০২:০২ এম
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরাইলি সমালোচকদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই ইসরাইলের একমাত্র মিত্র। এই কঠোর মন্তব্যে ইসরাইলের বিলিয়ন ডলারের মার্কিন প্রতিরক্ষা সহায়তা পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ভ্যান্স এই সপ্তাহে ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ করার জন্য যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমালোচকরা এই চুক্তির তীব্র নিন্দা করেছেন। কারণ, এটা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার কোনো সুস্পষ্ট পথ দেখায়নি। বরং, এটি লেবাননে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধে বাধা সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প তাঁর দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরাইলের বারবার সমালোচনা করেছেন, যা উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় চার মাস আগে দুই দেশ ইরানের ওপর হামলা চালানোর জন্য জোটবদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধের ফলে বাজার এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহে একটি অস্থিরতা দেখা দেয়। কারণ, তেহরান এর জবাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর সরবরাহ পথটি বন্ধ করে।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতে পারে ১০ আসন
এদিকে, হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তিটি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে, ভ্যান্স বলেন, তিনি নেতানিয়াহুর কাছ থেকে এমন কোনো মন্তব্য শোনেননি। তবে তিনি ইসরাইলি নেতার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, তারা দলিলটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে আক্রমণ করেছেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ভ্যান্স জানিয়েছেন, ‘তাদের প্রতি আমার বার্তা হলো, ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পই এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতিশীল।’
এছাড়া, ভ্যান্স বলেছেন, ‘আমি যদি ইসরাইলি সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তাহলে হয়তো সারা বিশ্বে আমার অবশিষ্ট একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের ওপর আক্রমণ করতাম না।’ ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ওই মন্ত্রিসভার সদস্যদের এ কথাও মনে করিয়ে দেবেন যে, ইসরাইলকে সুরক্ষিত রাখা দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র আমেরিকানদের হাতে তৈরি এবং আমেরিকান করদাতাদের টাকায় পরিশোধিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরাইলকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়। তবে দুই দেশ একটি নতুন সহায়তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।
ভ্যান্স আরও বলেন, ইসরাইলের সমস্যা ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প নয়। যদি ইসরাইলের যে কেউ মনে করেন, তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, তবে তাদের জেগে ওঠা উচিত এবং দেশটির বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতা উপলব্ধি করা উচিত।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি
এদিকে, নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরাইলি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, চুক্তির শর্তগুলো ইসরাইলের জন্য ক্ষতিকর ছিল। কারণ, এতে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের সমাধান করা হয়নি। তারা আরও যোগ করেন, ইসরাইলের নেতৃত্বের মধ্যেও এই একই মত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন