ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারে নেপথ্যে কারা, উঠছে প্রশ্ন


কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারে নেপথ্যে কারা, উঠছে প্রশ্ন

নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালীদের সহায়তায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। মাদক, সন্ত্রাস, হত্যা, ছিনতাই এবং আধিপত্য বিস্তারসহ সব ধরনের অপরাধে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

যদিও কিশোর গ্যাং জেলাবাসীর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে তাদের পৃষ্ঠপোষকরা পুলিশের নাগালের বাইরে রয়েছেন। সচেতন মহল অভিযোগ করছেন, ফলে অপরাধ প্রবণতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তবে কিশোর গ্যাং নির্মূলে অভিযানসহ নানা কার্যক্রম চলছে বলে দাবি করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।

প্রায়শই দেখা যাচ্ছে, দিনের বেলায় অস্ত্রের ঝনঝনানি নিয়ে উঁচু বয়সী কিশোররা পাড়া মহল্লায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। তাদের হামলা এবং সংঘর্ষে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন: বরিশালে বিএমপির বিশেষ অভিযান: গাঁজা ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১৭, বিভিন্ন মামলায় আটক ১৪

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাদক বিক্রি, চুরি এবং ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে উঠে আসার উপক্রম করেছে তরুণ কিশোররা। প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের অস্ত্র, যার সাহায্যে কিশোর গ্যাং মহড়া, হামলা, সংঘর্ষ এবং হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, যা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক এবং সাধারণ জনগণ।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে জেলার বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর অপরাধীদের দমন করতে তাদের পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় এনে পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেছেন, বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে কিশোর গ্যাং শব্দটি নেই। আইনের ভাষায় এটি শিশু অপরাধ অথবা শিশু অপরাধী বলা হয়ে থাকে। শিশু অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। মূলত এই অপরাধীদের তৈরি করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তবেই কিশোর অপরাধের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তিনি আরো জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানো দরকার। অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে, আর কেন দেরি করে বাসায় ফিরছে তা নজর রাখা।

আরও পড়ুন: উজিরপুরে ‘গয়েশ্বর’ খ্যাত পলাশ কুন্ডুকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ

এদিকে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত গ্রেফতার অভিযান ও নানা কার্যক্রম চালানোর কথা জানিয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ৫টি কিশোর গ্যাং চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা মামলা করতে প্রস্তুত। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং অভিযানে গ্রেফতারও করছি। পাশাপাশি আমাদের সঙ্গে কমিউনিটি পুলিশও কাজ করছে। সচেতনতা বাড়াতে আমরা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত ওয়ার্কশপ করছি, যাতে তারা সংশোধন হয়ে ভালো জীবনে ফিরে আসতে পারে।’

জেলা পুলিশের তথ্য মতে, গত ছয় মাসে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। র‍্যাবের অভিযানে অন্তত ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন, আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুৃদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৭ পি.এম


বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন,  আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং রাজশাহীকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী সংগঠন, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের আয়োজনে শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজশাহীর আরডিএ পার্কে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারাদেশে চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং রাজশাহীকে আরও সবুজায়নের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আরডিএ। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর পাঁচ হাজার করে পাঁচ বছরে মোট ২৫ হাজার গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক, পার্ক, উন্মুক্ত স্থান ও আরডিএর বিভিন্ন প্রকল্প এলাকায় পর্যায়ক্রমে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করাও হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে এ কর্মসূচির সুফল রাজশাহীবাসী ভোগ করতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় তারা আরডিএ পার্কে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করেছেন। আগেও গাছ রোপন করা হয়েছে এবং এই বার আবারও নতুন উদ্যমে গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হবে না, প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা করা হবে। ভবিষ্যতে এসব গাছের ফল, ফুল ও ছায়া রাজশাহীর মানুষ ভোগ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে চেয়ারম্যান আরো বলেন, নগর উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও আরডিএ সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যার আহ্বান জানান তিনি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, নগরীকে সুন্দরভাবে সাজাতে যা প্রয়োজন, তিনি তা করবেন। কোনভাবেই অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ন করতে দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী সংগঠন রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম হীরক, মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট এনামুল হক এম, রাজশাহী মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান মিলন, মারূফ হোসেন জীবন, শফিকুল ইসলাম শ্যামল, মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, নাইম ইসলাম, মোহাম্মদ তোরাব আলী পারভেজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শরিফুল হাসান পরাগ, মোহাম্মদ আজিম উদ্দিন সোহাগ ও কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম ডলারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিরা আরডিএ পার্কে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং রোপণ করা গাছের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ভারতীয় পুলিশ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্ধমান জেলার রেনেসাঁ হাউজিং এলাকা থেকে শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং স্থানীয় পুলিশের যৌথ গোপন অভিযানে হামিদ মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ দাবি করেছে, হামিদ মণ্ডল জইশ-ই-মোহাম্মদের শাখা সংগঠন ‘হামিল সাজ্জাদ ভাট গ্রুপ’-এর সক্রিয় সদস্য। পুলিশ তার কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর চলাফেরা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন স্পর্শকাতর নথি উদ্ধার করেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী দল জানায়, সকাল সাড়ে আটটার দিকে যৌথ অভিযান চালিয়ে হামিদকে ধরা হয়। তল্লাশির সময় ঘরে আরো একজন ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পুলিশ এখনো পলাতক ব্যক্তিকে ধরা নিয়ে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

তদন্তকারীদের দাবি, হামিদ মণ্ডলের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফরসূচি, নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং ভিআইপি মুভমেন্টসংক্রান্ত গোপন তথ্য এসেছে। এমনকি তিনি জানতেন মুখ্যমন্ত্রী কোন গাড়িতে চলাচল করেন, তার চালক কে এবং গাড়িটি কোথায় পার্ক করা হয়।

পুলিশ সূত্রের খবর অনুসারে, হামিদ পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে কাজ করছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি কাশ্মীরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতেন। আটককৃত ‘হামিল সাজ্জাদ ভাট গ্রুপ’ মূলত চুক্তিভিত্তিক হত্যা ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত।

হামিদ বর্ধমানে আস্তানা গড়ার আগে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং তিনি প্রায় দুই মাস আগে বর্ধমানে গিয়ে গা ঢাকা দেন।

এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। তাই তিনি এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না। শনিবার (১ আগস্ট) এসটিএফ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবে। তবে তিনি এও বলেছেন যে, জইশের নজরদারিতে রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইসহ আরো অনেকেই রয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী ও ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা চন্দ্রনাথ রথ আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন। যার তদন্ত এখনো চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের পক্ষে অবস্থান ইতালির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েনের পক্ষে অবস্থান ইতালির

মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন বিষয়ক বিরোধী দলের সমালোচনা ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই মিশনের কাঠামো সম্পর্কে পার্লামেন্টকে আগে থেকেই বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছিল।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় আত্মরক্ষার্থে সৌদি আরব, কুয়েত এবং বাহরাইনের বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলার সময় সেখানে ইতালীয় বিমান বাহিনীর প্রায় ৪০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই বাহিনীর সঙ্গে চারটি ‘ইউরোফাইটার’ যুদ্ধবিমানও উপস্থিত রয়েছে, যাদের কাজ হলো নির্দিষ্ট আকাশসীমা রক্ষায় সহায়তা প্রদান করা; তবে মন্ত্রণালয় অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেয়নি।

ইতালির মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা সরকারের বিরুদ্ধে এই মিশনের জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মতামত অনুযায়ী, বিদেশে সামরিক অভিযানের জন্য অনুমোদিত এখতিয়ার বা ম্যান্ডেট রয়েছে, যার আওতায় সৌদি আরবের বিষয়টি আসেনি।

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দলের সদস্য ক্রোসেত্তো এই সমালোচনাকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, মিশনের ‘আইনি ও পরিচালনাগত কাঠামো’ অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তিনি একটি বিবৃতিতে বলেন, তথ্যগুলো আগেই সর্বজনীন ও সহজলভ্য ছিল। আসলে বিরোধী দলের যেসব প্রতিনিধি বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করছেন, তারা যদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটটি দেখতেন, তাহলে সঠিক তথ্যটি তারা জানতে পারতেন।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর, তেহরান যখন পাল্টা আক্রমণ চালায়, তখন উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর প্রতি সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছিল মেলোনির সরকার। সরকার জানায়, ওই অঞ্চলের সহযোগী দেশগুলো বিমান-প্রতিরক্ষা ও ড্রোন-প্রতিরোধী সহায়তা চাইছিল।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইতালির সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি এই সপ্তাহে দৈনিক পত্রিকা ‘ইল জিয়োর্নাল’ এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়। সেখানে বলা হয়, ওই এলাকায় ৭০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, মোতায়েন করা সরঞ্জামের যে তালিকা রয়েছে, তাতে আকাশ-প্রতিরক্ষা রাডার এবং ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থার উল্লেখ আছে। কিন্তু এটাও লক্ষ্যণীয় যে, সেখানে ফ্রান্স ও ইতালির যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘সারফেস-টু-এয়ার’ মিসাইল আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কোনও উল্লেখ নেই। এটা স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখযোগ্য, তা সত্ত্বেও যে, ‘ইল জিয়োর্নাল’-এর প্রতিবেদনে এটি সৌদি আরবে পাঠানোর কথা ছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘সারফেস-টু-এয়ার’ ইউনিটগুলো ইউক্রেনে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সিঙ্গাপুরেও রপ্তানি করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে ফ্রান্স সংযুক্ত আরব আমিরাতকে এই ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। গত এপ্রিল মাসে মেলোনি সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন। সংঘাত শুরু হওয়ার পর তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে সফরকারী প্রথম ইউরোপীয় নেতা হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিফায় অস্বস্তি, ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টার পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


ফিফায় অস্বস্তি, ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টার পদত্যাগ

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার ফুটবল সংস্থাগুলোর বিরোধিতার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো।

সাবেক যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কর্দেইরো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা প্রণয়নে তার কোনো ভূমিকা ছিল না এবং তিনি এই প্রস্তাবের সম্পূর্ণ বিরোধী। তার বক্তব্যে, এটি সদস্য দেশগুলোর জন্য, ফুটবলের জন্য এবং দীর্ঘমেয়াদে খেলাটির ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর।

এর আগে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি), উয়েফা ও কনকাকাফও প্রস্তাবটির তীব্র সমালোচনা করে। বিভিন্ন মহলে বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।

কিন্তু সমালোচনার মুখেও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর মতামত নিতে একটি উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরামর্শ প্রক্রিয়া চলবে। ফিফার দাবি, বিশ্বকাপ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই; গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রকাশের কারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

ফিফার প্রস্তাব অনুযায়ী, 'ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' নামে একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবটি যদি অনুমোদিত হয়, তাহলে ২০২৭ সালের শুরুতে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রত্যেকটির এককালীন ২ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়া হবে এবং ২০২৭-৩০ মেয়াদের উন্নয়ন তহবিলও ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে আর্থিক সুবিধার এই প্রস্তাবটিও বিরোধিতা কমাতে পারেনি। উয়েফা ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পরিকল্পনাটি বহাল থাকলে তাদের সদস্য দেশগুলো ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন বলেছেন, বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয় এবং ফুটবলের স্বার্থ কখনোই বিনিয়োগকারীদের মুনাফার কাছে জিম্মি হতে পারে না।

উয়েফার এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কনকাকাফের ৪১টি সদস্য দেশও সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%