ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজারে


ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজারে

ভেনেজুয়েলা দেশটিতে সম্প্রতি জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। শনিবার (৪ জুলাই) সরকারি হিসাব অনুযায়ী জানা গেছে, ২ হাজার ৯৫৪ জনের মৃত্যুর খবর এখনও নিশ্চিত করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং বহু মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বা আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন।

লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। এই অঞ্চলে অসংখ্য আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার— দুই ভূমিকম্পের ১০ দিন পর আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান কার্যক্রম গুটিয়ে আনতে শুরু করেছে। যদিও অনেক পরিবার এখনও স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে জীবিত উদ্ধার করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল প্রথম ৭২ ঘণ্টা। তথাপি চলতি সপ্তাহে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে সহিংস অপরাধ ২৫ শতাংশ কমেছে: হোয়াইট হাউস

উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্যদের সম্মাননা পদক প্রদান করেন। এ সময় উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত কয়েকটি কুকুরকেও সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা গভীর শোকের মধ্যে যাচ্ছে। অনেক পরিবার এখনও প্রিয়জনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েনি, আবার অনেকেই সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল শনিবার তাদের কার্যক্রম শেষ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ফায়ার বিভাগের উদ্ধারকারী দল জানায়, সর্বশেষ অনুসন্ধানে আর কোনো জীবিত মানুষের সন্ধান না পাওয়ায় তারা অভিযান সম্পন্ন করছে। একইভাবে ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়ার উদ্ধারকারী দলও দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে অনেক ভেনেজুয়েলাবাসী অভিযোগ করেছেন, দুর্যোগের পর সরকারের তৎপরতা ছিল ধীরগতির। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই পরিবারগুলো নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছে।

তবে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, হাজার হাজার সেনাসদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল। লা গুয়াইরায় শনিবার ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধসে পড়া ভবন অপসারণ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, অনেক পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে দাফনের চেষ্টা করে চলেছে। স্বেচ্ছাসেবী ফ্রান্সিসকো সাসকিয়া বলেন, ‘আমরা এখনও মরদেহ খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কাজটি ভীষণ কঠিন। আজ আমরা দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছি, যা তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন: লাস ভেগাসে যাওয়ার অভিযোগে চার সন্তানকে একা রেখে ফের গ্রেপ্তার মা

ভূমিকম্পে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর হারিয়েছেন। হাসপাতালগুলোও রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ এম


চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর মৃত্যু

চট্টগ্রামের সাগরপাড়ে বন্দর থানার দুমপাড়া এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনা শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে ঘটে।

নিহতদের একজনের নাম বরিশালের আসাদুল ইসলাম (৫০)। তিনি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ফাউন্ডেশনে চাকুরি করতেন। অপরজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম জানান, দুর্ঘটনায় দুজনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারিয়েছে। আমরা তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছি। রাত সাড়ে ১২টায় চমেক হাসপাতালের সামনে আসাদুল ইসলামের ছেলেসহ অন্যান্য স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বরাতে কাওসার দাবি করেন, একটি লরি আসাদুলের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে তারা রাস্তায় পড়ে যান। এরপর একটি পেছনের লরি এসে তাদের পিষ্ট করে যায়। লরি দুটি ছিল ওভারটেক করার প্রতিযোগিতায়। লরির চালকটি বলে জানা যায়, কম বয়সী ছিলেন।

বন্দর থানার ওসি আব্দুর রহিম জানান, দুর্ঘটনার সময় দুজনই একটি মোটরসাইকেলে ছিলেন। তিনি জানান, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির শোকানুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনেও দাবদাহ উপেক্ষা করে ইরানিদের শ্রদ্ধা নিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ এম


খামেনির শোকানুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনেও দাবদাহ উপেক্ষা করে ইরানিদের শ্রদ্ধা নিবেদন

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় লাখো শোকাহত মানুষের ঢল নেমেছে।

তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহ সত্ত্বেও আজ রোববার (৫ জুলাই) ভোর থেকেই নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

আয়তুল্লাহ আলি খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানের গ্রান্ড মোসাল্লার সামনে শোকাহত ইরানিরা। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে শোকাহত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে মোসাল্লা প্রাঙ্গজুড়ে পানি ছিটানোর মিস্টার স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া, হাজারো স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত মানুষের মধ্যে ঠান্ডা পানি, শরবত ও অন্যান্য পানীয় বিতরণ করছেন। চিকিৎসা সহায়তার জন্য মোবাইল মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে তেহরানজুড়ে আজও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা তল্লাশির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকেই খামেনির প্রতিকৃতি, ইরানের জাতীয় পতাকা এবং ধর্মীয় পতাকা বহন করছেন। বিভিন্ন সময়ে উপস্থিত জনতা স্লোগান দিচ্ছেন এবং দেশটির নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে দেখা যায়, মরদেহবাহী কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াত করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম দিন নিহত হন ৮৬ বছর বয়সি খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। ওই সময় তিনি তেহরানে তার আবাসিক ভবনে ছিলেন।

গত মার্চে খামেনির দাফন হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধবিরতির অবসরে চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সাত দিন ধরে চলবে যা গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতেই খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্রান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে আনা হয়।

শুক্রবার (৪ জুলাই) ভোর থেকে গ্র্যান্ড মোসাল্লার সামনে ঢল নামে মানুষের। খামেনির প্রতি শোক ও শেষশ্রদ্ধা জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হন ইরানিরা।

দিনভর শ্রদ্ধা জানান প্রিয় নেতার প্রতি।

এদিন গ্রান্ড মোসাল্লায় শায়িত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতারা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা এবং ইরানের মিত্রদের পরিবারও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। তবে এবার ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানায়নি তেহরান।

এদিকে খামেনির স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ না নিতে অন্তত ১৩টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করেছিল বলে খবর প্রকাশ করেছে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন চাপের মুখে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, উপসাগরীয় অঞ্চল ও পূর্ব এশিয়ার অন্তত ১৩টি দেশ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্মরণানুষ্ঠানে অংশ নেয়নি।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

আরও পড়ুন: খামেনির শেষ বিদায়: ধারাবাহিকতা ও প্রতিশোধের বার্তা প্রচার ইরানের।

মূলত তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য দুই দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এ সময় সর্বস্তরের মানুষ খামেনি ও তার পরিবারের প্রয়াত কয়েকজন সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

ইরান কর্তৃপক্ষ বলছে, সাড়ে তিন দশক ধরে ইরানের শাসনক্ষমতায় থাকা খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার (৬ জুলাই) খামেনির শোকযাত্রা ইরানের দক্ষিণে কোম নগরীর উদ্দেশে যাত্রা করবে। এরপর ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালা হয়ে শেষ গন্তব্য হবে মাশহাদ।

শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমামের মাজার এবং খামেনির জন্মস্থান হওয়ায় সেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে ইরান।

ইরান কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৯৮৯ সালে খামেনির পূর্বসূরি ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর ইরানে এটাই সবচেয়ে বড় জনসমাগম হতে চলেছে।

খোমেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কোটি কোটি মানুষ অংশ নিলেও নিরাপত্তার কারণে বাবার শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না ছেলে মোজতবা খামেনি।

সম্প্রতি তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসরাইল।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে হত্যা মামলায় এনসিপি নেতা গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০২ এম


নারায়ণগঞ্জে হত্যা মামলায় এনসিপি নেতা গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে হোসিয়ারি শিল্পের শ্রমিক আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় প্রধান আসামি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা শোয়াইব রহমান সোহেবসহ আরো একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বন্দর উপজেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা শোয়াইব রহমান সোহেব (৪২)। তিনি বন্দর উপজেলার সালেহনগর এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে, অপর আসামি হলেন বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার বশিরের ছেলে মো. সুমন (৩৮)।

শনিবার দুপুরে র‌্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নাঈম উল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের গ্রেফতারের তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্দর থানার সালেহনগর এলাকায় একটি অটোরিকশার গ্যারেজে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শোয়াইব রহমানের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। আলমগীর হোসেন ওই সালিশ বৈঠকে আসতে দেরি করায় তাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে আসেন অভিযুক্ত ফরহাদসহ কয়েকজন। বৈঠকে আলমগীর ও তার ছেলে মুন্না, যিনি মামলার আরেক আসামি মো. জুয়েলের কাছে পাওনা টাকা চাইতে থাকেন। তবে জুয়েল টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এরপর একপর্যায়ে আলমগীরকে মারধর শুরু করেন জুয়েল। পরে তাঁকে গ্যারেজের বাইরে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৪ অক্টোবর সকালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

হতাহত আলমগীর হোসেন বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার মৃত সোহবান মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তাঁর বোন কল্পনা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যার মামলা করেন। সেই মামলায় এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামি হিসেবে শোয়াইব রহমান সোহেবকে এবং ১০ নম্বর আসামি হিসেবে মো. সুমনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, মামলার আসামিদের গ্রেফতারে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শোয়াইব রহমান এবং তার সহযোগী সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। আজ সকালে তাঁদের বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোয়াইব রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু শেষে ওই আসনে এনসিপির কেউ মনোনয়ন পাননি, যেহেতু জোটসঙ্গী খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. শওকত আলী জানান, ‘শোয়াইব রহমান বর্তমানে আমাদের দলের কোনও কমিটিতে নেই। নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির কমিটি হওয়ার সময় তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে বিতর্কিত হওয়ায় তাকে কমিটিতে রাখা হয়নি। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ বিদ্যমান। বন্দর উপজেলা এনসিপির পূর্ববর্তী কমিটি কে বা কারা তৈরি করেছিল, তা আমার জানা নেই। তদ্ব্যতীত সময়ে এনসিপির সমন্বয়কারী কমিটিতে ছিলেন শোয়াইব। পরে তাঁকে আর কোন কমিটিতেও রাখা হয়নি। গত ছয় মাস ধরে এনসিপির কোনও কর্মকাণ্ডে তাঁকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি।’

এনসিপি থেকে মনোনয়নপত্র পাওয়ার ব্যাপারে তিনি উল্লেখ করেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কেউ এনসিপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। এর ধারাবাহিকতায় শোয়াইবও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি আহত জুলাইযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে শোয়াইব মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল। তবে তিনি নির্বাচন করেননি।’

তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হত্যা মামলায় তার গ্রেফতারের বিষয়ে আমি জেনেছি। তিনি বর্তমানে দলের কেউ নন এবং আমাদের কোনো কমিটিতেও নেই। ফলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কিছু নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বটবাহিনী দেশের জন্য বড় হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ এম


বটবাহিনী দেশের জন্য বড় হুমকি

বাংলাদেশের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী? এর উত্তরে অনেকেই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করতে বলবেন, কেউবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলবেন। কিন্তু আমাদের সকলের অলক্ষ্যে বর্তমানে একটি নতুন হুমকি দানা বাঁধছে। আমরা এই নতুন হুমকির বিষয়টি অনুভব করছি প্রতিটি মুহূর্তে। এই নতুন আপদ আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ এবং পারিবারিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে, অথচ আমরা এ সংকট থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা মনে করছি, এটি আমাদের নিয়তি হয়ে গেছে। এই নতুন হুমকির মূল বিষয় হল সোশ্যাল মিডিয়ায় বটবাহিনীর সক্রিয়তা। ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা কারণে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এই ডিজিটাল দুনিয়া এখন শুধুমাত্র মতপ্রকাশের ক্ষেত্রই নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, জনমত নির্মাণ, বাণিজ্যযুদ্ধ এবং এমনকি চরিত্রহননের এক নতুন ক্ষেত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। সম্প্রতি, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ দাবি করেছেন, দেশের সাইবার জগতের মোট ট্রাফিকের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বট বা কৃত্রিম কার্যকলাপের দ্বারা সংকলিত। তিনি বলেন, এ বাস্তবতা না বুঝে সাইবার বুলিং বা অনলাইন প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থেকে যায়। সাম্প্রতিক সময়ের অনলাইন ট্রাফিক বিশ্লেষণের তথ্যে দেখা যায়, অনলাইনে মন্তব্য, প্রতিক্রিয়া এবং ইন্টারঅ্যাকশনের বড় অংশই প্রকৃত ব্যবহারকারীর নয়। অর্গানিক বনাম নন-অর্গানিক ট্রাফিক আলাদা করে চিহ্নিত করতে না পারলে সমস্যা মূল জায়গা চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমানে, এ বটবাহিনী এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে, তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আক্রমণ হচ্ছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এবং ভালো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভুয়া জনমত তৈরি করছে। যেকোনো স্বনামধন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মিথ্যা অপপ্রচার করে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং নারীদের অবমাননা করে তাদের জীবন বিপন্ন করছে। এরা সংখ্যা খুব বেশি নয়, কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে তারা নিজেদের পক্ষে একটা বায়বীয় অনুগত বাহিনী তৈরি করেছে, যা জনগণ নয় বরং বট বা রোবট। বট আসলে কী? বট কথাটি এসেছে রোবট থেকে। এটি মূলত একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম, যা ইন্টারনেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের মতো আচরণ করার জন্য তৈরি করা হয়। যখন কয়েক হাজার বা লক্ষাধিক ভুয়া প্রোফাইলকে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে বলা হয় বট আর্মি বা বটবাহিনী। যেমন, নির্দিষ্ট কাউকে গালি দেওয়া, প্রোপাগান্ডা ছড়ানো বা কারো প্রশংসা করা। এরা মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হল অটোমেটেড এবং অপরটি হল হিউম্যান ট্রল আর্মি। অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় প্রকারের বটগুলো হলো সম্পূর্ণ কম্পিউটারচালিত। যখনই তারা নির্দিষ্ট যে কোনো কি-ওয়ার্ড দেখবে, তখনই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মন্তব্য করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা দেশের নাম লিখে পোস্ট করেন, তাহলে প্রোগ্রাম করা বটগুলো সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে আগে থেকে সেট করা মন্তব্য পেস্ট করে দেবে। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে যুক্ত বটগুলো আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। তারা কেবল কপি-পেস্ট নয়, বরং মানুষের মতো করে এসে প্রাসঙ্গিক এবং আলাদা আলাদা মন্তব্য লিখতেও সক্ষম। অপরদিকে, হিউম্যান ট্রল আর্মি আসলে মানুষ, কিন্তু তারা ভুয়া আইডি ব্যবহার করে। এদের টাকা দিয়ে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিয়োগ করা হয়ে থাকে। একেকজন মানুষ ১০-২০টি আইডি নিয়ন্ত্রণ করে। যখন নির্দেশ পেয়ে যায়, তখন তারা নির্দিষ্ট লিংকে গিয়ে দল বেঁধে আক্রমণে লিপ্ত হয়। প্রযুক্তিগতভাবে এরা বট না হলেও সাধারণ মানুষের কাছে এরা বটবাহিনী নামেই অধিক পরিচিত। এই বটবাহিনী সাধারণত তিনটি কৌশলে কাজ করে। প্রথমত, যেকোনো একটি ঘটনা ঘটার পর জনমত কোন দিকে যাবে, তা এরা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। শত শত পজিটিভ বা নেগেটিভ মন্তব্য করে সাধারণ মানুষের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। দ্বিতীয়ত, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করতে এদের লেলিয়ে দেওয়া হয়। যখন হাজার হাজার ভুয়া আইডি থেকে একই ভাষায় গালি বা অপবাদ দেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষ সেটিকে সত্যি বলে মনে করে। তৃতীয়ত, কোনো পেজ বা আইডি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য এরা একসঙ্গে হাজার হাজার রিপোর্ট করে। ফলে ফেসবুক বা অন্য মাধ্যমের অ্যালগরিদম বিভ্রান্ত হয়ে গিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইডিটি ব্লক করে দেয়। মেটা বা ফেসবুকের ভাষায় এ ধরনের কাজকে কোঅর্ডিনেটেড ইনঅথেনটিক বিহেভিয়ার বলা হয়। তাহলে কীভাবে বট চেনা যায়? বট শনাক্ত করার কিছু পেশাদার উপায় রয়েছে। যেমন, কোনো নিউজ বা পোস্ট যখন পাবলিশ হওয়ার মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে যদি ১০০ বা তার বেশি মন্তব্য চলে আসে, তবে যেনে নেওয়া যায় যে এটি বটের কাজ। কেননা একজন রক্তমাংসের মানুষের পক্ষে এত দ্রুত পড়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। আবার ১০-১৫ জন আলাদা মানুষের মন্তব্য যদি হুবহু একই রকম থাকে, তখন বুঝতে হবে তা বটের কাজ। এর বাইরে, বটদেও আইডিতে সাধারণত কোনো ব্যক্তিগত জীবন বা আসল পরিচয় থাকে না। প্রোফাইল পিকচার হয়ে থাকে কোনো সেলিব্রিটির ছবি, ফুল অথবা পাখির ছবি। টাইমলাইনে নিজের কোনো পোস্টের পরিবর্তে কেবল শেয়ার করা পোস্ট থাকে এবং আইডির ফলোয়ার বা ফ্রেন্ডলিস্টে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। দেশের জন্য হুমকি- বটবাহিনী গণতন্ত্রের জন্য বর্তমানে বড় হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। তারা সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রচার করতে সক্ষম। সরকারের কোনো ভালো সিদ্ধান্ত তারা পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করতে পারে। সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির উক্তি তারা বিকৃত করে প্রচার করে জনগণের কাছে তার মর্যাদা হত্যার চেষ্টা করতে পারে। কোনো রাজনৈতিক ঘটনা, আন্দোলন বা সংবেদনশীল সংবাদ প্রকাশের পর মুহূর্তেই হাজার হাজার অভিন্ন মন্তব্য, একই ধরনের ভাষা ও একই সুরের প্রচারণা দেখা যায়। এতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনেকেই মনে করেন, যেন পুরো সমাজ একটি নির্দিষ্ট মতের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে। অথচ বাস্তবে এ জনমতের ঢেউয়ের একটি বড় অংশই কৃত্রিম সেটি। বিশেষ কাউকে বা প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করার জন্য এদের লেলিয়ে দেওয়া হয়। যখন হাজার হাজার ভুয়া আইডি থেকে একই ভাষায় গালিগালাজ বা অপবাদ দেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষ অনেক সময় বিভ্রান্ত হয়ে সেটিকে সত্যি মনে করে। এটি অনেক সময় ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার বা তথ্যযুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। আমাদের সমাজে ডিজিটাল মিডিয়া লিটারেসি বা তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি এখনো দুর্বল কারণে বটনির্ভর প্রচারণা খুব সহজেই মানুষের আবেগ, রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সামাজিক বিভাজনকে প্রভাবিত করতে পারে। এই বটবাহিনীর উল্লেখযোগ্য শক্তি কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং মানুষের মনস্তত্ত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন শত শত অভিন্ন মন্তব্য দেখা যায়, তখন সাধারণ ব্যবহারকারীর মনে এমন ধারণা তৈরি হয় যে এটি হয়তো সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘ব্যান্ডওয়াগন ইফেক্ট’। রাজনৈতিক যোগাযোগের ভাষায় এর নাম ‘অ্যাস্ট্রোটার্ফিং’; অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে এমন পরিবেশ তৈরি করা, যাতে মনে হয় এটি স্বতঃস্ফূর্ত জনমত। প্রকৃতপক্ষে, এটি একধরনের ডিজিটাল প্রতারণা। এমনকি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মব তৈরির আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে তাকে বিতর্কিত বা হত্যাযোগ্য করার কাজটিও বটের মাধ্যমে করা হয়। বাংলাদেশের বটবাহিনীর দাপট- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই কৌশল বর্তমানে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে ডিপফেক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট উৎপন্ন করা হচ্ছে, পরে সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বট ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সত্য ও মিথ্যার সীমারেখা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ধীরে ধীরে এমন এক জায়গায় পরিণত হচ্ছে, যেখানে তথ্যের চেয়ে প্রোপাগান্ডা অধিক প্রভাবশালী। এই বট সংস্কৃতি সমাজে বিষাক্ততা বাড়াচ্ছে, মতপ্রকাশের পরিবেশ সংকুচিত করছে এবং তথ্যের প্রতি মানুষের আস্থা ধ্বংস করছে। গণতন্ত্র শুধুমাত্র ভোটের ওপর দাঁড়িয়ে নেই; এটি দাঁড়িয়ে আছে মুক্ত মতপ্রকাশ, সত্য তথ্য এবং সচেতন নাগরিকের ওপর। হরতাল, সহিংসতা বা প্রতিপক্ষের কণ্ঠরোধ যেভাবে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, ঠিক একইভাবে কৃত্রিম জনমত তৈরির এই ডিজিটাল সংস্কৃতিও সমান বিপজ্জনক। কারণ এটি মানুষের স্বাধীন চিন্তাশক্তিকে প্রভাবিত করে এবং বিভ্রান্তিকে সত্যের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। এই সংকট মোকাবেলার জন্য কয়েকটি একটি পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, মেটা, গুগলসহ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বাংলা ভাষা ও স্থানীয় বাস্তবতায় বোঝার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের জন্য এখনই মেটা, গুগলসহ সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। তারা যেন বাংলাদেশে অফিস কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংঘবদ্ধ ডিজিটাল অপপ্রচার ও ট্রল ফার্মের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অবিলম্বে এই আইনগুলো প্রণয়ন করা দরকার। এরপরেও যদি এই ব্যবস্থা করা না হয়, তবে দেশের গণতন্ত্র ক্ষতির শিকার হবে। জনমত প্রতিষ্ঠার পন্থাগুলো বাধাগ্রস্ত হলে আইন ও বিচার খুবই দুর্বল হয়ে পড়বে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, ডিজিটাল মিডিয়া লিটারেসি। দেশের স্কুল ও কলেজগুলোতে থেকেই তথ্য যাচাই, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণের শিক্ষা দিতে হবে। সরকারকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, দেশের জনগণের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে, নাকি বটবাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে তথ্য অধিকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%