০১:৫৬ এম
পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি নিরাপত্তা বহরে অতর্কিত হামলা সংঘটিত হয়েছে, যাতে অন্তত ৪৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘বেলুচিস্তান পোস্ট’-এর সূত্র থেকে জানা গেছে, মস্তুং এলাকায় এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে।
বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। চলতি মাসে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটি চতুর্থ হামলা এবং গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি তৃতীয় বড় ধরনের হামলা।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলার খবর নিশ্চিত করেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ একটি বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, তাদের ‘ফাতেহ স্কোয়াড’ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই অভিযানটি চালিয়েছে। তারা মূল নিরাপত্তা বহর এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে আসা অতিরিক্ত সেনা দলকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন: ইরান: সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক কণাও দেশের বাইরে যাবে না
এর আগে চলতি সপ্তাহেই বেলুচিস্তানে একের পর এক হামলা পরিচালনার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন শাবান’ নামে একটি যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এর আগে জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় এক হামলায় ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং লাসবেলায় ১১ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন।
অভিযানটি চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর এবং বেলুচিস্তান পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই ঘটনার পেছনে যারা দায়ী তাদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এবং জঙ্গিরা যেন সেনাবাহিনীর কাছ থেকে কোনো ধরনের নমনীয়তা আশা না করে।
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হলেও বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম অনগ্রসর ও স্বল্প জনসংখ্যার প্রদেশ। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রদেশটি ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
এছাড়া, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় নির্মিত গভীর সমুদ্রবন্দর ‘গাওয়াদর’ এই প্রদেশেই অবস্থিত। এর ফলে এই অঞ্চলটি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হলেও এটি একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির উৎস হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বদলাচ্ছে, কীসের ইঙ্গিত?
সাম্প্রতিক হামলার পর একটি চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং মাঙ্গি ড্যাম এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ থেকে ৯ জুলাইয়ের মধ্যে বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বেশ কয়েকটি বড় হামলা চালিয়েছিল। এর মধ্যে ৭ জুলাই টিটিপির হামলায় ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে হত্যা করা হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য অন্যতম বড় আঘাত মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া, ৮ জুলাই লাসবেলা জেলার এন-২৫ মহাসড়কে আরেকটি সেনা বহরে হামলায় ১১ সেনা নিহত হন। যদিও বিএলএ-র দাবী অনুযায়ী সেখানে ১৭ জন সেনা নিহত হয়েছে। একের পর এক এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কারণে পুরো বেলুচিস্তান জুড়ে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট।
আরও পড়ুন: মার্কিন হামলা মানেই পুরো অঞ্চলজুড়ে ‘ধ্বংসযজ্ঞ’: ইরানের হুঁশিয়ারি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন