১০:০৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তার প্রভাবের পর অবশেষে লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ।
এই দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুক্রবার (১৯ জুন) থেকেই কার্যকর হয়ে উঠেছে। মার্কিন কর্তাদের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত ইরান-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক মেনে নিতে ইসরায়েল সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স কড়া বার্তা প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য মিত্র এখন যুক্তরাষ্ট্রই। ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের প্রভাবে ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য হয়।
আরও পড়ুন: আগামী চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কার্ড দেবে সরকার
লেবাননের স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে মার্কিন ওই কর্মকর্তা যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই সময় থেকেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, দিনের শুরুতে উভয় পক্ষ তীব্র সংঘর্ষে জড়ালেও পরে তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মতিতে একমত হন। যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সহযোগিতায় এই সমঝোতায় পৌঁছান।
তবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকরণের ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত অর্থাৎ বৃহস্পতিবার(১৮ জুন) রাতভর লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলার কারণে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। আলোচনা স্থগিত হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। তারা এই ঘটনাকে চলমান যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে। অবশ্য ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট লোকদের লক্ষ্য করে এই হামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই সময়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্মুখ সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ইসরায়েলের চার সেনাও। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তিতে সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধের কথা বলার পরপরই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটল।
হিজবুল্লাহর একজন ঊর্ধ্বতন আইনপ্রণেতা এই বিষয় সম্পর্কে জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আর কোনো আলোচনা সম্ভব নয় এমন কথা ইরান পরিষ্কার জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই বৈঠকের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী। তেহরান নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: এডেন বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত বেসামরিক নাগরিক
এদিকে, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আপাতত ‘স্থগিত’ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে তারা জানান, ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ অব্যাহত রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এই আলোচনা মূলত দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলেছিল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার বিষয় ছিল। ১৪ দফার এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, দেশটির পুনর্গঠনে বিশেষ তহবিল গঠন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, নানা বিষয়ে ‘ভিন্ন মত’ থাকার সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বেপরোয়া হয়ে সব ধরনের চাপ প্রয়োগ করার’ কারণেই প্রধানত এটি ঘটছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন, ভবিষ্যতে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘সরাসরি আলোচনা’ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই আলোচনা মানে যে ‘শত্রুর অবস্থান’ মেনে নেওয়া নয়, তা-ও তিনি পরিষ্কার করেন।
আরও পড়ুন: লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইক ২০২৬-এ বাংলাদেশের রাকিব হাসানের উপস্থিতি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন