০২:৩০ এম
বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, যিনি চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, তার প্রার্থিতা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাতিল করেছে। ফলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। তবে পুনর্নির্বাচন হবে নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, তা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর আসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে। পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করেছে। আপিল প্রক্রিয়া চলাকালে তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং ভোটারদের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু আপিল বিভাগের সর্বশেষ রায় তার প্রার্থিতা বাতিল করেছে, যার ফলে নতুন আইনি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, তার বিচার বিভাগের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে রিভিউ আবেদন করা হবে। আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই গলাচিপায় ফোনে মিলছে ইলিশ, প্রশাসনের অভিযান চলছে
রায়ের পর দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আসলাম চৌধুরী সংযমের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর বা সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, এমন কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না। রাজনৈতিক কর্মসূচির ফলে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি হলে তা কারো জন্যই ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনে না। তাই আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে সাংগঠনিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার নির্দেশ দেন তিনি।
মামলার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে বিরোধটি নির্বাচন কমিশন, হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগ, এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও বিচারিক ধাপ অতিক্রম করেছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত, হাইকোর্টের আদেশ এবং আপিল বিভাগের রায়ের মধ্যে আইনি ব্যাখ্যার পার্থক্য নিয়ে প্রশ্নের উত্তর আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে পাওয়ার আশা রয়েছে। মামলার ভবিষ্যতের গতিপথ বোঝার জন্য পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিকল্প নেই, এমন মন্তব্য আইনজীবী ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের।
আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, সংক্ষিপ্ত আদেশে শুধু মামলার ফলাফল প্রকাশ করা হয়, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ, আইনের ব্যাখ্যা, সংশ্লিষ্ট নজির এবং সিদ্ধান্তের ভিত্তি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। রিভিউ আবেদনের যৌক্তিকতা নির্ধারণে এইসব পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষ এখন পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশালে বিএমপির থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭ জন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন