি সংযোগ সড়কে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকার ফুসফুস, নাগরিক জীবনের অক্সিজেন হিসেবে পরিচিত হাতিরঝিল দিন দিন যেন লাশের ডাম্পিং স্টেশন হয়ে উঠতে চলেছে। চলতি বছরের ৮ জুলাই পর্যন্ত মনোরম এই বিনোদন কেন্দ্রে মোট ৫ মরদেহ পাওয়া গেছে।
রাজধানীর হাতিরঝিল এবং নান্দনিকতার মাঝে রয়েছে কলো দাগও। প্রায় প্রতিটি মাসেই সেখানে মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে। অপরাধীরা খুন করার পর লাশ ঝিলে ফেলে দেয়।
অন্তত বুধবার (৮ জুলাই) একটি মরদেহ ভেসে ওঠে। সেখানে ভিড় জমে যায় মানুষের। খবর পেয়ে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম আজিম উদ্দিন (৬৫)।
সিআইডির ফরেনসিক টিম তার ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করেছে। তার বাবার নাম কফিল উদ্দিন। তিনি পশ্চিম রামপুরা উলন রোড, শিমুলবাগ এলাকায় বসবাস করতেন।
মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম অভি জানিয়েছেন, সকালে ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে লেকের পানি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বছর হাতিরঝিল থেকে অন্তত পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ