প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ ব্যাপারীকে হত্যার ঘটনায় ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে পেশাদার খুনি ভাড়া করা হয়েছে। এই হত্যার ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেফতার করার পর এসব তথ্য প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশ জানায়, ময়লার টেন্ডার ও ডিস ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মো. নাহিদ হাসান (২১), মো. শাফিন আহমেদ (২২), মো. জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মো. আলী হোসেন (৪৫), মো. জিহাদ মোল্লা (৩০), মো. মাসুম বিল্লাহ (২৮) এবং মো. আবির হাওলাদার (২৫)।
২৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে, মিরপুরের শেরে বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলেন যুবদল কর্মী ইউসুফ ব্যাপারীসহ আরও কয়েকজন। হঠাৎ তিনজন অস্ত্রধারী এসে তাদের লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এতে ইউসুফ ব্যাপারী এবং সবজি বিক্রেতা নালান সরদার গুলিবিদ্ধ হন।
ছিটকে আসা গুলিতে পথচারী মনির হোসেনও আহত হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মারা যান যুবদল কর্মী ইউসুফ ব্যপারি।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা পুলিশের হাতে অস্ত্রধারী এক হামলাকারীকে আটক করে। পরে পুলিশ তার জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বাকিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আসামিরা স্বীকার করেছে তাদের কে কোথা থেকে ভাড়া করেছে। প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকায় পেশাদার খুনি ভাড়া করে সিএনজি হাফিজ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং যাকে টার্গেট করা হয়েছে, দুজনের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। রাজনীতি ব্র্যান্ডিংয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমরা বরদাস্ত করবো না।
ডিএমপি জানায়, গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ আরও অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজন ঢাকায় এসেছিলেন এবং সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হন।
এ সময়ে আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসেন। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে গুলি বের হলে সেদিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। পরে অভিযুক্তরা লক্ষ্য ব্যক্তির অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান।
পরবর্তীতে ২২ জুলাই সিএনজি হাফিজের নির্দেশে তারা আবার ঢাকা এসে মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে ওঠেন। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হন। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে দেন। পরবর্তীতে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেন। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থলে রেকি করেছেন, এবং আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।
ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানকালে কয়েকজন অপরিচিতকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশির চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন