প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঋণখেলাপি হয়ে যাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার খবরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা। সমর্থকরা এ সময় সড়কে দাঁড়িয়ে নেতা–কর্মীরা মিছিল ও সমাবেশ করেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দেয়। এর আগে ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করা হয়েছিল।
এই রায় ঘোষণার পর মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) সংসদীয় আসনের দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেলে সীতাকুণ্ডের ছোট দারোগাহাট এলাকায় তার অনুসারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আন্দোলনকারীরা গাছ কাটার ইলেকট্রনিক করাত (গাছ চেইনসো) দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে থাকা গাছগুলো কেটে সেগুলো সড়কের উপর ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পুরো গাছগুলো সড়কে কেটে রাখা হয়েছিল।
বাড়বকুণ্ড বাজারে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়ে।
সড়ক অবরোধের ফলে দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। উভয়পক্ষে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ দিন বিকেলে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের সামনের জায়গা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার চত্বরে প্রতিবাদ সভা আয়োজন করা হয়।
একই সময়ে আলমগীর মেম্বারের নেতৃত্বে কুমিরা এলাকার মহাসড়কে দলীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ভাটিয়ারীতে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অবিলম্বে আপিল বিভাগের রায় বাতিল করে লায়ন মো. আসলাম চৌধুরীকে শপথ নেবার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
মো. আলীর সভাপতিত্বে এবং শহীদুল ইসলাম শহিদের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ফিরোজুল আলম, নাছির সওদাগর, সোলেমান, হানিফ মাঝি, মো. ইউনুছ, মো. ওয়াসিম, মো. শাওন, অনিক, মো. কফিল উদ্দিন, মহিলা দল নেত্রী লাকি আক্তার, মুন্নি আক্তারসহ অনেক নেতারা।
কুমিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আলমগীর বলেন, আমরা এই রায় মানি না। আসলাম চৌধুরী একজন সৎ মানুষ। তিনি ৯ বছর জেল খেটেছেন। তার ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তার যা কিছু ছিল, অবৈধ সরকার তা কেড়ে নিয়েছে। আমি এক কালো ষড়যন্ত্রের বিষয়ে শুনতে পাই, আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল করা হলো। জনতার রায়ের ওপর কোনো রায় নেই। আশা করি, আদালত রায়টি পুনর্বিবেচনা করবে।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি এমএ হক বলেন, মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকবার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অবরোধকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে।
আদালতের রায়ের পর আইনজীবীরা জানান, এখন চট্টগ্রাম-৪ আসনে পুনর্নির্বাচন হবে, নাকি জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে, তা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
পরে আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিলেও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই আসনের ফলাফল এখন পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন