০৭:৫৫ এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যাঁরা উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন, তাঁদের সহযোগিতার জন্য সরকার পাশে রয়েছে। এখন কাজ করার সময়।
যাঁরা উদ্যোক্তা হতে চান, তাঁদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি থাকলে সম্ভব। সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে। এই ফান্ড উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সহযোগিতায়। অনুষ্ঠানটির সূচনায় বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল। এরপর সফল স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতাবিনিময় পর্ব ‘গল্প নয়, সত্যি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় জমি বিরোধে বৃদ্ধ মকবুল হোসেন নিহত
এ সময় আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, প্রয়োজনীয় রিসোর্স নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-(startup.ictd.gov.bd))-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে এক প্রাণবন্ত মুক্ত আলোচনায়ও অংশ নেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে সরকার আপনাদের পাশে আছে সহযোগিতা করার জন্য।
আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’ অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আপনাদের অনেকে বেশ এগিয়ে গেছেন। মানুষ ও সমাজের জন্য, সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন। দেশের লাখো কোটি মানুষের আপনাদের প্রয়োজন। এই দেশেরও প্রয়োজন আপনাদের।’ অনুষ্ঠানে দেশের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থীসহ সফল অনেক উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আমার জীবনের ছোট্ট একটি বিষয় তুলে ধরতে চাই। জীবনে মোটামুটি ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য একসময় আমি ব্যবসাবাণিজ্য করেছি। তবে ব্যবসাবাণিজ্য শুরু করতে না-করতেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাই। কিন্তু দুটি জিনিস একসঙ্গে চলে না। পরে ঠিক করেছি রাজনীতিতে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’
আরও পড়ুন: ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অতীতে নিজের ওপর নেমে আসা নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আমাকে অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এরপর আল্লাহর রহমতে আজ একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি।’
প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের কাজও খুব কঠিন। আপনাদের অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তবে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারব জানি না। তবে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
তারেক রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে প্রত্যাশা ও দৃঢ় বিশ্বাস রেখে বলেন, ‘যেহেতু রাজনীতি করি, তাই আমার তো একটি লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে। দলের পরিকল্পনা আছে। দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি, দেশকে নিয়ে আমরা চিন্তা করি। দেশের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে চিন্তা করি। আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে চেষ্টা করেছি একটু পরিবর্তন আনার। আজকে আপনাদের দেখে এবং ওই দুটো অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের দেখে মনে হয়েছে আমরা কিছুসংখ্যক মানুষের হাতে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারব। আমরা যেখানে ছেড়ে যাব, সেখান থেকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন আপনারা।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: প্রাথমিকের সব বই ৫ নভেম্বরের মধ্যে সরবরাহের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাহিদাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর, বৈষম্যহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিডি ক্লিন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের একটি প্রতিনিধিদল। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল তিন সদস্যের দলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে।
সাক্ষাৎকালে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিডি ক্লিনের চলমান কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিডি ক্লিনের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক চম্পা আক্তার, জহিরুল ইসলাম রবি এবং বর্তমান প্রধান সমন্বয়ক মাসুদুর রহমান। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের অবদানের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
আরও পড়ুন: রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা
এ সময় বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
২০১৬ সালের ৩ জুন একজন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে যাত্রা করা বিডি ক্লিন বর্তমানে ৫৮ হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে ৫৮ জেলা ও ১৬৫ উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গত এক দশকে সংগঠনটি ১৮টি খাল, ৭টি নদী ও ৭৬টি পরিচ্ছন্ন উদ্যান গড়ে তোলার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন