০২:২৭ পি.এম
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) ওই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ইন্ডিয়া টুডে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য সম্প্রতি ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন তৈরি করেছে চীন। পাকিস্তান নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সেই সাবমেরিনটিকে কমিশন (আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি) করেছে। সাবমেরিনটি নিয়ে আসার জন্য পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি বহর চীনে গিয়ে কমোডর ওমর ফারুকের নেতৃত্বে সেই সাবমেরিনটি নিয়ে এসেছেন। ফিরে আসার পথে তিনি শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রাবিরতি দেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওমর ফারুক জানান, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তার আরও বক্তব্য হলো, পিএনএস হ্যাঙ্গর সিরিজের আরও ৭টি সাবমেরিন শিগগিরই পাকিস্তানি নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই সিরিজের সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি বজায় রাখবে।
উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালের আগে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিন মোতায়েন ছিল। সে সাবমেরিনের নামও ছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। তবে সে যুদ্ধে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজয়ের পর পাকিস্তান বঙ্গোপসাগর ছেড়ে চলে যায়। এতদিন তারা মূলত উত্তর আরব সাগরের এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।
অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবে ভারতীয় ভূ-রাজনৈতিক এবং কৌশলগত সুবিধার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের অবস্থান এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে বঙ্গোপসাগর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই বিস্তৃত জলরাশির উপকূলবর্তী রাষ্ট্র হলো ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য নৌ শক্তির উত্থানের মধ্যে এই রাষ্ট্রগুলোর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। এ কারণেই শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তান নৌবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মন্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
শ্রীলঙ্কার দ্য মর্নিংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ফারুক পিএনএস হ্যাঙ্গরকে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তান এই শ্রেণির আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন