প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যারা ছোট্ট একটি শিশুকে হারিয়ে ফেলতে দেখে, তাদের জন্য এটি এক হৃদয়বিদারক অবস্থা। সাত মাসের এক শিশু, যে বয়সে শিশুরা সাধারণত মা’য়ের সান্নিধ্য এবং নিরাপত্তায় থাকে, সেই বয়সে অসহায়ের মতো হাসপাতালের একটি শয্যায় একা পড়ে আছে। দুই হাতে ছোট ছোট ঘুষি মেরে ও কান্নাভেজা চোখে যেন সে এখনও খুঁজে ফিরছে তার মাকে। কিন্তু যাকে খুঁজছে, সেই মায়ের কাছে সে পৌঁছাতে পারেনি এবং অভিযোগ উঠেছে যে তার মাকে ফেলে চলে যেতে হয়েছে। এটি একটি হতাশাজনক এবং ভারী অবস্থা, যা এলাকায় সবাইকে চিন্তিত করে তুলেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে খরমপুর কেল্লা বাবা (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে শিশুটি পাওয়া যায়। ২৩ জুলাই, স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে একটি অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং সেখান থেকে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগের কর্তাদের অবহিত করার পর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া ও সমাজসেবা কর্মকর্তা নরুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
তারপর, শিশুটিকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে চলেছে শিশুটির চিকিৎসা। শিশুটির শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মনোরঞ্জন করার জন্য মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ একটি নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে ফেলে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ এবং বেদনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
অন্যদিকে, এই নির্মম ঘটনার সময়ে মানবতার মানসিকতায় উদাহরণ স্থাপন করেছেন উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা। তারা শিশুটির নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে মানবিক কর্তব্যের পরিচয় দিয়েছেন।
শিশুটিকে দত্তক নিতে আগ্রহী এক মহিলা, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, "খবর পাওয়ার পরই হাসপাতালে চলে এসেছি। আমার একটি ছেলে আছে, আমি এই শিশুটিকে দত্তক নিতে চাই। দুই দিন ধরে হাসপাতাল এসে ওর খোঁজখবর নিচ্ছি এবং ওর সাথে সময় কাটাচ্ছি।"
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স সানজিদা মাহমুদ জানিয়েছেন, শিশুটি এখন আমাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে। তিনি আরো জানান, অনেকেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন, তবে দত্তক গ্রহণের প্রক্রিয়া সরকার নির্ধারিত আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।
আখাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, "সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির দায়িত্ব গ্রহণ করি। তারপর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সমাজসেবা বিভাগের নজরদারিতে শিশুটির সার্বিক বিষয় দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে, ইউএনও তাপসী রাবেয়া জানান, "খবর পাওয়ার পরপরই শিশুটিকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছি। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। আমরা হাসপাতাল গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নিয়েছি এবং তার সার্বিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন