ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাফনা কিংসের নতুন কর্ণধার হলেন জহির খান


জাফনা কিংসের নতুন কর্ণধার হলেন জহির খান

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজির জাফনা কিংসের নতুন মালিকানা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ভারতের সাবেক পেস তারকা জহির খান। তিনি ব্যবসায়ী নাগেন্দ্র সিদ্দৌতামের সঙ্গে যৌথভাবে দলটির মালিকানা নিয়েছেন।

জাহির খান ও সিদ্দৌতামের মালিকানাধীন সুইডেনভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান অ্যাঙ্কর স্পোর্টস এবি জাফনা কিংস অধিগ্রহণ করেছে। নতুন মালিকানার ফলে দলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘অ্যাঙ্কর জাফনা কিংস’।

এলপিএলের এই দলে খেলছেন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তাওহিদ হৃদয়। যদিও এবারের আসরে জাফনার হয়ে খেলার কথা ছিলো তাসকিন আহমেদের, তিনি পরে নিজেকে সরিয়ে নেন।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের লিডার কেন্তা ফিরোজ আটক

সম্প্রতি জাফনা কিংসের পূর্ববর্তী মালিকানায় সংকট সৃষ্টি হয়। দলের অন্যতম মালিক মনজোৎ কালরা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) ও এলপিএলের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন প্রোডাকশন গ্রুপ (আইপিজি) জরুরি ভিত্তিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

নতুন মালিকানায় আসার ফলে দলের প্রশাসনিক অস্থিরতা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। অ্যাঙ্কর স্পোর্টস এবি জানায়, জাফনা কিংস তাদের আন্তর্জাতিক মাল্টি-ক্লাব স্পোর্টস নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করবে।

মাঠের বাইরের নানা সমস্যার পরও এলপিএলে জাফনা কিংস অন্যতম সফল দল হিসেবে পরিচিত। টুর্নামেন্টের পাঁচ আসরের মধ্যে তারা চারবারই শিরোপা জিতেছে। চলমান আসরে তারা লিগ পর্বের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে।

নতুন মালিকানায় যুক্ত হয়ে জহির খান বলেন, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রতিভা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তিনি উচ্ছ্বসিত। তিনি তরুণ ক্রিকেটারদের উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক এই পেসার।

আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরে ‘মুখে ল’ গ্রুপের সদস্য মো. দিদার গ্রেফতার

এলপিএলের টুর্নামেন্ট পরিচালক সামান্থা দোদনওয়েলা জানান, জাহির খানের মতো একজন কিংবদন্তির সম্পৃক্ততা লিগটির জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তাঁর অভিজ্ঞতা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এমনটাই আশা করছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হত্যা মামলার জেরে বাদীপক্ষের মেয়ের ওপর হামলার অভিযোগ,নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


হত্যা মামলার জেরে বাদীপক্ষের মেয়ের ওপর হামলার অভিযোগ,নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

মাদারীপুরে কৃষক আবুল কালাম আকন হত্যা মামলার জেরে বাদীপক্ষের এক মেয়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার পুরান বাজার থেকে থানায় যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন বিথী আক্তার (৩৫)। তিনি সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের নিহত আবুল কালাম আকনের মেয়ে।

পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ২৮ জুলাই দুপুরে আবুল কালাম আকনের (৬৫) বসতঘরে ঢুকে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাই মজিবর আকন ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পারুল আক্তার (৫৪) বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় মজিবর আকনসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামিপক্ষের লোকজন বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার সকালে বিথী আক্তার ও তার বোন শিউলী আক্তার বাড়ি থেকে ইজিবাইকে করে পুরান বাজার হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যাচ্ছিলেন। পথে অজ্ঞাত দুই যুবক একই ইজিবাইকে ওঠে। কিছু দূর যাওয়ার পর তারা লোহার রড দিয়ে বিথীর মাথায় আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আহত বিথী আক্তার বলেন, “আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন আমাদেরও হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তি চাই।”

নিহতের আরেক মেয়ে শিউলী আক্তার বলেন, “আমি ও আমার বোন থানায় জিডি করতে যাচ্ছিলাম। পথেই দুই অজ্ঞাত যুবক ইজিবাইকে উঠে হামলা চালায়। আমাদের বাড়িতে এখন কোনো পুরুষ সদস্য নেই। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।”

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নিহত আবুল কালাম আকনের মেয়ের ওপর হামলার অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মজিবর আকনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।
শাওন বল
মাদারীপুর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বায়তুল মোকাররমে চলছে ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


বায়তুল মোকাররমে চলছে ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশ

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির উপলক্ষে এই গণসমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে শুরু হলেও সমাবেশস্থল সকাল ৯টার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে। নেতারা এই সময় সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি এবং গ্যাস-তেল সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন।

এছাড়া, জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত অপরাধীদের বিচার তরান্বিত করার দাবিও তোলা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০ মিনিটে সাত বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দুবাই, আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৬ পি.এম


২০ মিনিটে সাত বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দুবাই, আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে অন্তত সাতটির অধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোরে শহরের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর এলাকা এবং জেবেল আলি শিল্পাঞ্চলে এই বিস্ফোরণগুলো সংঘটিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর আমিরাতের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, অল্প সময়ের মধ্যে পরপর সাতটি বিস্ফোরণ সংঘটিত হয়। তবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখনও কোন আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ। মেহর নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আমিরাতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে কয়েকটি ইরাকি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে कि যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে ইয়েমেনের দিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমনকি আমিরাতের সরকারি বা মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যমও বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাসার তাপীয় উপগ্রহচিত্রে জেবেল আলি বন্দরের পাশের একটি গুদাম এলাকায় আগুনের উপস্থিতির একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই গুদামটি জ্বালানি সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

এ পর্যন্ত বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোন আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে আবাসিক এলাকার কাছাকাছি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পুরো সময়জুড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ার কারণে অতীতেও দেশটিকে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্য হিসেবে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজয়ের ক্ষণে সাভার-আশুলিয়ায় শহীদ হন ৩১ ছাত্র-জনতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


বিজয়ের ক্ষণে সাভার-আশুলিয়ায় শহীদ হন ৩১ ছাত্র-জনতা

> জুলাই বিপ্লবের সময় সাভার-আশুলিয়ায়, ফ্যাসিবাদী সরকারের সন্ত্রাসীদের দ্বারা ঘটেছিল এক ট্র্যাজিক ঘটনা, ৫ আগস্ট। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণের ফলে শহীদ হন অনেকে। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ নামের হায়েনারা ছয় শহীদকে পুড়িয়ে মারে আশুলিয়া থানার সামনে। সেদিন বিশ্ববাসী এ মর্মান্তিক ঘটনা দেখে নাড়িয়ে গিয়েছিল।

জুলাই বিপ্লব বিজয়ের পূর্বমুহূর্তে বর্তমান সময়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী ক্যাডারদের গুলিতে সাভার-আশুলিয়ায় ৩১ জন শহীদ হন। এ ঘটনায় দুই শতাধিকেরও বেশি মানুষ আহত হন। দুই বছর পরে বিচারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি লংমার্চ শুরু হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ধরে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে। সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফির নেতৃত্বে মিছিলটিকে গুলি ছুড়ে বাধা দেওয়া হয়। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ নির্বিচারে গুলি ছুচ্ছিলে, যার ফলে বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলেই শহীদ হন, তাদের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল কাইউম এবং কলেজছাত্রী নাফিসা হোসাইন মারওয়া অন্যতম।

আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা সাময়িকভাবে ছত্রভঙ্গ হলেও পরবর্তী সময়ে পাকিজা মোড় (বর্তমানে শহীদ ইয়ামিন চত্বর) ও সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুনরায় সংগঠিত হন। তখনই ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা দৃঢ় মনোবল নিয়ে বাধা দিতে সাভার থানায় অগ্রসর হন। দুপুরের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্র-জনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করে। বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মুক্তির মোড় এবং থানার মোড়ে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে অন্তত ১৫-১৬ জন নিহত হন। শত শত গুলির শব্দে শিল্পশহর সাভার প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এক পর্যায়ে আত্মসমর্পণের ভঙ্গি করলেও জনগণের আক্রমণ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে অসংখ্য গুলি চালিয়ে সাভার ক্যান্টনমেন্টের দিকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যায়।

শহীদদের মধ্যে রমজান, মোজাহিদ, নাফিসা, তৌহিদুর রহমান, সাফোয়ান, রাসেল, রফিক, নিসান খান, মুন্না, সজিব, রানা, আলামিন, সাজ্জাদ, লালমিয়া এবং আবদুল কাউয়ুম, শ্রাবণ গাজী অন্যতম।

আশুলিয়ার স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এদিন অন্তত ১০-১১ জন নিহত হন, তাদের মধ্যে জাহিদুর রহমান এবং স্বপন প্রামাণিক উল্লেখযোগ্য। আশুলিয়া থানার সামনের মহাসড়কে সেতুর উপর দুই পথচারীর লাশ পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলানো হয়েছিল। সকালে লাশ দুইটি নিচে নামানো হয়। তাদের মুখ থেঁতলানো ছিল এবং তারা ছিলেন পুলিশ সদস্যরা।

সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আশুলিয়ার বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ৩১ জন শহীদ হওয়ার তালিকা পাওয়া যায়। এছাড়া গুরুতর আহত ছিলেন শতাধিক ছাত্রজনতা।

ইতোমধ্যে জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সাবেক এমপি সাইফুলসহ ছয় জনের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষরের পর এই রায় প্রকাশ করা হয়।

ঢাকার আট প্রবেশমুখে বিএনপির অবস্থান, ২০ জুলাই থেকেই প্রস্তুতি চলছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ, সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার এবং যুবলীগের কর্মী রনি ভূঁইয়া।

এ মামলায় আরো সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস এবং ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক পরিদর্শক আরাফাত হোসেন। এ ছাড়া আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসানকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এছাড়া ৫ ফেব্রুয়ারি মামলাটির সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। দশ আসামি গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং বাকি আটজন পলাতক রয়েছেন। কারাগারে থাকা আট জন হলেন—আবদুল্লাহিল কাফী (যাবজ্জীবন), শাহিদুল ইসলাম (যাবজ্জীবন), আরাফাত হোসেন (যাবজ্জীবন), আবদুল মালেক (মৃত্যুদণ্ড), আরাফাত উদ্দীন (সাত বছরের কারাদণ্ড), কামরুল হাসান (সাত বছরের কারাদণ্ড), শেখ আবজালুল হক (ক্ষমা) এবং মুকুল চোকদার (মৃত্যুদণ্ড)।

পলাতকে আট আসামি হলেন—সাইফুল ইসলাম (মৃত্যুদণ্ড), সৈয়দ নুরুল ইসলাম (যাবজ্জীবন), আসাদুজ্জামান রিপন (যাবজ্জীবন), এ এফ এম সায়েদ (মৃত্যুদণ্ড), মাসুদুর রহমান (যাবজ্জীবন), নির্মল কুমার দাস (যাবজ্জীবন), বিশ্বজিৎ সাহা (মৃত্যুদণ্ড) এবং যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূঁইয়া (মৃত্যুদণ্ড)।

হাসিনার ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করুন।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন সাজ্জাদ হোসেন সজল, যার বিরুদ্ধে পুলিশ ভ্যানে স্তূপ করে ছয় ছাত্রকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় গ্রামে বসে জানতে পায় সজলের মা শাহীনা বেগম। মুঠোফোনে তার সঙ্গে কথা হয়।

শাহীনা বেগম কেঁদে বলেন, রায় শুনে কী হবে? মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ফাঁসি দ্রুত কার্যকর চাচ্ছি। আমার সন্তানকে জনসম্মুখে গুলি করে হত্যা করার পর পুড়িয়ে মারা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই হাসিনাকে মারা হোক। আমার ছেলে গুলির পরে ছটফট করেছে এবং পানি খেতে চেয়েছিল, পরে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

তিনি কেঁদে আরো বলেন, সে সময়ের পুলিশ প্রধান ছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি রাজসাক্ষী হয়েছেন, কিন্তু তার মাত্র পাঁচ বছর সাজা হয়েছে। এতো কম সাজা আমি মানতে পারছি না।

সাভারে সিটি ইউনিভার্সিটিতে বিএসসি পড়তেন সজল। ২০০৫ সালের ১২ এপ্রিল তার জন্ম। সজলের বয়স হয়েছিল মাত্র ২০ বছর। তার মা শাহীনা বেগম আশুলিয়ায় নারী ও শিশু হাসপাতালে ক্লিনার পদে কাজ করে ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগাতেন। আশা ছিল ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে, কিন্তু সব আশা চুরমার হয়ে গেছে।

শাহীনা বেগম বলেন, আমি নাতনি এবং বৌমার দিকে তাকালে চোখে পানি আসে। তাদের ভবিষ্যৎ চিন্তায় আমি উদ্বিগ্ন। তাই কিছুটা হলেও শান্তি পাব, হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে এবং অন্যান্য দণ্ডিতদের রায় দ্রুত কার্যকর হলে।

এছাড়া জুলাই আন্দোলনের অন্যান্য শহীদদের পরিবার ও আন্দোলনকারীরা একই দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে। দোষীদের বিচারের আওতায় এনে এবং প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%