০৪:৫৬ পি.এম
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্থাপন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে বিনিয়োগ হবে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বিনিয়োগ ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। এই উদ্যোগ আমাদের সেই যাত্রাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয়ার সুযোগ করছে।
আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল
অর্থমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্প শুধু আনোয়ারা উপজেলা নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের পুরো অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিগত দিনগুলোতে অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল ভয়াবহ বিপর্যস্ত। অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত অবস্থায় পেতে দেখা গেছে। টাকা ছাপানোর মাধ্যমে অর্থনীতিকে উন্নয়ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থনীতিকে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। বিনিয়োগের ভিত্তিতে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে চাই। আমরা যে ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমিকের সাক্ষাৎকার করছি, ২০৩৪ সালের মধ্যে তার জন্য বিনিয়োগ অপরিহার্য। বিশেষ করে বেসরকারি এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন সম্ভব।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে সম্পদ বাড়বে এবং রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বৃদ্ধি ঘটবে। তিনি এ সম্পর্কিত আরও বলেন, ‘গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরশীল হলে অর্থনীতি চলবে না।’
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, দেশি ও বিদেশি সকল বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন না হলে বিনিয়োগ সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারায় আজ শুধুই একটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের শুরু হচ্ছে না, বরং এতে বাংলাদেশে শিল্প রূপান্তরের নতুন ইতিহাস রচিত হচ্ছে। দীর্ঘ পরিকল্পনা, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। এতে আরও ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল।
বেজাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অর্থায়ন-সংক্রান্ত নানা বাধা পার করে প্রায় ৮০০ একর জায়গায় এই শিল্পাঞ্চলের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ ও চীনের সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) উদ্যোগের মাধ্যমে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে সমঝোতা স্বাক্ষর হওয়ার পর নানা জটিলতায় উদ্যোগটি থমকে যায়। এরপর অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজের জন্য চীনা ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা হলেও চূড়ান্তভাবে ঠিকাদার নিয়োগ হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে চীন সরকারের পক্ষ থেকে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করা হয়। তবে সরকারি ক্রয়নীতি অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ডেভেলপার—দুই ভূমিকায় যেন কাজ না করতে পারে, সে কারণে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে প্রকল্পের উন্নয়ন নতুন গতির সঞ্চার ঘটিয়েছে।
আরও পড়ুন: বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন